খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan
কল্পনা করুন, এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা? না, এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই ঘটে চলেছে। আজ আমরা জানব, কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন, এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন, কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।
আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা।” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন? কারা এই নির্যাতনের পেছনে? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস, বর্তমান, এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব। বাইবেল বলে “ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে, কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই।” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ। এই বাক্যটি প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নিজের উক্তি, যিনি তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন যে বিশ্বাসের পথে কষ্ট আসবে, কিন্তু তা ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ। এই কষ্টের মাঝে কি আশা নেই? আসুন, আমরা এর গভীরে যাই।
প্রশ্ন: আপনি কি কখনো বিশ্বাসের জন্য বৈষম্যের শিকার হয়েছেন?
প্রথম শতাব্দীর, রোম সাম্রাজ্যের সময় যখন প্রবল ভাবে খ্রীষ্ট ধর্মের বিস্তার শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই যীশু খ্রীষ্টের অনুসারীরা নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। রোম সাম্রাজ্যে সেই সময় খ্রীষ্টানদের ক্রুশে বিদ্ধ করা হতো এছাড়াও হিংশ্র ক্ষুধার্ত সিংহের সামনে ফেলে দেওয়া হতো। কিন্তু কেন? কারণ তারা একটি নতুন বিশ্বাস প্রচার করছিল, যা সম্রাটদের দেবত্বের ধারণাকে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল। আচ্ছা; এই নির্যাতন কি আমরা শুধুই ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই? নাকি, এই ঘটনা আজও প্রবাহমান?
ওপেন ডোর্সের ( Open Doors ) ২০২৪ এর রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ৩৬৫ মিলিয়ন খ্রীষ্টান নির্যাতনের শিকার। কিন্তু এই সংখ্যার পেছনে কি কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে? আসুন, একটি সত্য ঘটনা জানার মাধ্যমে এই রহস্যের গভীরে যাই।
উত্তর কোরিয়া এমন একটি দেশ, যেখানে যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আচরণ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেখানে খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসও একটি অপরাধ। এখানে একজন মহিলা, নাম হানা, নিজ বাড়িতে গোপনে বাইবেল পড়ছিলেন। এক রাতে, তার প্রতিবেশী তাকে ধরে ফেলে এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। হানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরিবারকে শ্রম শিবিরে পাঠানো হয়। হানা আর কখনো ফিরে আসেননি। কিন্তু তিনি কেন এত ঝুঁকি নিয়েছিলেন? তার হৃদয়ে কী ছিল যে তিনি খ্রীষ্টকে অস্বীকার করতে পারেননি? বাইবেল বলে “ অতএব যে কেহ মনুষ্যদের সাক্ষাতে আমাকে স্বীকার করে, আমিও আপন স্বর্গস্থ পিতার সাক্ষাতে তাহাকে স্বীকার করিব।” মথি ১০ অধ্যায় : ৩২ পদ।
এই পদে প্রভু যীশু তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন যে বা যারা তাঁর নামে দাঁড়ায়, তারা ঈশ্বরের সামনে পুরস্কৃত হবে। হানার জীবন প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মুখ নিঃসৃত বাক্যের এক জীবন্ত প্রমাণ। তিনি জানতেন, তার বিশ্বাস তাকে কষ্টের মুখোমুখি করবেই, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর তাকে পরিত্রাণ দেবেন। এই বাক্যটি আমাদের শেখায় যে সত্যের জন্য দাঁড়ানো, এমনকি মৃত্যুর মুখেও, ঈশ্বরের কাছে মূল্যবান। হানার এই ঘটনাটি কি আমাদের মনে প্রশ্ন জাগায় না যে, সত্যের জন্য সবকিছুই ত্যাগ করা যায়? হ্যাঁ; কারণ সেই সত্যই হলেন সেই খ্রীষ্ট যীশু।
ভারতে, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানে সুরক্ষিত, তা সত্তেও খ্রীষ্টানরা নিরাপদ নন। ২০২৩ সালে, উত্তর ভারতের একটি গ্রামে একটি ছোট গির্জায় আক্রমণ করা হয়। গ্রামবাসীরা পাষ্টর রমেশকে মারধর করে এবং গির্জার বাইবেল পুড়িয়ে দেয়। রমেশ সেই সময় সেই স্থান থেকে পালাননি। তিনি পরের রবিবার আবার প্রার্থনা সভা শুরু করেন ওই একই জায়গায়। রমেশের এই ঘটনা শোনার পরে আপনার মনে কি প্রশ্ন জাগে না, কে তাকে এত সাহস জুগিয়ে ছিলেন? বাইবেল বলে “তোমরা জগতের দীপ্তি; পর্বতের উপরে স্থিত নগর গুপ্ত থাকিতে পারে না। আর লোকে প্রদীপ জ্বালিয়া ঢাকনার নিচে রাখে না, কিন্তু দীপাধারের উপরেই রাখে, তাহাতে তাহা গৃহস্থিত সকল লোককে আলো দেয়। তদ্রূপ তোমাদের দীপ্তি মনুষ্যদের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হউক্, যেন তাহারা তোমাদের সৎক্রিয়া দেখিয়া তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার গৌরব করে।” মথি ৫ অধ্যায় : ১৪ থেকে ১৬ পদ। বাইবেলের এই বাক্যের মাধ্যমে প্রভু যীশু আমাদের বলেন, আমরা ঈশ্বরের আলো বহন কারী। পাষ্টর রমেশ এই বাক্যের জীবন্ত উদাহরণ। তিনি জানতেন, তার কাজ শুধু নিজের জন্য নয়, বরং গ্রামের মানুষদের আত্মিক ভাবে বাঁচানর জন্য। এই বাক্যটি আমাদের শেখায় যে নির্যাতনের মাঝেও আমাদের আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে। রমেশের এই ঘটনা কি আমাদের মনে প্রশ্ন জাগায় না? আমরা কি আমাদের আলো জ্বালিয়ে রাখতে প্রস্তুত?
ধর্মীয় স্বাধীনতা কি শুধুই একটি সোনার পাথর বাটী? না কি, এটি বাস্তব? ভারতের সংবিধানের ২৫ নং ধারা যে কোনও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু বাস্তবে, অনেক জায়গায় এই স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছে এবং হচ্ছে। তবুও আশা আছে। খ্রীষ্টীয় সমাজে বিশ্বব্যাপী সংগঠনগুলো, যেমন “ওপেন ডোর্স” বা “ভয়েস অফ দ্য মার্টার্স”, পশ্চিম বাংলাতে “বঙ্গীয় খ্রীষ্টীয় পরিষদ ও Body of Christ” নির্যাতিত খ্রীষ্টানদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এখন প্রশ্ন হল আমার আপনার মতন সংগঠনহীন সাধারন খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসীরা কী করতে পারি?
আমরা নিষ্ঠার সাথে
প্রার্থনা করতে পারি ও খ্রীষ্টীয় সমাজে আধ্যাত্মিক ভাবে ও সংবিধানের
আইনগত রক্ষাকবচ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে
পারি। এবং আমরা বাইবেলের শিক্ষার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছাকাছি পৌছাতে পারি।
.png)
.png)
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন