ভারতীয় খ্রীষ্টান সমাজে এমন কিছু প্রশ্ন আছে যা রীতিমতো ভূমিকম্প সৃষ্টি করে। এর ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে “পূজোর প্রসাদ”। এটি কেবল ধর্মীয় আলোচনা নয়, বরং গ্রামের সাধারণ চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শহরের বড় কর্পোরেট অফিস সর্বত্র একজন বাঙালি খ্রীষ্ট বিশ্বাসীর জীবনে একটা বাস্তব সামাজিক চাপ।
ধরুন, আপনার কোন এক সহকর্মী হাসিমুখে প্রসাদ আপনার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। এখন আপনি কি
করবেন? ‘না’ বলে কি সম্পর্ক নষ্ট করবেন? নাকি ‘হ্যাঁ’ বলে নিজের বিশ্বাসের সাথে আপোষ
করবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর কি শুধুই একটা সহজ
‘হ্যা’ বা ‘না’? একদমই না। এই জটিল
সমস্যার সঠিক সমাধান পেতে হলে আজ আমাদের ছটি গোপন দরজার ভেতর দিয়ে যেতে হবে।
আমরা শুধু এই বাস্তব সমস্যাটি নিয়েই
কথা বলবো না, বরং ভেঙে দেবো প্রসাদ নিয়ে থাকা
প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো কেও। জানবো কেন এটি কেবল আপনার খাবার বিষয় নয়, বরং মন্ডলীর ঐক্যের সংকট। আমরা ফিরে যাব ২০০০ বছর পেছনের
ইতিহাসে,
উদ্ধার করব বাইবেলের সেই গোপন গ্রিক শব্দ গুলোর মানে যা
শুনলে আপনি চমকে যাবেন! এবং সবশেষে আমরা জানবো সেই চূড়ান্ত বাস্তব সমাধান যা
জানার পর এই পরিস্থিতিতে আপনাকে আর কোনদিন দ্বিধায় পড়তে হবে না।
প্রচলিত ভুল ধারণা ও খণ্ডন
দেখুন, যখনই কোন ধর্মীয় বিতর্কে জন্ম হয়, তখনই দুটো একেবারে বিপরীত ভুল ধারণা সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। প্রসাদের বিষয়টিও
তার ব্যতিক্রম নয়। প্রথম ভুল ধারণাটা হল অতিরিক্ত ভয়। বহু মানুষ মনে করেন এই
প্রসাদ বস্তুটি এতটাই মারাত্মক যে, এটা কি শুধু স্পর্শ করলেই বা সামান্য একটু খেলেই আপনি সটান নরকে চলে যাবেন, কারণ এটি নাকি ‘দৈত্য-বহুল’ অর্থাৎ মন্দ শক্তিতে ভরপুর একটি বস্তু। কিন্তু বাইবেল এই বিষয়ে কি বলছে? ১ করিন্থীয় ৮ অধ্যায় : ৮ পদে সাধু পৌল স্পষ্টতই লিখেছেন যে, “কিন্তু খাদ্যদ্রব্য আমাদিগকে ঈশ্বরের কাছে গ্রাহ্য করায় না; ভোজন না করিলে আমাদের ক্ষতি হয় না, ভোজন করিলেও আমাদের বৃদ্ধি হয় না।” এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো, আপনার বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং
ঈশ্বরকে আপনি কিভাবে দেখেন সেটাই আসল কথা, কোনও খাবারই নিজে থেকে আপনাকে নরকে টেনে নিয়ে যেতে পারেনা। যারা এই জাগতিক
ভয় পোষণ করেন, তারা আসলে বাইবেলের এই মূল এবং সহজ
শিক্ষাটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছেন।
ঐক্য ও সাক্ষ্যের সংকট
তাহলে বিষয়টা অত্যন্ত পরিষ্কার যে, খাবার নিয়ে অহেতুক ভয় বা কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই।
কিন্তু এখানেই কি সব শেষ? না একদমই না। ভয়ের ভূত তাড়াতে গিয়ে আমরা যেন আবার উল্টো দিকের কোনো
গর্তে পা না দিয়ে ফেলি! অনেকেই ভাবেন, যেহেতু খাবার নিজে কোনো ক্ষতি করতে পারে না, তার অর্থ সবটাই আমাদের জন্য অবাধ ও উন্মুক্ত।
কিন্তু মুদ্রার ঠিক অপর পিঠে এমন একটি সূক্ষ্ম অথচ মারাত্মক ভুল ধারণা লুকিয়ে আছে, যা হয়তো আপনি খেয়ালই করেননি। আর সেটাই আমাদের বিশ্বাসের আসল পরীক্ষাকে কঠিন করে তোলে।
আবার এর ঠিক উল্টো দিকে আছে আরেকটা
ভুল ধারণা, যেটা মূলত শিক্ষিত বা শহুরে
বিশ্বাসীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তাদের
যুক্তিটা বেশ সরল “মূর্তি যখন কিছুই নয়, তখন মন্দিরে গিয়ে বা মণ্ডপে বসে প্রসাদ খেলে সমস্যা কোথায়? অন্তরেতো যীশু আছেন!” আপাতদৃষ্টিতে এই যুক্তিটি খুব আধুনিক ও উদার মনে হতে পারে কিন্তু এটি ১ করিন্থীয় ১০ অধ্যায়ের : ২০ থেকে ২১ পদের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাকে সুকৌশলে এড়িয়ে যায়। ওই অংশে সাধু পৌল
স্পষ্ট করেই বলছেন যে, “বরং পরজাতিগণ যাহা যাহা বলিদান করে, তাহা ভূতদের উদ্দেশে বলিদান করে, ঈশ্বরের
উদ্দেশে নয়; আর আমার এমন ইচ্ছা নয় যে, তোমরা
ভূতদের সহভাগী হও। প্রভুর পানপাত্র ও ভূতদের পানপাত্র, তোমরা এই উভয় পাত্রে পান করিতে পার না; প্রভুর
মেজ ও ভূতদের মেজ, তোমরা এই উভয় মেজের অংশী হইতে পার না।”
সুতরাং, শাস্ত্রের আলোকে ব্যক্তিগত পবিত্রতা বা
আধ্যাত্মিক সতর্কতার দিকটা তো পরিষ্কার হলো। কিন্তু আপনি যদি মনে করেন, ‘ব্যাস, নিয়মটা জেনে গেলাম, এখানেই গল্পের ইতি’ তাহলে বন্ধু একটু থামুন। কারণ, বাইবেল এই বিষয়টাকে কেবল আপনার আর ঈশ্বরের ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যেই আটকে
রাখেনি। এই সামান্য একটা ‘প্রসাদ খাবো কি খাবো
না’ এই সিদ্ধান্তের ঢেউ
আসলে আমাদের কল্পনার থেকেও অনেক দূর পর্যন্ত গড়ায়। আপনি হয়তো নিজের বিবেককে
পরিষ্কার রাখলেন, কিন্তু আপনার এই সিদ্ধান্ত আপনার পাশের নতুন বিশ্বাসী ভাইটির ওপর বা বাইরের জগতের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? বিষয়টি আর তখন কেবল খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ
থাকে না বরং রূপ নেয় এক বিরাট অস্তিত্বের সংকটে।
দেখুন, এই প্রসাদের ব্যাপারটা নিয়ে আমরা কেবল ‘এটা
খাবো, নাকি খাবো না’ এই সহজ সরল প্রশ্নের মধ্যে আটকে থাকতে পারে না। সমস্যাটা এর থেকেও অনেক গভীরে। এটা কেবল খাদ্যের বা রীতিনীতির সমস্যা নয়; বরং এটা আমাদের ধর্মীয় পরিচয়ের সংকট এবং
তার থেকেও বড়, এটা মণ্ডলীতে আমাদের ঐক্য এবং সাক্ষ্যের সংকট তৈরি করে।
প্রথমত, এটা ঐক্যের সংকট। রোমীয় ১৪ অধ্যায়
যদি আমরা দেখি সেখানে আমরা দেখতে পাব এই
একটি প্রসাদ গ্রহণের সিদ্ধান্তই মণ্ডলীতে বিশ্বাসীদের মধ্যে একটা বিভাজন তৈরি করে
দিচ্ছে। একদিকে আছেন সেই নব্য কিংবা ‘দুর্বল বিশ্বাসীরা’,
যারা প্রসাদ খেলে নিজেদের বিবেক দংশনে ভোগেন। অন্যদিকে আছেন
সেই ‘শক্তিশালী বিশ্বাসীরা’,
যারা মনে করেন এটা কেবলই খাবার মাত্র, এর কোনো ধর্মীয় তাৎপর্য নেই। এই দুই দলের মধ্যেকার দূরত্বই
আমাদের ভেতরের ঐক্যকে ভেঙে দেয়।
দ্বিতীয়ত, এটা সাক্ষ্যের
সংকট। ভাবুন তো, একজন নতুন বিশ্বাসী বা একজন অ-খ্রীষ্টান যখন দেখছেন যে, একজন পুরাতন বিশ্বাসী প্রকাশ্যে পূজা
মণ্ডপে গিয়ে প্রসাদ গ্রহণ করছেন, তখন কী বার্তা যাচ্ছে? বার্তাটা খুবই পরিষ্কার, “খ্রীষ্টান আর হিন্দুর মধ্যে তাহলে তফাৎ কোথায়? সবাই তো সব দেবতার প্রসাদই খায়!” এই কাজটি সুসমাচারের মূল সত্যতাকে দুর্বল করে দেয় এবং আমাদের সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষমতাকে
ক্ষুণ্ণ করে। তাই, বাইবেল এই প্রশ্নের
উত্তরকে কেবল একটি সহজ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং আসল উত্তরটা লুকিয়ে
আছে প্রেম ও বিবেকের
গভীর ধর্মতত্ত্বের মধ্যে, যেখানে আমাদের
সিদ্ধান্ত সবসময় অন্য ভাই বা বোনের প্রতি যত্নশীলতা এবং আমাদের সাক্ষ্যের বিশুদ্ধতাকে সুরক্ষিত রাখবে।
ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
তাহলে বুঝতেই পারছেন, বিষয়টা আর কেবল প্রসাদ খাওয়া বা
না-খাওয়ার ব্যক্তিগত পছন্দের মধ্যে আটকে নেই; এর সাথে জড়িয়ে
আছে আমাদের বিশ্বাস, সাক্ষ্য এবং মণ্ডলীর ঐক্যের মতো গভীর সব
বিষয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আমরা অনেকেই ভাবি এই ‘প্রসাদ খাবো কি খাবো না’ এই দ্বিধা হয়তো কেবল আমাদের
এই যুগের বা বর্তমান সমাজের সমস্যা। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই
বিতর্ক মোটেও আজকের নয়, বরং এর শিকড় আরও অনেক গভীরে প্রোথিত।
বাইবেলের পাতা ওল্টালে দেখবেন, ঠিক এই একই প্রশ্ন প্রাচীন
মণ্ডলীকেও দারুণভাবে দ্বিধাগ্রস্ত করেছিল। কিন্তু তখন তাঁরা
এর কী সমাধান করেছিলেন? সেই উত্তরটা জানতে হলে আমাদের তাকাতে
হবে আনুমানিক প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশী পেছনের এক ইতিহাসের দিকে।
বাইবেলের মধ্যে এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আছে যা আমদের নাড়িয়ে দেবে। প্রথমত, যখন খ্রীষ্ট ধর্ম
সবেমাত্র ইহুদিদের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের দিকে পা বাড়াচ্ছিল তখনই আসে জেরুজালেম
পরিষদ ( প্রেরিত ১৫ )। এটা ছিল প্রথম শতাব্দীতে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে অ-ইহুদি খ্রীষ্টানরা যখন দলে দলে
আসছে, তখন একটা ঐক্য বজায় রাখতে হবে। এই ঐক্যের খাতিরেই
পরিষদ চারটি ন্যূনতম নৈতিক নিয়ম তৈরি করে। এর মধ্যে একটি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট “যেন তাহারা প্রতিমা সংক্রান্ত অশুচিতা,
ব্যভিচার, গলা টিপিয়া মারা প্রাণীর মাংস,
এবং রক্ত, এই সকল হইতে পৃথক থাকে।” প্রেরিত ১৫ অধ্যায় : ২০ পদ। অর্থাৎ, শুরুতে নির্দেশটা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট অর্থাৎ সম্পূর্ণ
রুপে বারণ। কিন্তু ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। এর কিছুদিন পর করিন্থ শহরে আসে আরও একটি জটিল পরিস্থিতি।
সম্ভবত সেই সময়ে করিন্থ মন্ডলীর কিছু বিশ্বাসীরা প্রতিমা
পূজার মন্ডপেও যাতায়াত করতেন এবং প্রতিমা পূজকদের সাথে সহভাগিতাও করতেন। খানিকটা এই কারণেই বাধ্য হয়ে সাধু পৌল লেখেন তাঁর বিখ্যাত পত্র ১ করিন্থীয় ৮ এবং ১০ অধ্যায়। সাধু পৌল সেই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞাটিতে যুক্ত করেন আরও এক গভীর বিশ্লেষণ ও যুক্তি। তিনি শুধু ‘না’ বলেননি, বরং
বোঝাতে চেয়েছিলেন কেন এই বারণ, এর পিছনে শাস্ত্রীয় যুক্তি কী? তাঁর বিশ্লেষণে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও অন্যের
বিবেক দুটোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই দুটো বাইবেলীয় স্থান, অর্থাৎ জেরুজালেম পরিষদ এবং পৌলের করিন্থের চিঠি, এই
বিতর্কটিকে আজও জীবন্ত রেখেছে।
গভীর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও গ্রিক
শব্দ
ইতিহাস আর ধর্মতত্ত্বের এই পটভূমি তো
বোঝা গেল, কিন্তু বাস্তব
সমস্যাটা ছিল আরও জটিল। শুধু মাত্র একটা আইন
চাপিয়ে দিয়ে তো আর মানুষের মনের দ্বন্দ্ব মেটানো যায় না। সাধু
পৌলও সেটা খুব ভালো করে বুঝেছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, সমস্যাটা আসলে ওই খাবারের মধ্যে নেই; সমস্যাটা লুকিয়ে আছে মানুষটির দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার বিবেকের গভীরতায়। করিন্থের মণ্ডলীর সবাই তো আর একই মানসিকতার মানুষ ছিলেন না, তাই সবার জন্য একই নিয়ম খাটছিল না। এই জট খুলতে সাধু পৌল তখন এক
অত্যন্ত বাস্তবসম্মত পথ বেছে নিলেন। তিনি পুরো মণ্ডলীকে
মানুষের চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে আলাদা করলেন। কিন্তু কী সেই বিভাজন? আর কেনই বা একই খাবার একজনের জন্য ‘নিরাপদ’ কিন্তু অন্যজনের জন্য ‘পাপ’ হয়ে দাঁড়াল?
যখন করিন্থের খ্রীষ্টানরা এই একই
দ্বিধায় ভুগছিল, তখন প্রেরিত পৌল
পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার করার জন্য তাদের দুটো দলে ভাগ
করেছিলেন। একটা দল ছিল যারা নিজেদের “জ্ঞানী”
বা “শক্তিশালী” ভাবত। কেন? কারণ তারা বাইবেলের মূল সত্যটা
জানত, “ভাল, প্রতিমার কাছে উৎসৃষ্ট
বলি ভোজনের বিষয়ে আমরা জানি, প্রতিমা জগতে কিছুই নয়, এবং ঈশ্বর এক ছাড়া দ্বিতীয় নাই।” ১ করিন্থীয়
৮ অধ্যায় : ৪ পদ। তাঁদের কাছে, দেবতাকে উৎসর্গ করা মাংস বা খাবার এগুলো নৈতিকভাবে নিরপেক্ষ, কারণ যে ‘দেবতার’ নামে উৎসর্গ
করা হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। তাদের বিশ্বাস
ছিল এত দৃঢ় যে বাইরের কোনো আচার-আচরণ তাদের প্রভাবিত করতে পারত না। কিন্তু উল্টো
দিকে ছিল আরেকটা দল, যাদের পৌল বলতেন “দুর্বল”। এই দুর্বলরা কারা? এরা হলো তারা, যারা হয়তো মাত্র কিছুদিন
হলো মূর্তিপূজার জীবন ছেড়ে খ্রীষ্টধর্মে এসেছে। তাদের পুরোনো
অভ্যাস এবং স্মৃতি এখনও মন থেকে পুরোপুরি মুছে যায়নি। ফলে,
যখনই তারা কোথাও মন্দিরের প্রসাদ বা উৎসর্গ
করা বস্তু দেখত, তখনই তাদের বিবেক আন্দোলিত
হতো। তাদের কাছে এটা কেবল কোন বিশেষ খাদ্য বস্তু ছিল না; বরং এটা ছিল পূর্বের দেবতাদের উপাসনার অঙ্গ। কারণ তাদের ধারনা হোত যে ঐ খাবার খেলে তাদের আত্মিক জীবন অপবিত্র হচ্ছে এবং
তারা আবার পুরোনো পাপের দিকে ফিরে যাচ্ছে। এই দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে এবং কারও
বিশ্বাসে আঘাত না দিয়ে একটা মধ্যবস্থা বজায় রেখে পৌল এই কঠিন অথচ বাস্তব সম্মত বিভাজনটা এনেছিলেন।
এই যে দুই দলের টানাপড়েন তার মধ্যে একদলের
কাছে যা নিছক খাবার, অন্যদলের কাছে তা আবার বিবেকের দংশন।
এটা ছিল সমস্যার ওপরের স্তর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিষয়টাকে কি শুধুই ‘মনের ভুল’ বা ‘দুর্বলতা’ বলে
উড়িয়ে দেওয়া যায়? এখানেই বাস্তবতার মোড় ঘোরে। কারণ, এই সাধারণ খাদ্যবস্তুর পেছনে লুকিয়ে আছে এমন এক আধ্যাত্মিক রহস্য, যা হয়তো আমাদের এতদিনের জানা ধারণাটাই বদলে দেবে।
এর উত্তর খুঁজতে আমাদের একটু গভীরে, প্রাচীন ভাষার শিকড়ের দিকে
দৃষ্টিপাত করতে হবে যেখানে লুকিয়ে আছে আসল সত্য।
কেন প্রতিমার উদ্দেশ্যে
উৎসর্গ করা এই সাধারণ খাবার একজন খ্রীষ্টানের
জন্য এত বড় সমস্যা তৈরি করে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তিনটি
গ্রিক ও হিব্রু শব্দে, যা আমাদের পুরো দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।
‘Eidolothuton’ (আইডোলোথুতোন) গ্রিক
শব্দটি শুনতে কঠিন লাগলেও, এর সহজ অর্থ
হলো ‘মূর্তিপূজার বলি প্রদত্ত খাদ্য’। মনে রাখবেন, পরোক্ষ ভাবে বাইবেলে উল্লেখ আছে এই খাবারটা কেবল বাজারে
বিক্রিত কোন সাধারণ খাদ্য বস্তু নয় বরং এটা একটা উপাসনামূলক প্রক্রিয়ার অবশিষ্টাংশ। অর্থাৎ, এই
খাবারটা সরাসরি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। দ্বিতীয় হিব্রু শব্দটি
হোল ‘Zebach’ (জেবাখ), যার অর্থ ‘বলিদান বা উৎসর্গ’। পুরাতন নিয়মে ইসরায়েলীয়রা এই ‘জেবাখ’ ভোজে ঈশ্বরের সঙ্গে চুক্তিতে
আবদ্ধ হতো, এটি ছিল ঈশ্বরের সঙ্গে সহভোজন। তাই, যখন একজন খ্রীষ্টান অন্য জাগতিক মূর্তির কাছে নিবেদিত ‘জেবাখ’ অর্থাৎ উৎসর্গীকৃত
প্রসাদ খান, তখন এর গভীর অর্থ দাঁড়ায় যে তিনি সেই দেবতার
সঙ্গে সঙ্ঘ বা সহভাগিতা স্থাপন করছেন, যা বাইবেলের মূল
শিক্ষার তথা সতর্কতার পরিপন্থী। এবং শেষ গ্রীক শব্দটি হলো
‘Skandalon’ (স্ক্যানডালন), যার মানে ‘ফাঁদ, টোপ, হোঁচট খাওয়ার কারণ
বা প্রতিবন্ধক’। প্রেরিত পৌল জোর দিয়ে বলেছেন, আপনার হয়তো সেই প্রসাদ খাওয়ার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আছে,
কিন্তু আপনার সেই কাজ যেন দুর্বল বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তিকে পুনরায় মূর্তিপূজার দিকে ঠেলে না দেয়। কারণ, আপনি যখন
আপনার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে অন্য আর একজনকে পাপ বা
অবিশ্বাসে ফেলে দেন, তখন আপনি আসলেই “খ্রীষ্টের বিরুদ্ধে পাপ করছেন”। “এইরূপে
ভ্রাতৃগণের বিরুদ্ধে পাপ করিলে, ও তাহাদের দুর্বল বিবেকে
আঘাত করিলে, তোমরা খ্রীষ্টের বিরুদ্ধে পাপ কর।” ১ করিন্থীয় ৮ অধ্যায় : ১২ পদ। তাই, বিষয়টি কেবল খাদ্য বস্তুই নয় বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক চুক্তি এবং অন্যের বিশ্বাসের প্রতি আত্মিক দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন।
হিব্রু ও গ্রিক শব্দগুলোর এই গভীর
বিশ্লেষণ থেকে একটা বিষয় অত্যন্ত জলের মতো পরিষ্কার, প্রসাদ খাওয়া মানে নিছক কিছু মুখে তোলা নয়, বরং
নিজের অজান্তেই একটা আধ্যাত্মিক চুক্তিতে সই করা। কিন্তু দাঁড়ান, এখানেই সব শেষ নয় এর থেকেও বড় একটা চেতনার ধাক্কা
অপেক্ষা করছে। তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে যদি আমরা সরাসরি আমাদের আনুগত্য বা ‘লয়্যালটি’-র দিকে তাকাই, তবে
আমরা একটা অসম্ভব সমীকরণের সামনে এসে দাঁড়াই। বাইবেল এবার এমন একটা কঠিন ও তীক্ষ্ণ
বাস্তবতাকে আমাদের সামনে নিয়ে আসছে, যেখানে ‘মধ্যপন্থা
অবলম্বল করার’ আর কোনো সুযোগ নেই। সেই চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জটা আসলে কী?
দেখুন, এই বিতর্কে আসল বিষয়বস্তু শুধু কেবল উৎসর্গীকৃত
খাবারই নয়। খ্রীষ্টানদের প্রাচীন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রেরিত
পৌল একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা আজকের দিনের ‘প্রসাদ খাওয়ার’ সমস্যার মূল বিষয়। তিনি আমাদের কাছে সরাসরি জানতে
চাইলেন “প্রভুর পানপাত্র ও ভূতদের পানপাত্র, তোমরা এই উভয় পাত্রে পান করিতে পার না; প্রভুর মেজ ও
ভূতদের মেজ, তোমরা এই উভয় মেজের অংশী হইতে পার না।” ১ করিন্থীয় ১০
অধ্যায় : ২১ পদ। ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন তো? এখানে মূল দ্বন্দ্বটা হচ্ছে সহভাগিতা নিয়ে।
সহজ কথায়, পৌল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে একজন খ্রীষ্টানের পক্ষে একইসঙ্গে খ্রীষ্টের সাথে এবং অন্য কোনও দেবতার সাথে সহভোজনে অংশ
নেওয়া সম্ভব নয়। যখন আমরা ‘প্রভুর ভোজে’
অংশ নিই, তখন আমরা খ্রীষ্টের সাথে এক গভীর আধ্যাত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ
হই। ঠিক তেমনই, একটি প্রতিমার
উপাসনামূলক ভোজে বা পূজার সুস্পষ্ট নৈবেদ্যে (প্রসাদ) অংশগ্রহণ করা মানে, পৌলের ভাষায়, পরোক্ষভাবে ‘ভূতদের
মেজ,’এ অংশীদার হওয়া। অর্থাৎ, প্রসাদ
শুধুমাত্র মিষ্টি, ফল বা মাংস নয়;
এটি একটি জাগতিক উপাসনার
অঙ্গ। তাই, দুটো বিপরীত স্রোতে পা রাখা যায় না।
হয় আপনি খ্রীষ্টের সহভাগিতায় আছেন, নয়তো
অন্য কিছুর। সিদ্ধান্তটা খুবই পরিষ্কার: পূজার প্রসাদ গ্রহণ করা মানে দৈত্যের বা
ভূতদের টেবিলে অংশীদার হওয়া, আর এটা
খ্রীষ্টানদের জন্য সম্পূর্ণভাবে সাস্ত্র বিরুদ্ধ।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তব প্রয়োগ
তাহলে বুঝতেই পারছেন, পৌলের যুক্তি অনুযায়ী ব্যাপারটা আর নিছক ‘খাবার’ বা সামাজিক ভদ্রতার গণ্ডিতে আটকে নেই বরং
এটা সরাসরি আধ্যাত্মিক আনুগত্যের প্রশ্ন। কিন্তু থামুন, এখানেই মনে একটা খটকা লাগতে পারে। একই বস্তুকে কেন হিন্দুরা পরম পবিত্র
মনে করেন, আর বাইবেল সেটাকেই এত বড় আধ্যাত্মিক বিপদ হিসেবে
চিহ্নিত করছে? এই মূল তফাতটা আসলে তৈরি
হচ্ছে কোথায়? নিছক বিশ্বাসে, নাকি এর
পেছনে আরও গভীর কোনো দর্শন কাজ করছে?
বিষয়টিকে একেবারে গোড়ার দিক থেকে দেখা যাক। একদিকে আছে
হিন্দু ধর্মের প্রসাদের ধারণা, আর অন্যদিকে আছে বাইবেলের পৌলের নীতি। এই দুটো ধারণা কিন্তু সম্পূর্ণভাবে বিপরীত দিকে
দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রসাদ হলো ঈশ্বরের অনুগ্রহ বা কৃপা যা দেবতাকে নিবেদন করার পর ভক্তকে ‘ফিরিয়ে দেওয়া’ হয়। অর্থাৎ, এই প্রসাদের মাধ্যমে ভক্ত সরাসরি দেব শক্তির
আশীর্বাদ লাভ করেন। কিন্তু বাইবেলীয় দৃষ্টিকোণ
থেকে দেখলে, এই প্রসাদকে দেখা হয় ‘দেবতার কাছে
উৎসর্গীকৃত বলি’ হিসেবে। এখানে মূল বিষয়টা হলো একমাত্র ঈশ্বরেরই সার্বভৌমত্ব আছে, তাই এই ‘বলি’ গ্রহণ করার অর্থ সেই সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা।
এখন প্রশ্ন হলো, নৈতিকতার দিক থেকে বিষয়টি কোথায় ভিন্ন? হিন্দু ধর্মে
প্রসাদকে সর্বদা পবিত্র এবং প্রসাদী বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয়, যা ভক্তকে মোক্ষ ও আত্মিক শুচিতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, বাইবেলীয় নীতি বলে যে খাদ্যবস্তু টি নিরপেক্ষ হলেও, যখন তা একটি উপাসনাগত প্রেক্ষাপটে উৎসর্গ করা হয়, তখন তা “দ্বৈত স্বত্তার সহভাগিতা” তৈরি করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় হলো, এই কাজ অন্যের মনে দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ, কোন এক জন খ্রীষ্ট বিশ্বাসীকে প্রসাদ গ্রহণ করতে দেখে অন্য
দুর্বল-বিশ্বাসী খ্রীষ্টান পথভ্রষ্ট হতে পারে। এই মৌলিক বিরোধের জন্যই
খ্রীষ্টানদের সচেতনভাবে এই ধরনের ধর্মীয় প্রসাদের সহভাগিতা
থেকে বিরত থাকাটা
অত্যন্ত জরুরি যাতে তাঁদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ থাকে এবং অন্যের
মনে কখনই সন্দেহ তৈরি না হয়।
তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, তাত্ত্বিকভাবে এই দুই অবস্থানের মধ্যে সংঘাতটা
বেশ গভীর। একদিকে আধ্যাত্মিক পবিত্রতার দাবি, আর অন্যদিকে বিশ্বাস রক্ষার লড়াই এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
একজন সাধারণ বিশ্বাসী হিসেবে আপনি আসলে কী করবেন? সবটাই কি শুধু কঠোর নিষেধ, নাকি পরিস্থিতির বিচারে এর কোনো ভিন্ন ব্যাখ্যাও আছে? বাইবেল কি আমাদের হাত-পা পুরোপুরি বেঁধে দেয়, নাকি এমন কোনো বিশেষ পথের সন্ধান দেয় যেখানে শাস্ত্রীয়
নীতি ঠিক রেখেও বাস্তব পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব? উত্তরটা কিন্তু ঠিক ততটা সরল নয় যতটা মনে হচ্ছে। আসুন দেখা যাক, সমাধানটা আসলে কোথায়।
দেখুন, এই বিতর্কে বাইবেলের অবস্থান কিন্তু খুবই পরিষ্কার। ব্যাপারটা এমন নয় যে চোখ বুজে সব মেনে নিতে হবে
বা সব প্রত্যাখ্যান করতে হবে। বাইবেল আমাদের দুটো নীতি শেখাচ্ছে প্রথমত: যেখানে সরাসরি উপাসনা জড়িত সেখানে কোনো আপস নয়। বাইবেল আমাদের স্পষ্ট বলে “ অতএব, হে
আমার প্রিয়েরা, প্রতিমাপূজা হইতে পলায়ন কর।” আমরা কেন পলায়ন করব? এ বিষয়ে সাধু পৌলের লেখা “প্রভুর পানপাত্র ও ভূতদের পানপাত্র, তোমরা এই উভয়
পাত্রে পান করিতে পার না; প্রভুর মেজ ও ভূতদের মেজ, তোমরা এই উভয় মেজের অংশী হইতে পার না।” ১ করিন্থীয় ১০ অধ্যায় : ১৪ ও ২১ পদটা। এটা কোনো বিবেকের প্রশ্ন নয়, এটা শাস্ত্রীয় নীতিগত নিষেধাজ্ঞা।
কিন্তু দ্বিতীয় নীতিটা হলো স্বাধীনতা এবং প্রেমের সমন্বয়। যদি আপনি বাজার থেকে কেনা কোনো খাবার খাচ্ছেন বা কোনো
অনুষ্ঠানে মিষ্টি খাচ্ছেন, আর আপনি জানেন না তার উৎস কী, সেক্ষেত্রে বাইবেল বলে “যে কোন দ্রব্য বাজারে বিক্রয় হয়, বিবেকের জন্য কিছু জিজ্ঞাসা না করিয়া তাহা ভোজন করিও;” ১ করিন্থীয় ১০ অধ্যায় : ২৫ পদ। তবে এখানে আসে তৃতীয়, উচ্চতর প্রেমের নীতি। ধরুন, আপনার পাশে থাকা
অন্য একজন খ্রীষ্টান বন্ধু তার দুর্বল বিবেকের কারণে মনে করেন এই প্রসাদ খাওয়া অন্যায়। অথবা কেউ আপনাকে স্পষ্ট বলে দিল যে “দেখুন, এটা মূর্তি / দেবতার উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য”। এমন পরিস্থিতিতে, আপনার নিজের স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও বাইবেল অনুযায়ী (১ করিন্থীয় ৮ অধ্যায় : ৯ পদ; রোমীয় ১৪ অধ্যায় : ১৩ ও ২১ পদ) আপনাকে অবশ্যই সেই খাবার প্রত্যাখ্যান করতে হবে। কেন? কারণ আপনার স্বাধীনতা যেন অন্য কারও বিশ্বাসের পথে ‘বাঁধা’ হয়ে না দাঁড়ায়। তাই মূল কথা হলো সরাসরি
মূর্তিপূজা থেকে দূরে থাকতে হবে, অজ্ঞাতে প্রাপ্ত সাধারণ খাবার কৃতজ্ঞতা সহকারে গ্রহণ করুন, কিন্তু অন্যের বিবেকের স্বার্থে নিজের অধিকার ত্যাগ করুন।
তাত্ত্বিক দিকটা তো বেশ পরিষ্কার হলো, কখনও কঠোর বারণ কখনও বা স্বাধীনতা আবার কখনও অন্যের বিবেকের প্রতি শ্রদ্ধা। বাইবেলের এই
ভারসাম্যপূর্ণ নীতিগুলো শুনতে বেশ যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে, তাই না? কিন্তু বাস্তব সমস্যা
হলো, ধর্মতত্ত্বের বই
বন্ধ করে যখন আমরা প্রাত্যহিক জীবনে পা রাখি, তখন পরিস্থিতিটা আর এত সাদা-কালো থাকে না। চোখের সামনে যখন কোনো প্রিয় বন্ধু বা অফিসের সহকর্মী
হাসিমুখে প্রসাদের থালা বাড়িয়ে দেন, তখন ঠিক সেই মুহূর্তটিতে আপনি কী করবেন? বিশ্বাসের নীতি আর সামাজিক সৌজন্যের এই
গোলকধাঁধায় আমাদের কাছে সঠিক পথটা চিনে নেওয়ার
উপায় কী? চলুন, এবার সেই বাস্তব ছবিটাই দেখে নেওয়া যাক।
এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। এই
বিশ্বাসকে বাস্তবে প্রয়োগ করব কীভাবে? কারণ আমরা কেবল মাত্র তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতে পারি না, আমাদের বুঝতে হবে বাস্তব জীবনে কী করা উচিত। যখন পূজার প্রসাদ
বা অফিসে সহকর্মীর দেওয়া মিষ্টি আপনার
সামনে আসে, তখন আপনার সিদ্ধান্তটা তিনটি মূল নীতির উপর নির্ভর করবে।
প্রথমত, আপনাকে বুঝতে হবে প্রসঙ্গটা আসলে কী। ধরুন, যদি কেউ আপনাকে সরাসরি পূজার প্রসাদ বা অঞ্জলির উপকরণ দেয়, তবে এটা পরিষ্কারভাবে উপাসনার অংশ; তাই
একজন খ্রীষ্ট বিশ্বাসী হিসাবে এটিকে অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। এখানে কোনো মতেই আপস চলে না। দ্বিতীয়ত, যখন
পাড়ার ভোগ বা খিচুড়ি দেওয়া হয়, তখন ব্যাপারটা অনেক
সময় সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। এই ক্ষেত্রেও নিজেকে প্রশ্ন করুন “আমি এই খাবার গ্রহণ করলে আমার খ্রীষ্টীয় জীবনের পঞ্চম সুস্মাচার বহন করতে পারবো?” যদি মনে হয় যে এতে
আপনি খ্রীষ্টীয় জীবনের পঞ্চম সুস্মাচার
বহন করতে পারছেন না এবং একই সাথে খ্রীষ্টের সাথে উপাসনা ও সহভাগিতা ক্ষুন্ন হচ্ছে, তবে তা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর তৃতীয় পরিস্থিতি হলো অফিসে সহকর্মীর দেওয়া কোন খাদ্যবস্তু। যদি এটি কেবল একটি সাধারণ খাদ্যবস্তু হিসেবে আপনার কাছে পরিবেশিত হয় এবং সেখানে কোনো ‘দুর্বল বিশ্বাসী’ খ্রীষ্টান না থাকে যার বিবেক এতে কষ্ট পেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে শাস্ত্রীয় বাধা কম। তবে, যদি সহকর্মী স্পষ্টভাবে এটিকে ‘দেবতার প্রসাদ বা পূজার প্রসাদ’ বলে উল্লেখ করেন, তবে অবশ্যই অত্যন্ত বিনয় ও সম্মানের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করুন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন