বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ
নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা,
ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল।
এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস, যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর
নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন
থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত, ঈশ্বরের প্রতি
বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ।
বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ )। আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন। এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন।
কিন্তু আমাদের জীবনে, এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও, আমরা দেখতে
পাই অবাধ্যতা, ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস, জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব
তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো, মণ্ডলীগত জীবনে এই সমস্যাগুলোর
উদাহরণ কি বাইবেলে রয়েছে? হ্যাঁ অবশ্যই, রয়েছে। চলুন, বাইবেল থেকে এই উদাহরণগুলো খুঁজে
বারকরে আমরা সেইগুলি পর্যবেক্ষণ করি।
১. মণ্ডলীতে অবাধ্যতার উদাহরণ
গণনাপুস্তক ১৬ অধ্যায় : ১ থেকে ৩ পদে কোরহ এবং তার অনুসারীরা মোশি ও হারুনের নেতৃত্বকে অস্বীকার করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, মোশি একাই নেতৃত্ব নিতে চান। এই অবাধ্যতা ছিল ঈশ্বরের স্থাপিত কর্তৃত্বের প্রতি বিদ্রোহ। কিন্তু তারা এবিষয়ে এতটাই অজ্ঞ ছিল যে, “ঈশ্বরের নিরূপণ ব্যতিরেকে কর্তৃত্ব হয় না; এবং যে সকল কর্তৃপক্ষ আছেন, তাঁহারা ঈশ্বর নিযুক্ত। অতএব যে কেহ কর্তৃত্বের প্রতিরোধী হয়, সে ঈশ্বরের নিয়োগের প্রতিরোধ করে; আর যাহারা প্রতিরোধ করে, তাহারা আপনাদের উপরে বিচারাজ্ঞা প্রাপ্ত হইবে।” রোমীয় ১৩ অধ্যায় : ১ থেকে ২ পদ।
এই ঘটনাটি থেকে আমারা এই শিক্ষাই নিতে পারি যে, মণ্ডলীতে নেতৃত্বের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ্যতা
মণ্ডলীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিরতা তৈরি করে।
২. ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস
গণনাপুস্তক ১৩ অধ্যায় : ২৬ থেকে ৩৩ পদে ইস্রায়েল জাতির কিছু লোক ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি ও ক্ষমতার উপর আস্থা
ও বিশ্বাস রাখতে ব্যর্থ হয়। কনান দেশের লোকদের দেখে তারা ভয় পায় এবং
পুরো মণ্ডলীকে নিরুৎসাহিত করে। এর ফলস্বরূপ, পুরো জাতি
ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস হারায়।
এই ঘটনাটি থেকে আমারা এই শিক্ষাই নিতে পারি যে, মণ্ডলীতে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার উপর অটুট বিশ্বাস থাকা একান্তই জরুরি। অবিশ্বাস মণ্ডলীর ভিতকে দুর্বল করে দেয়।
৩. জাগতিক প্রলোভনের উদাহরণ
প্রেরিত ৫ অধ্যায় : ১ থেকে ১১ পদে অননিয় ও সাফীরা মণ্ডলীতে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করার পর
সেই অর্থ দানের নামে মিথ্যা বলেছিল। যদিও তারা নিজেদের সম্পত্তি
বিক্রি করেছিল, তারা পুরো অর্থ দান না করেও বলেছিল যে তারা
সম্পূর্ণ দান করেছে। এই লোভ এবং মিথ্যাচার তাদের ধ্বংস করে দেয়।
এই ঘটনাটি থেকে আমারা এই শিক্ষাই নিতে পারি যে, জাগতিক প্রলোভন এবং মিথ্যা বলার প্রবণতা মণ্ডলীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে
এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত করে ও মণ্ডলীর আত্মিকতা ধ্বংস করে দেয়।
৪. অহংকারের উদাহরণ
৩ যোহন ১ অধ্যায় : ৯ থেকে ১০ পদে দীমীত্রিয় মণ্ডলীতে নিজের গুরুত্ব আরোপ
করেছিল এবং অন্যদের কথা শুনতে অস্বীকার করেছিল। তার অহংকার চার্চের মধ্যে বিভাজন
সৃষ্টি করেছিল।
এই ঘটনাটি থেকে আমারা এই শিক্ষাই নিতে পারি যে, মণ্ডলীতে অহংকার ঈশ্বরের উদ্দেশ্য এবং ঐক্যকে নষ্ট করে। বিনম্রতা এবং পারস্পরিক সম্মান মণ্ডলীর জন্য অপরিহার্য।
এই সকল উদাহরণগুলো থেকে বোঝা যায় যে, মণ্ডলীতে শৃঙ্খলা এবং
ঐক্য রক্ষা করতে হলে আমাদের প্রত্যেককে ঈশ্বরের প্রতি অবশ্যই
বিশ্বস্ত হতে হবে। অবাধ্যতা, অবিশ্বাস, লোভ এবং অহংকার থেকে মুক্ত না হলে ব্যক্তিগত জীবনে ও মণ্ডলীর মধ্যে আত্মিক শিথিলতার
মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়।
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন