আজ আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি, যা প্রতিটি খ্রীষ্ট বিশ্বাসীর জীবন ও ঈশ্বরের মণ্ডলীকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আমরা কথা বলব সেই পবিত্র গ্রন্থ সম্পর্কে, যা শুধুমাত্র একটি বই নয়, বরং জীবন্ত ঈশ্বরের নিশ্বাসিত বাক্য— বাইবেল।
পাঠক বন্ধুরা, আপনি কি জানেন, বাইবেলের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর ঈশ্বরের আত্মার দ্বারা নির্দেশিত ? হ্যাঁ, বাইবেলের ৬৬টি বই ঈশ্বরের ঐশ্বরিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনার অমূল্য ভাণ্ডার। এটি একদিকে যেমন অন্ধকারে পথপ্রদর্শক, তেমনি পাপমুক্ত জীবনের জন্য একটি পরিপূর্ণ গাইড। কিন্তু প্রশ্ন হল, আমরা কি সত্যিই বাইবেলের এই বাক্যগুলিকে সঠিকভাবে বুঝতে বা বোঝাতে পারি ?
বর্তমানে, অনেক মণ্ডলীতে একটি ভয়ঙ্কর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাইবেলের
প্রকৃত শিক্ষার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নিজের মতামত বা মনগড়া ব্যাখ্যা প্রচারিত
হচ্ছে। যার ফলে মণ্ডলী সহ খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের
জীবনে আধ্যাত্মিক শিথিলতা নামক কঠিন দুরারোগ্য রোগের দেখা দিচ্ছে। আপনি কি
ভেবে দেখেছেন কেন এমনটা হচ্ছে? কারণ একটাই—
বাইবেলের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার যোগ্য শিক্ষকের ও পালকের অভাব।
বাইবেলে লেখা আছে, “ ঈশ্বর-নিশ্বসিত প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি আবার শিক্ষার, অনুযোগের, সংশোধনের, ধার্মিকতা সম্বন্ধীয় শাসনের নিমিত্ত উপকারী, যেন ঈশ্বরের লোক পরিপক্ব, সমস্ত সৎকর্মের জন্য সুসজ্জিভূত হয়।” ( ২ তীমথিয় ৩:১৬ থেকে ১৭ )। এই বাক্যের নিগূঢ় অর্থ আমাদের হৃদয়ে স্থান দিলে ঈশ্বরের আত্মা আমাদের সত্য বোঝার ক্ষমতা প্রদান করবেন। তবে, এর জন্য প্রয়োজন একটি বিশেষ চাবিকাঠি— যা হল প্রার্থনা।
প্রিয় পাঠক, খ্রীষ্টীয় জীবনে প্রার্থনার গুরুত্ব আমরা কক্ষনো অবহেলা করতে পারি না। ঠিক যেমন শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অস্ত্র
লাগে, তেমনি ঈশ্বরের বাক্যের গভীর অর্থ
বোঝার জন্য প্রার্থনাই হলো একপ্রকারের সেই অস্ত্র। বাইবেলে
লেখা আছে, “ কিন্তু সেই সহায়, পবিত্র আত্মা, যাঁহাকে পিতা আমার নামে
পাঠাইয়া দিবেন, তিনি সকল বিষয়ে তোমাদিগকে শিক্ষা দিবেন, …… ” (যোহন ১৪:২৬)।
তাই নিজের বুদ্ধি ও জ্ঞানের ওপর নির্ভর না করে পবিত্র আত্মার কাছে প্রার্থনা করা
অত্যন্ত জরুরি।
আরও একটি বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি, বাইবেলে এও লেখা আছে, “ যাহারা এই গ্রন্থের ভাববাণীর বচন সকল শুনে, তাহাদের প্রত্যেক জনের কাছে আমি সাক্ষ্য দিয়া বলিতেছি, যদি কেহ ইহার সহিত আর কিছু যোগ করে, তবে ঈশ্বর সেই ব্যক্তিতে এই গ্রন্থে লিখিত আঘাত সকল যোগ করিবেন; আর যদি কেহ এই ভাববাণী-গ্রন্থের বচন হইতে কিছু হরণ করে, তবে ঈশ্বর এই গ্রন্থে লিখিত জীবন-বৃক্ষ হইতে ও পবিত্র নগর হইতে তাহার অংশ হরণ করিবেন।” (প্রকাশিত বাক্য ২২:১৮-১৯)। এ থেকেই স্পষ্ট, বাইবেলের বাক্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।
তাহলে, বন্ধুরা, আমাদের করণীয় কী ?
ঈশ্বরের বাক্য প্রচারের আগে প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে
পথনির্দেশ চাওয়া এবং প্রতিটি শব্দ
গভীরভাবে অধ্যয়ন করা, যাতে ঈশ্বর তাঁর নিশ্বসিত বাক্য
বুঝতে সাহায্য করেন। এই ভাবে সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেক মণ্ডলী সহ বিশ্বাসীদের জীবনকে এই আধ্যাত্মিক শিথিলতা নামক কঠিন দুরারোগ্য রোগের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
.png)
.png)
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন