সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঈশ্বর কি মন্দতা সৃষ্টি করেছেন | বাইবেলের ও ধর্ম র সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর | Did God create evil ?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে প্রথমেই আমাদের মনে হতে পারে যে, যদি ঈশ্বর সব কিছুই সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত ভাবেই ঈশ্বর ‘ মন্দও ’ সৃষ্টি করেছেন। মন্দ কে কোন ভাবেই কোন কিছুর মধ্যে ভরে রাখা যায় না, কারণ মন্দ কোন বস্তু নয়। মন্দ হল শুধু ভালোর অনুপস্থিতি। সৃষ্টি কালে ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছিলেন তা অতি সুন্দর ও ভালো ছিল। যা আমরা আদি পুস্তক ১ অধ্যায় : ৩১ পদে দেখতে পাই। “পরে ঈশ্বর তাঁহার সৃষ্ট বস্তু সকলের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলেন, আর দেখ, সকলই অতি উত্তম। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে ষষ্ঠ দিবস হইল।”

আদিতে সৃষ্টির সময় ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছিলেন তার একটি হল মানুষ, যাদের ভালো মন্দ বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল। সুতরাং, ঈশ্বর ভালোকে গ্রহণ করার বা প্রত্যাখ্যান করার ও একই সঙ্গে মন্দকে গ্রহণ করার বা প্রত্যাখ্যান করার অনুমতি দিয়েছিলেন স্বর্গদূত ও মানুষকে। যখন দুটি ভালো জিনিসের মধ্যে একটি খারাপ বিষয় থাকে তখন আমরা তাকে মন্দ বলে থাকি।

চলুন একটা সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়


টিকে বোঝার চেষ্টা করি। যদি একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘ ঠান্ডা আছে কি? ’ সম্ভবত উত্তর টি “ হ্যাঁ ” হবে। কিন্তু এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল উত্তর। কারণ ঠান্ডার কোন অস্তিত্ব নেই। ঠান্ডা হল তাপের অনুপস্থিতি। ঠিক একইভাবে, অন্ধকারের অস্তিত্ব নেই; অন্ধকার হল আলোর অনুপস্থিতি; যেমন মন্দ হল ভালোর অনুপস্থিতি। আবার এও বলা যেতে পারে যে, মন্দ হল ঈশ্বরের অনুপস্থিতি।

ঈশ্বর মন্দতা সৃষ্টি করেননি, কিন্তু তিনি মন্দকে অনুমতি দেন। যদি ঈশ্বর স্বর্গদূত ও মানুষ কে স্বাধীন স্বত্তা না দিতেন, তাহলে স্বর্গদূত ও মানুষ উভয়েই ঈশ্বরের সেবা করত বাধ্যবাধকতার জন্য। কারণ স্বর্গদূত ও মানুষের কাছে অন্য কোন কিছু বেছে নেওয়ার বিকল্পই নেই। ঈশ্বর মানুষকে কখনোই “ রোবট ” তৈরি করতে চাননি; যারা তাঁর “ প্রোগ্রামিং ” এর কারণে তাঁর ইচ্ছামত কাজ করবে। শাস্ত্রে লেখা আছে, “ পরে ঈশ্বর আপনার প্রতিমূর্তিতে মনুষ্যকে সৃষ্টি করিলেন; ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তাহাকে সৃষ্টি করিলেন, পুরুষ ও স্ত্রী করিয়া তাহাদিগকে সৃষ্টি করিলেন।” ( আদি পুস্তক ১ অধ্যায় : ২৭ পদ )। ঈশ্বর মন্দের পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করে ছিলেন যাতে তারা ‘আত্মিক মৃত্যুর ফাঁদে’ পা না দেয়। অথচ ঈশ্বর একই সঙ্গে আদম কে ভালো ও মন্দকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করেননি। অর্থাৎ ঈশ্বর আদমকে ভালো ও মন্দতাকে বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।


আমরা ঈশ্বরের সৃষ্টি, সৃষ্টি কখনোই সৃষ্টি কর্তাকে সম্পূর্ণ ভাবে বুঝতে পারে না। ( রোমীয় ১১ অধ্যায় : ৩৩ থেকে ৩৪ পদ ) আমাদের বলে “ আহা, ঈশ্বরের প্রজ্ঞার ঐশ্বর্য ও জ্ঞান কত গভীর ! তাঁর বিচারসকল কেমন অন্বেষণের অতীত, তাঁর পথসকল অনুসন্ধান করা যায় না! “ প্রভুর মন কে জানতে পেরেছে ? কিংবা কে তাঁর উপদেষ্টা হয়েছে ?” { বাংলা সমকালীন সংস্করণ }। ঈশ্বর অতি পবিত্র, তিনি অনন্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিন্তা ভাবনা করেন ও দেখেন। যা আমাদের পক্ষে কোন ভাবেই কোন দিনই বোঝা সম্ভব নয়। আমরা একটি পাপপূর্ণ, পার্থিব, এবং অস্থায়ী দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা ভাবনা করি ও দেখি। একটা সাধারণ প্রশ্ন যা আমাদের মনের মধ্যে মাঝে মধ্যেই উঁকি দিতে থাকে; যা হল, আদম ও হবা পাপ করবে এবং এর ফলে সকল মানব জাতির উপরে মন্দ, মৃত্যু এবং দুঃখ কষ্ট আসবে জেনেও ঈশ্বর কেন মানুষকে এই পৃথিবীতে রেখে দিয়েছিলেন ?


বাইবেল সম্মত ও সুনির্দিষ্ট করে এই প্রশ্নটির যথাযথ উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। ঈশ্বরের বাক্য অর্থাৎ বাইবেল থেকে আমরা যা জানতে পারি তা হল ঈশ্বর যা কিছু করেন তা পবিত্র এবং নিখুঁত এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকেই মহিমান্বিত করবে। ঈশ্বর আমাদের তাঁকে সেবা করার ক্ষেত্রে সত্যিকারের বিকল্প দেওয়ার জন্য মন্দের সম্ভাবনা দিয়েছিলেন। ঈশ্বর কখনোই মন্দতা সৃষ্টি করেননি, কিন্তু তিনি এটির অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি যদি মন্দতাকে অনুমতি না দিতেন, তাহলে আমরা নিজের ইচ্ছার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ না হয়ে বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁকে সেবা করতাম।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...