সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

 নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা,

আমাদের আগের লেখাগুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি, শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ, যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে, শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে

বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আদম ও হবার ঘটনাটি দেখা যেতে পারে। ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। এর ফলাফল কী হলো? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো

এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে, যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন, “যাহারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলে, তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারিবে, এমন নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করে, সেই পারিবে। সেই দিন অনেকে আমাকে বলিবে, হে প্রভু, হে প্রভু, আপনার নামেই আমরা কি ভাববাণী বলি নাই? আপনার নামেই কি ভূত ছাড়াই নাই? আপনার নামেই কি অনেক পরাক্রম-কার্য করি নাই? তখন আমি তাহাদিগকে স্পষ্টই বলিব, আমি কখনও তোমাদিগকে জানি নাই; হে অধর্মাচারীরা, আমার নিকট হইতে দূর হও এই বাক্য থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে কাজ করাই হল প্রকৃত বাধ্যতা। আমাদের কাজ যদি লোক দেখানো হয়, তবে তা ঈশ্বরের চোখে মূল্যহীন

বাইবেলে ফরীশীদের উদাহরণ শিথিলতার আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত। ফরীশীরা বাহ্যিক ধার্মিকতার জন্য পরিচিত ছিল প্রার্থনা, উপবাস, এবং শাস্ত্র মুখস্থ বলার মাধ্যমে। মথি ২৩ অধ্যায় : ২ থেকে পদে প্রভু প্রভু যীশু বলেছিলেন, “অধ্যাপক ও ফরীশীরা মোশির আসনে বসে। অতএব তাহারা তোমাদিগকে যাহা কিছু বলে, তাহা পালন করিও, মানিও, কিন্তু তাহাদের কর্মের মত কর্ম করিও না; কেননা তাহারা বলে, কিন্তু করে না।” অর্থাৎ ফরীশীদের মতো আমাদের জীবনের বাহ্যিক আচরণ এবং অন্তরের সত্যিকারের আনুগত্যের মধ্যে যদি ফাঁক থাকে, তবে সেটাই হবে আত্মিক শিথিলতার প্রামাণ্য উদাহরণ

বাইবেল বারবার আমাদের শেখায়, কেবল শুনলেই চলবে না; ঈশ্বরের বাক্য অনুযায়ী কাজ করতে হবে। যাকোব ১ অধ্যায় : ২২ থেকে ২৫ পদ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা যদি শুধুমাত্র শ্রোতা হই এবং কর্মে বাস্তবায়ন না করি, তবে আমরা নিজেদেরই প্রতারণা করছি

শিথিলতা নামক কঠিন আত্মিক দুরারোগ্য রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিশ্বাসের পুনর্নবীকরণ ঈশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণ প্রভু যীশু বলেছেন, আমি দ্রাক্ষালতা, তোমরা শাখা; যে আমাতে থাকে, এবং যাহাতে আমি থাকি, সেই ব্যক্তি প্রচুর ফলে ফলবান হয়; কেননা আমা ভিন্ন তোমরা কিছুই করিতে পার না। ” যোহন ১৫ অধ্যায় : ৫ থেকে পদআবার হিতোপদেশ ৩ অধ্যায় : ৫ থেকে পদে লেখা আছে,  তুমি সমস্ত চিত্তে সদাপ্রভুতে বিশ্বাস কর; তোমার নিজ বিবেচনায় নির্ভর করিও না; তোমার সমস্ত পথে তাঁহাকে স্বীকার কর; তাহাতে তিনি তোমার পথ সকল সরল করিবেন এই সকল বাক্য গুলি আমাদের দেখায় যে, ঈশ্বরের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ও মণ্ডলীগত জীবনে শিথিলতা নামক কঠিন আত্মিক দুরারোগ্য রোগের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে এবং আমাদের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে


আশা করি এই আলোচনা আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং আত্মিক জীবনে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...