সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

বাইবেলের প্রকৃত শিক্ষা বনাম ভুল ব্যাখ্যা / True teachings of the Bible versus misinterpretations.

  আজ আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি , যা প্রতিটি খ্রীষ্ট বিশ্বাসীর জীবন ও ঈশ্বরের মণ্ডলীকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আমরা কথা বলব সেই পবিত্র গ্রন্থ সম্পর্কে , যা শুধুমাত্র একটি বই নয় , বরং জীবন্ত ঈশ্বরের নিশ্বাসিত বাক্য— বাইবেল। পাঠক বন্ধুরা , আপনি কি জানেন , বাইবেলের প্রতিটি শব্দ , প্রতিটি অক্ষর ঈশ্বরের আত্মার দ্বারা নির্দেশিত ? হ্যাঁ , বাইবেলের ৬৬টি বই ঈশ্বরের ঐশ্বরিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনার অমূল্য ভাণ্ডার। এটি একদিকে যেমন অন্ধকারে পথপ্রদর্শক , তেমনি পাপমুক্ত জীবনের জন্য একটি পরিপূর্ণ গাইড। কিন্তু প্রশ্ন হল , আমরা কি সত্যিই বাইবেলের এই বাক্য গুলিকে সঠিকভাবে বুঝ তে বা বোঝাতে পারি ? বর্তমানে , অনেক মণ্ডলীতে একটি ভয়ঙ্কর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাইবেলের প্রকৃত শিক্ষার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নিজের মতামত বা মনগড়া ব্যাখ্যা প্রচারিত হচ্ছে। যার ফলে মণ্ডলী সহ খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের জীবনে আধ্যাত্মিক শিথিলতা নামক কঠিন দুরারোগ্য রোগের   দেখা   দিচ্ছে। আপনি কি ভেবে দেখেছেন কেন এমনটা হচ্ছে ? কারণ একটাই— বাইবেলের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার যোগ্য শিক্ষকের ও...

ঈশ্বরকে ভয় না করার বিষয়ে বাইবেল কি বলে ? What Does The Bible Say About Not Fearing God?

  আপনি কি কখনো ভেবেছেন , ভয় কিভাবে একই সাথে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে ? হ্যাঁ , আপনি ঠিকই শুনেছেন! ভয়ের দুটি রূপ আছে , যা আমাদের জীবনে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ দুই রূপেই আসতে পারে। আজ আমরা জানব , বাইবেলের দৃষ্টিতে এই দুই ধরনের ভয়ের কী তাৎপর্য রয়েছে , এবং এটি কীভাবে আমাদের বিশ্বাস ও আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আপনার মনে হতে পারে , ভয় তো ভয়ই—কিন্তু তার মধ্যে ভালো-মন্দ কি থাকতে পারে ? এখানেই বাইবেলের এক গভীর শিক্ষা লুকিয়ে আছে। বাইবেল আমাদের শেখায় , ভয়ের দুটি রূপ রয়েছে। একটি হল ‘পবিত্র ভয়’ , যা ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাদের জীবনে আশীর্বাদ নিয়ে আসে। আর অন্যটি হল ‘লোক দেখানো ভয়’ , যা আমাদের পতনের কারণ হতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো , এই দুই ধরনের ভয়ের মধ্যে পার্থক্য কী ? কোনটি আমাদের জন্য উপকারী এবং কোনটি ক্ষতিকর ? গীতসংহিতা ১১১:১০ পদে বলা হয়েছে , “ সদাপ্রভুর ভয় প্রজ্ঞার আরম্ভ ; যে কেহ তদনুযায়ী কর্ম করে , সে সদ্বুদ্ধি পায় …” এটি স্পষ্টভাবে বলে দেয় , জীবন্ত ঈশ্বরকে ভয় করা আমাদের জীবনে প্রজ্ঞা এবং আশীর্বাদ বয়ে আনে। আবা...

কেন আজকের খ্রিস্টান সমাজ এত শিথিল / Why is today's Christian community so relaxed ?

  আপনি জানেন কি , বাইবেলে শিথিলতাকে আধ্যাত্মিক মৃত্যুর সাথে তুলনা করা হয়েছে! এটি অত্যন্ত ভয়ানক এক বিষয় । ঈশ্বরের প্রতি আমাদের নিষ্ঠা কি সবসময় অটুট থাকে ? নাকি দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা র চাপে আমরা ধীরে ধীরে তা হারিয়ে ফেলি ? বাইবেলের দৃষ্টিতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা শিথিলতার বিষয়টির মুখোমুখি হই। কেন এই শিথিলতা ? কারণ কি ? পবিত্র বাইবেলে দেখানো হয়েছে ঈশ্বরের প্রতি আমাদের নিষ্ঠা এবং আনুগত্যের পথ সর্বদা সহজ নয়। এই পথে চলার সময় নিঃসন্দেহে অনেক বাধা আসতে পারে, যার মধ্যে একটি হল শিথিলতা। পরোক্ষভাবে বাইবেলে শিথিলতাকে আধ্যাত্মিক অসাবধানতা, শৃঙ্খলার অভাব এবং আধ্যাত্মিক সতর্কতা বজায় না রাখার ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি প্রায়শই আধ্যাত্মিক প্রতিশ্রুতি ধীরে ধীরে পালন না করার প্রবণতা এবং জগতের সাথে আপস করার প্রবণতা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। আধ্যাত্মিকতার দিক থেকে শিথিলতা একটি গুরুতর বিপদ, কারণ এটি আমাদের জীবন্ত ঈশ্বরের সাথে পবিত্র সম্পর্ককে একশো শতাংশ দুর্বল করতে পারে। যখন আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনে উদাসীন হয়ে পড়ি, ঠিক তখনই আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে ...

বাইবেল অনুযায়ী কিভাবে প্রভুর ভোজ প্রস্তুত করতে হয় | পবিত্র বাইবেল ভিত্তিক প্রভুর ভোজ প্রস্তুতি করণ।

  প্রভুর ভোজ যা সরাসরি প্রভু যীশুর নির্দেশ সমগ্র খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের কাছে, তাঁর মৃত্যু কে স্মরণ করবার জন্য। এই বিষয়টি আমরা সুনির্দিষ্ট ভাবে ১ করিন্থীয় ১১ অধ্যায় : ২৩ থেকে ৩০ পদে লক্ষ্য করতে পারি। এছাড়াও প্রথম তিনটি সুসমাচারে সংক্ষিপ্ত ভাবে লেখা রয়েছে, ( সুত্র : মথি ২৬ অধ্যায় : ২৬ থেকে ২৮ পদ ; মার্ক ১৪ অধ্যায় : ২২ থেকে ২৪ পদ ; এবং লূক ২২ অধ্যায় : ১৯ থেকে ২০ পদ। ) আমরা দেখতে পাই যে, যে রাতে প্রভু যীশু রোমীয় সৈন্যদের হাতে সমর্পিত হয়েছিলেন সেই রাত্রিতে তিনি “ রুটি লইলেন,   এবং ধন্যবাদপূর্বক ভাঙ্গিলেন ” যা তাঁর ভগ্ন শরীরে প্রতীক হিসাবে খামিরবিহীন রুটি / তাড়িশূন্য রুটি ব্যবহার করে ছিলেন। তার পরে “পানপাত্রও লইয়া কহিলেন, ‘এই পানপাত্র আমার রক্তের   নূতন নিয়ম; তোমরা যত বার পান করিবে, আমার স্মরণার্থে ইহা করিও’   ” এই পানপাত্রের মধ্যে ছিল দ্রাক্ষারস অর্থাৎ আঙুরের রস   যা প্রভু যীশুর রক্তের প্রতীক হিসাবে আমাদের দেওয়া হয়েছে। এই পৃথিবীতে সকল খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরাই এই পবিত্র ভোজের বিষয়টি জানেন ও বিশ্বাস পূর্বক মানতে চেষ্টা করেন। যদিও বর্তমান সময়ে কোথাও কোথাও এই নিয়মের অবলুপ...

বাইবেল ‘ অভিষিক্ত তেল ’ সম্পর্কে কি বলে | তেল সম্পর্কে বাইবেল কি বলে | What does the Bible say about 'anointing oil'? What does the Bible say about oil?

  ‘ অভিষিক্ত তেল ’ শব্দটি বাইবেলে আনুমানিক ২০ বার উল্লেখ করা হয়েছে। এই অভিষিক্ত তেলকে ইংরাজিতে ‘Anointing Oil ’ বলা হয়। পুরাতন নিয়মে রাজা, মহাযাজক এবং তার বংশধরদের অভিষিক্ত করবার জন্য এবং পবিত্র হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য, পিতা ঈশ্বরের কাছে সাধারনের থেকে পৃথক করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। যা আমরা ( লেবীয় পুস্তক ৮ অধ্যায় : ৩০ পদে ) দেখতে পাই। এই ‘ অভিষিক্ত তেল ’ কে আবার ‘ পবিত্র তেল ’ বলেও বাইবেলে উল্লেখ করা হয়েছে। পিতা ঈশ্বর ইহুদিদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এটি পুনরুত্পাদন করার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। যা আমরা ( যাত্রাপুস্তক ৩০ অধ্যায় : ৩২ থেকে ৩৩ পদে ) দেখতে পাই। এই অভিষিক্ত তেল প্রস্তুত করনের পদ্ধতি সম্পর্কে বাইবেলে যাত্রাপুস্তক ৩০ অধ্যায় : ২৩ থেকে ২৫ পদে দেখতে পাওয়া যায়। এই তেল প্রস্তুতি করনের জন্য যে সকল উপাদান ব্যাবহার করার কথা বলা হয়েছিল তাতে আলাদা ভাবে কোনো অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা ছিল এমন কোনো ইঙ্গিত বাইবেলে পাওয়া যায় না। বরং তেল তৈরির জন্য নির্দেশিকাগুলির কঠোরতা ছিল ইস্রায়েলীয়দের আনুগত্যের পরীক্ষা এবং পিতা ঈশ্বরের পরম পবিত্রতার একটি নিদারুন প্রদর্শন। যা অভিষ...

যীশু খ্রীষ্ট কি খ্রীষ্টান ছিলেন | প্রভু যীশু কেন খ্রীষ্টান ছিলেন |

‘ বাইবেলে খ্রীষ্টান ’ শব্দের অর্থ হল “ প্রভু যীশুর অনুসরণ কারী ”। রোমীয়রা এই খ্রীষ্টান শব্দটি ব্যবহার করতো মূলত প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শিষ্যদের ঘৃণা, উপহাস বা ছোট করবার জন্য। বাইবেল অনুসারে, খ্রীষ্টান হল সেই ব্যক্তি যিনি বিশ্বাস করেন যে, প্রভু যীশু খ্রীষ্ট হলেন ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র, যিনি মানুষকে পাপ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই স্বর্গ ছেড়ে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। আবার এও বলা যেতে পারে খ্রীষ্টান হলেন একজন ব্যক্তি যিনি প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে তার ‘প্রভু’ এবং ‘ত্রাণকর্তা’ হিসাবে বিশ্বাস করেন। যা আমরা ( রোমীয় ১০ অধ্যায় : ৯ থেকে ১০ পদে ) দেখতে পাই। প্রভু যীশু খ্রীষ্ট হলেন খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের ভিত্তি কিন্তু প্রতিষ্ঠাতা নন। ‘ ভিত্তি ’ ও ‘ প্রতিষ্ঠাতা ’ এই দুই শব্দের সংজ্ঞার ভিত্তিতে কখনই বলা যায় না যে প্রভু যীশু একজন ‘ খ্রীষ্টান ’ ছিলেন। আমাদের এটা জেনে রাখা আবশ্যক যে, খ্রীষ্টান কোন ধর্ম নয়; খ্রীষ্টান হল একটা ‘ পথ ’ । যে পথ একজন ব্যক্তিকে পবিত্রতায় জীবন যাপন করতে, সত্যের পথে চলতে, জিবন্ত ঈশ্বর কে ভয় পেতে ও একে অপরকে প্রেম করতে পথ দেখায়। প্রভু যীশু কোন ধর্ম প্রচার করার জন্য এই পৃথিবীতে আসেননি। সমগ্র...

ঈশ্বর কি মন্দতা সৃষ্টি করেছেন | বাইবেলের ও ধর্ম র সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর | Did God create evil ?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে প্রথমেই আমাদের মনে হতে পারে যে, যদি ঈশ্বর সব কিছুই সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত ভাবেই ঈশ্বর ‘ মন্দও ’ সৃষ্টি করেছেন। মন্দ কে কোন ভাবেই কোন কিছুর মধ্যে ভরে রাখা যায় না, কারণ মন্দ কোন বস্তু নয়। মন্দ হল শুধু ভালোর অনুপস্থিতি। সৃষ্টি কালে ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছিলেন তা অতি সুন্দর ও ভালো ছিল। যা আমরা আদি পুস্তক ১ অধ্যায় : ৩১ পদে দেখতে পাই। “ পরে ঈশ্বর তাঁহার সৃষ্ট বস্তু সকলের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলেন, আর দেখ, সকলই অতি উত্তম। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে ষষ্ঠ দিবস হইল ।” আদিতে সৃষ্টির সময় ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছিলেন তার একটি হল মানুষ, যাদের ভালো মন্দ বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল। সুতরাং, ঈশ্বর ভালোকে গ্রহণ করার বা প্রত্যাখ্যান করার ও একই সঙ্গে মন্দকে গ্রহণ করার বা প্রত্যাখ্যান করার অনুমতি দিয়েছিলেন স্বর্গদূত ও মানুষকে। যখন দুটি ভালো জিনিসের মধ্যে একটি খারাপ বিষয় থাকে তখন আমরা তাকে মন্দ বলে থাকি। চলুন একটা সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বিষয় টিকে বোঝার চেষ্টা করি। যদি একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘ ঠান্ডা আছে কি? ’ সম্ভবত উত্তর টি “ হ্যাঁ ” হবে। কিন্তু ...