বাইবেল অনুযায়ী কিভাবে প্রভুর ভোজ প্রস্তুত করতে হয় | পবিত্র বাইবেল ভিত্তিক প্রভুর ভোজ প্রস্তুতি করণ।
প্রভুর ভোজ যা সরাসরি প্রভু যীশুর নির্দেশ সমগ্র খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের কাছে, তাঁর মৃত্যু কে স্মরণ করবার জন্য। এই বিষয়টি আমরা সুনির্দিষ্ট ভাবে ১ করিন্থীয় ১১ অধ্যায় : ২৩ থেকে ৩০ পদে লক্ষ্য করতে পারি। এছাড়াও প্রথম তিনটি সুসমাচারে সংক্ষিপ্ত ভাবে লেখা রয়েছে, ( সুত্র : মথি ২৬ অধ্যায় : ২৬ থেকে ২৮ পদ ; মার্ক ১৪ অধ্যায় : ২২ থেকে ২৪ পদ ; এবং লূক ২২ অধ্যায় : ১৯ থেকে ২০ পদ। )
আমরা দেখতে পাই যে, যে রাতে প্রভু যীশু রোমীয় সৈন্যদের হাতে সমর্পিত হয়েছিলেন সেই রাত্রিতে তিনি “ রুটি লইলেন, এবং ধন্যবাদপূর্বক ভাঙ্গিলেন ” যা তাঁর ভগ্ন শরীরে প্রতীক হিসাবে খামিরবিহীন রুটি / তাড়িশূন্য রুটি ব্যবহার করে ছিলেন। তার পরে “পানপাত্রও লইয়া কহিলেন, ‘এই পানপাত্র আমার রক্তের নূতন নিয়ম; তোমরা যত বার পান করিবে, আমার স্মরণার্থে ইহা করিও’ ” এই পানপাত্রের মধ্যে ছিল দ্রাক্ষারস অর্থাৎ আঙুরের রস যা প্রভু যীশুর রক্তের প্রতীক হিসাবে আমাদের দেওয়া হয়েছে। এই পৃথিবীতে সকল খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরাই এই পবিত্র ভোজের বিষয়টি জানেন ও বিশ্বাস পূর্বক মানতে চেষ্টা করেন। যদিও বর্তমান সময়ে কোথাও কোথাও এই নিয়মের অবলুপ্তি ঘটানো হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হল খামিরবিহীন রুটি বা তাড়িশূন্য রুটি কি এবং কিভাবে
সেটা প্রস্তুত করা হয় ?
নতুন নিয়মে খামিরবিহীন রুটি বা তাড়িশূন্য রুটি হল সরলতা ও সত্যশীলতা অর্থাৎ সাধারণ ও পবিত্রতা। ( ১ করিন্থীয় ৫ অধ্যায় : ৭ থেকে ৮ পদ ) যা প্রভু যীশুর জীবন ও চরিত্র কে বর্ণান করে।
এই খামিরবিহীন রুটি অথবা তাড়িশূন্য রুটি বানানোর বাইবেল সম্মত পদ্ধতি হল
ময়দা বা আটা ও তেল ব্যবহার করে বানানো এক রুটি। বাইবেল মতে যার নাম খামিরবিহীন রুটি
অথবা তাড়িশূন্য রুটি। “আর তাড়ীশুন্য রুটি, তৈলমিশ্রিত তাড়ীশুন্য পিষ্টক ও তৈলাক্ত
তাড়ীশুন্য সরুচাকলী গমের ময়দা দ্বারা প্রস্তুত করিবে”( যাত্রাপুস্তক ২৯ অধ্যায় : ২
পদ )।
বর্তমান সময়ে প্রভুর ভোজ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রথম সারির কিছু মন্ডলী সহ অনেক গৃহ মন্ডলীর মধ্যে একটি ধরন লক্ষ্য করা যায়। যেখানে দেখা যায় প্রভুর ভোজ তৈরির পরিবর্তন হয়েছে নিজেদের বানানো যুক্তি ও চিন্তা ভাবনার জন্য। যেমন প্রভু যীশু খ্রীষ্টের দেহ রুপ খামিরবিহীন রুটি অথবা তাড়িশূন্য রুটির পরিবর্তে সাধারণ দোকান থেকে কেনা বনরুটি বা বিস্কুট এবং এর সাথে দ্রাক্ষারসের পরিবর্তে লিকার চা যা কালোচা নামেও পরিচিত অথবা কোন ঠান্ডা পানীয় যেমন Coca-Cola বা Pepsi-র ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়। এখন লক্ষণীয় বিষয়টি হল বনরুটি বা বিস্কুট বানাতে ইস্ট ও চিনির ব্যবহার হয়। ঠিক একই ভাবে Coca-Cola বা Pepsi বানাতে চিনির ব্যবহার সহ অন্যান্য ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ব্যবহারও হয়ে থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যান্ত ক্ষতি কারক।
আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে, প্রভুর ভোজ একটি পবিত্র বিষয়। কারণ প্রভু
যীশু নিজেই অতি পবিত্র ও নিষ্পাপ। তিনি হচ্ছেন এই ভোজ বাড়ির বা ভোজের প্রধান কর্তা।
তাই বাইবেল কে সামনে রেখে কোনোভাবেই তার শরীরকে আমরা অন্য কোন কিছুর মাধ্যমে পরিবর্তন
করতে পারি না। যেমন প্রত্যেক সজীব প্রাণীর নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন,
তাই অক্সিজেনের অনুরূপ কখনই কার্বনডাই অক্সাইড হতে পারে না।
সুতরাং বাইবেলের মতে ‘প্রভুর ভোজ’ অর্থাৎ এই পবিত্র ভোজ তৈরি করতে বাইবেলের
নির্দেশকেই অনুসরণ করতে হবে। কোনভাবেই এই নির্দেশকে অমান্য করা যাবে না। কারণ আমরা
যদি তা অমান্য করি তাহলে এটা প্রমাণ হবে যে আমরা প্রভু যীশুর শরীরকে ও তাঁর পবিত্র
রক্তকে একপ্রকারে অসম্মান করছি। একজন খ্রীষ্ট বিশ্বাসী হিসাবে এই কাজটা মোটেও উচিত
নয়।
বাইবেল সম্মত বিধান :-
এই খামিরবিহীন রুটি অথবা তাড়িশূন্য রুটি বানানোর জন্য যে সকল উপাদানের প্রয়োজন
তা প্রত্যেকের ঘরেই আছে। যেমন – ময়দা বা আটা ও তেল। তাই এই সকল উপাদান ব্যবহার করে
আমরা প্রভুর ভোজের রুটি প্রস্তুত করতে পারি। আবার একই ভাবে প্রভু যীশুর পবিত্র রক্ত
রূপ দ্রাক্ষারস আঙুর দিয়ে তৈরি হয়। এই আঙুর যেহেতু বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে পাওয়া
যায় তার জন্য এর পরিবর্তে Kissan Company দ্বারা বানানো আঙ্গুরের রস ব্যবহার করা যেতে
পারে। যা ভারতের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান Hindustan Unilever Limited দ্বারা
প্রত্যয়িত ( Certified )।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন