আপনি কি কখনো ভেবেছেন, ভয় কিভাবে একই সাথে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে? হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন! ভয়ের দুটি রূপ আছে, যা আমাদের জীবনে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ দুই রূপেই আসতে পারে। আজ আমরা জানব, বাইবেলের দৃষ্টিতে এই দুই ধরনের ভয়ের কী তাৎপর্য রয়েছে, এবং এটি কীভাবে আমাদের বিশ্বাস ও আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
আপনার মনে হতে পারে, ভয় তো ভয়ই—কিন্তু তার মধ্যে ভালো-মন্দ কি থাকতে পারে? এখানেই বাইবেলের এক গভীর শিক্ষা লুকিয়ে আছে। বাইবেল আমাদের শেখায়, ভয়ের দুটি রূপ রয়েছে। একটি হল ‘পবিত্র ভয়’, যা ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাদের জীবনে আশীর্বাদ নিয়ে আসে। আর অন্যটি হল ‘লোক দেখানো ভয়’, যা আমাদের পতনের কারণ হতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই দুই ধরনের ভয়ের
মধ্যে পার্থক্য কী? কোনটি আমাদের জন্য উপকারী এবং কোনটি
ক্ষতিকর? গীতসংহিতা ১১১:১০ পদে বলা হয়েছে, “সদাপ্রভুর ভয় প্রজ্ঞার আরম্ভ;
যে কেহ তদনুযায়ী কর্ম করে, সে সদ্বুদ্ধি
পায় …” এটি স্পষ্টভাবে বলে দেয়, জীবন্ত ঈশ্বরকে ভয় করা আমাদের জীবনে প্রজ্ঞা এবং আশীর্বাদ বয়ে আনে।
আবার অনেক খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা লোকেদের কাছে ভালো দেখানোর জন্য কাজ করেন, কিন্তু তাদের হৃদয়ে ঈশ্বর জন্য কোনো পবিত্র ভয় থাকে না। এর ফলে, তাদের আধ্যাত্মিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে সেই সমস্ত খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা কক্ষনো কক্ষনো বিভিন্ন ধরনের পাপ কাজ কর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। যাদের মধ্যে সত্যিকারের পবিত্র ভয় রয়েছে, তারা ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত। তাদের জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কথা এবং আচরণ পবিত্র আত্মার পরিচালনায় হয়। কিন্তু, যারা লোক দেখানোর জন্য কাজ করে, বাইবেল তাদের সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কতা দেয়: “সাবধান, লোককে দেখাইবার জন্য তাহাদের সাক্ষাতে তোমাদের ধর্মকর্ম করিও না …..” ( মথি ৬:১ )। এই ধরনের ভয় আধ্যাত্মিক উন্নতির পরিবর্তে আমাদের পতনের কারণ হতে পারে, এবং শয়তান এভাবেই আমাদের জীবনে অতি সূক্ষ্মভাবে কাজ করে ও আমাদেরকে ঈশ্বরের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
বর্তমান খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে বিভিন্ন পালক সহ এমন অনেক মেশেদের দেখতে পাওয়া যায়, যারা ‘লোক দেখানো ভয়’ দ্বারা পরিচালিত হয় বা ‘লোক দেখানো ভয়’ পায়। যার ফলে মণ্ডলী সহ খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের জীবনে শিথিলতা নামক এক ভয়ঙ্কর আত্মিক রোগ দেখা দেয়। এই বিষয়ে বাইবেলে লেখা আছে, “লোক-ভয় ফাঁদজনক; কিন্তু যে সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করে, সে উচ্চ স্থানে স্থাপিত হইবে।” ( হিতোপদেশ ২৯ অধ্যায় : ২৫ পদ ) তাই মণ্ডলী সহ সকল খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের উচিত কেবল ঈশ্বরের প্রতি ভয় রাখা। ঈশ্বরের প্রতি ‘লোক দেখানো ভয়’ দেখিয়ে বিভিন্ন রকমের কাজ কর্ম করা মণ্ডলীর পালক সহ বিশ্বাসীদের জন্য ভয়ঙ্কর বিপদের কারণ হতে পারে। এর পরিবর্তে, তাদের উচিত ঈশ্বরের আদেশ এবং নির্দেশনায় চালিত হওয়া। সাধু পৌল বলেছেন ( গালাতীয় ১ অধ্যায় : ১০ পদে ) “ আমি কি এখন মানুষকে লওয়াইতেছি না ঈশ্বরকে? অথবা আমি কি মানুষকে সন্তুষ্ট করিতে চেষ্টা করিতেছি? যদি এখনও মানুষকে সন্তুষ্ট করিতাম, তবে খ্রীষ্টের দাস হইতাম না।” এখানে সাধু পৌল স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেন যে, একজন খ্রীষ্টি বিশ্বাসী হয়ে মানুষ কে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সন্তুষ্ট কররার পরিবর্তে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করে তাঁর নির্দেশ মেনে চলা আমাদের জন্য ভালো। আর এই সমস্ত বিষয় গুলি সাবধানতার সাথে পালন না করার ফলে মণ্ডলীগত ও ব্যক্তিগত জীবনে আধ্যাত্মিক শিথিল দেখা দেয়।
এখন সময় এসেছে আমাদের নিজেদের পরীক্ষা করার এবং বুঝে
নেওয়ার—আমরা কি পবিত্র ভয়ে আছি, নাকি শুধুই লোক দেখানো ভয়ে জীবন
যাপন করছি?
.png)
.png)

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন