মানুষের মনে দীর্ঘ দিনের একটা কৌতূহল রয়েছে সেটা হল পশুর কি আত্মা আছে? হ্যাঁ এই প্রশ্নটা শুধু ধর্মের কৌতূহল নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব, নৈতিকতা আর সৃষ্টির রহস্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত, দর্শন, ধর্ম ও বিজ্ঞান সবাই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন, কারণ এর ভেতর লুকিয়ে আছে জীবন আর চেতনার এক গভীর অর্থ।
এই রহস্যের উত্তর খোঁজার পথে প্রথমেই
চোখ পড়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক। কারণ হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ আত্মার অস্তিত্ব বোঝার চেষ্টা করেছে
ধর্মের আয়নায় ভর করে। বিশেষ করে বাইবেলে যেখানে মানুষ ও পশুর আত্মা নিয়ে বেশ কিছু
চমকপ্রদ ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
চলুন, এবার দেখা যাক বাইবেল এই রহস্যটাকে
কীভাবে ব্যাখ্যা করে।
‘আত্মা’ শব্দটা শুনলেই আমরা বুঝি জীবনের
সেই অদৃশ্য শক্তি, যা দেহকে জীবিত
রাখে,
আর মৃত্যুর পরেও
টিকে থাকে। বাইবেলে হিব্রু ভাষায় এই আত্মাকে বলা হয় “নেফেশ” ( נפש ), যার অর্থ হোল “জীবনের
শ্বাস” বা “জীবন্ত স্বওা”। কিন্তু ভেবে দেখার বিষয় হলো, এই শব্দটি শুধু মাত্র মানুষের জন্যই নয় বরং মানুষ
ও পশু, উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়েছে। আরেকটি শব্দ আছে “রুয়াহ” ( רוח ), যার অর্থ “আত্মা” বা “শ্বাস”। বাইবেলের উপদেশক ৩ অধ্যায় : ১৯ পদে বলা হয়েছে, “কেননা মনুষ্য সন্তানদের প্রতি যাহা ঘটে, তাহা পশুর প্রতিও ঘটে, সকলেরই প্রতি
একরূপ ঘটনা ঘটে; এ যেমন মরে, সেও তেমনি মরে; এবং তাহাদের সকলেরই নিশ্বাস এক; পশু হইতে মানুষের কিছু প্রাধান্য নাই, কেননা সকলই
অসার।” এটা থেকে বোঝা যায়, বাইবেলীয় দৃষ্টিতে পশুরাও এক ধরনের আত্মিক স্বওা বহন করে।
বাইবেলের আদিপুস্তক অনুযায়ী, ঈশ্বর পঞ্চম দিনে জলজ প্রাণী আর পাখি সৃষ্টি করেছেন, আর ষষ্ঠ দিনে সৃষ্টি করেন স্থলভাগের সব প্রাণীকে। হিব্রু বাইবেলে এই অংশে
একটা বিশেষ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে “নেফেশ হায়া”, যার অর্থ “জীবন্ত প্রাণী”। কিন্তু এখানে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো, এই একই শব্দ মানুষ আর পশু উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, বাইবেলের দৃষ্টিতে মানুষ ও পশু উভয়েই একই ধরনের জীবনীশক্তি বা আত্মিক উপাদান বহন করে। বাইবেলের উপদেশক বইয়ে এই বিষয়ে একটি পরিষ্কার
ধারনা পাওয়া যায়। যা ৩ অধ্যায় : ১৯ থেকে ২১ পদে বলা হয়েছে, “কেননা মনুষ্য সন্তানদের প্রতি যাহা ঘটে, তাহা পশুর প্রতিও ঘটে, সকলেরই প্রতি
একরূপ ঘটনা ঘটে; এ যেমন মরে, সেও তেমনি মরে; এবং তাহাদের সকলেরই নিশ্বাস এক; পশু হইতে মানুষের কিছু প্রাধান্য নাই, কেননা সকলই
অসার। সকলেই এক স্থানে গমন করে, সকলেই ধূলি হইতে উৎপন্ন, এবং সকলেই
ধূলিতে প্রতিগমন করে। মনুষ্য সন্তানদের আত্মা ঊর্ধ্বগামী হয় ও পশুর আত্মা ভূতলের
দিকে অধোগামী হয়, ইহা কে জানে?” এই বাক্যগুলো থেকে
বোঝা যায় যে, বাইবেলের ভাষায় পশুর আত্মাও মানুষের মতোই এক বাস্তব।
আসুন, এবার আমরা একটু হিন্দু ধর্মের দিকে
তাকাই। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে প্রতিটি জীবের মধ্যেই একটা আত্মা বিদ্যমান, যেটা তাকে জীবন্ত করে। হিন্দু দর্শনে বলা হয়, এই জীবাত্মা তার কর্মফলের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জীবন পায় সেটা কখনো মানুষ, কখনো পশু। তাই পশুদের মধ্যেও আত্মা আছে বলে মনে করা হয়।
হিন্দু ধর্মে আলোকপাত করা হয়েছে যে পশুদেরও আত্মা আছে, আর সেই আত্মা তাদের জীবনেরই একটা অংশ। কিন্তু এই আত্মার অস্তিত্ব শুধু ধর্মেই
থেমে থাকে না। কীভাবে এই পশুদের সৃষ্টি হলো? এর পেছনে কী
রহস্য আছে? এবার দেখা যাক ঋগ্বেদ আর ব্রহ্মা পুরাণে কি
বলা হয়েছে। সেখানেও আমরা দেখি সৃষ্টির এক রহস্য আর গভীর ঘটনা লুকিয়ে আছে।
ঋগ্বেদের পুরুষ সুক্তে ১০ অধ্যায় ১২৯ নং শ্লোকে বলা হয়েছে, “বিশ্বপুরুষের আত্মত্যাগ থেকেই এই জগতের সব প্রাণের জন্ম।” এই বিশ্বপুরুষকে এক মহাজাগতিক স্বত্তা
হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; যার হাজার মাথা, হাজার চোখ আর হাজার পা আছে। তাঁর দেহের এক চতুর্থাংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে সব জীব যারা
খাদ্য গ্রহণ করে কিংবা করে না, অর্থাৎ “উদ্ভিদ ও প্রাণী দু’টোই তাঁর থেকেই উদ্ভূত।” ব্রহ্মা পুরাণে বলা হয়েছে, সৃষ্টিকর্তা
ব্রহ্মা প্রথমে “সমুদ্রের মাছ ও আকাশের পাখি তৈরি
করেছিলেন।” তারপর তিনি প্রতিটি প্রাণীকে দিয়েছেন
স্পর্শ আর গন্ধ বোঝার ইন্দ্রিয়, এবং পরে
দিয়েছেন চলাফেরা, শোনা ও দেখার ক্ষমতা। অর্থাৎ, হিন্দু ধর্মে প্রাণীর সৃষ্টি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়,
বরং এক পরিকল্পিত ও চেতনা নির্ভর প্রক্রিয়া, যেখানে
প্রতিটি জীবই সৃষ্টির অংশীদার।
এবার আসা যাক বিজ্ঞানের দুনিয়ায়। পশুদের কি সত্যিই চেতনা কিংবা
আত্মা আছে? আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান আর প্রাণী আচরণের গবেষণা
বলছে হ্যাঁ, প্রায় অনেক পশুর মধ্যেই
জটিল চিন্তাভাবনা, আবেগ আর স্মৃতি আছে। ২০১২ সালে Cambridge Neurology Science এর বিজ্ঞানীরা স্পষ্টতই বলেছেন, স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি,
এমনকি অক্টোপাসের মতো প্রাণীর মাথায় এমন স্নায়ুতন্ত্র আছে,
যা চেতনাকে সমর্থন করে।
শুধু মাত্র বিজ্ঞানই নয়, ধর্মীয় গ্রন্থগুলোও এই কথা সমর্থন
করে। হিন্দু পুরাণ, বাইবেল, কুরআন,
বৌদ্ধ সূত্র সর্বত্রই পশুদের আত্মা বা চেতনার
কথা উল্লেখ আছে। আর আজকের বিজ্ঞান এই প্রাচীন জ্ঞানের সঙ্গে
হাত মিলিয়ে বলছে, পশুদেরও আছে জটিল আবেগ আর চেতনা, যা আমরা আগে শুধু মানুষের মধ্যেই আছে বলে জানতাম। আচ্ছা
এই বিষয়টা কি এবার আমাদের একটু ভাবিয়ে তুলছে না?
তাহলে প্রশ্নটা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ
হয়ে দাঁড়ায়, যে বিষয় নিয়ে ধর্মগ্রন্থ গুলো হাজার হাজার বছর আগে যা বলেছিল, আধুনিক বিজ্ঞানও কি সত্যিই সেই ধারণাকে সমর্থন করছে?
উত্তর হোল হ্যাঁ; কারণ Cambridge Neurology Science এর গবেষণার উপর নির্ভর করে একথা বলা যেতেই পারে। আমাদের মনে
রাখতে হবে বিজ্ঞান যতই নতুন নতুন প্রমাণ দিক, কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায় এই ধারণা কি
শুধু ল্যাবরেটরির গবেষণায় সীমাবদ্ধ? নাকি, মানবসমাজও বহু আগে থেকেই পশুদের চেতনা ও অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল ছিল? এবার দেখা যাক বিভিন্ন ধর্ম আর মানুষ এই
বিষয়ে কী ভাবছে।
হিন্দু দর্শনে একটা উল্লেখযোগ্য কথা
আছে অহিংসা, মানে কাউকেই কষ্ট দেওয়া যাবে না। এই নীতি বলে, পশুদের জন্যেও
কল্যাণের কথা ভাবতে হবে। অন্যদিকে, ইসলামে কুরআন আর হাদিসে পশুদের অধিকারের কথা স্পষ্ট বলা আছে। নবী মুহাম্মদ তাঁর
অনুসারীদের বলেছেন, পশুদের কোনো ক্ষতি করা যাবে না। এটা কি
আমাদের ভাবায় না যে, ধর্ম কীভাবে পশুদের প্রতি দয়ার কথা
বলে?
ধর্মগুলোর এই দৃষ্টিভঙ্গি একটা দারুণ
বিষয় তুলে ধরে মানুষ শুধু নিজের নয়, পশুদের
প্রতিও দায়বদ্ধ। কিন্তু এখানেই আরেকটা প্রশ্ন জাগে, সব ধর্ম
কি একইভাবে পশুর আত্মাকে দেখে? কেউ বলে তারা মানুষের মতোই
আত্মাসম্পন্ন, আবার কেউ বলে ভিন্ন। এবার দেখা যাক, খ্রীষ্টান ও ইসলামী ধর্মতত্ত্ব এই বিষয়টাকে কীভাবে ব্যাখ্যা
করেছে।
পশুর কি আত্মা আছে? এই প্রশ্নটা
শুধু দর্শনের নয়, ধর্মতত্ত্বেরও একটা বড় বিষয়। বাইবেলীয় দৃষ্টিভঙ্গি
যেমন বলা হয়েছে, পশুদেরও আত্মা আছে কিন্তু সেটা মানুষের মতো
নয়। মধ্যযুগের দার্শনিক টমাস অ্যাকুইনাস বলেছিলেন, পশুদের
মধ্যে আছে “সেন্সিটিভ সোল”, মানে এমন এক আত্মা যা
পাঁচ ইন্দ্রিয়, কল্পনা, বিচার আর
স্মৃতির মাধ্যমে কাজ করে। কিন্তু মানুষের আছে “রেশনাল সোল” এমন এক আত্মা যা
চিন্তা করে, বিশ্লেষণ করে ও জ্ঞানের অন্বেষণ
করে। আবার ক্যাথলিক চার্চও বলে, পশুদের
আত্মা আছে ঠিকই, কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ শারীরিক। তাই শরীরের
মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সেটাও শেষ হয়ে যায়। মানুষের আত্মা আলাদা কারণ সেটা
যুক্তিসঙ্গত, আধ্যাত্মিক, আর মৃত্যুর
পরও টিকে থাকে। ইসলামে আবার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আছে। কুরআনে বলা হয়েছে, সব আত্মাই আল্লাহর সৃষ্টি, তাই পশুদের
আত্মাও চিরন্তন। তবে মুসলিম পণ্ডিতদের মতে, কিয়ামতের দিনে
মানুষ যেমন বিচার পায়, পশুরা তেমন বিচার পায় না।
এটা এমন এক প্রশ্ন, যার উত্তর ধর্ম অনুযায়ী অত্যন্ত ভিন্ন। খ্রীষ্টধর্মেই দুই ধরণের মত আছে। একদল বলে, পশুদের
আত্মা অমর নয়। তারা মারা গেলে, তাদের অস্তিত্বও শেষ হয়ে
যায়।
আরেকদল বলে, না, পশুরাও
স্বর্গে যায়। কারণ তাদের পাপ নেই, তাই খ্রীষ্টের প্রায়শ্চিত্তেরও দরকার নেই।
২০১৪ সালে পোপ ফ্রান্সিস এই বিতর্কে
নতুন মাত্রা যোগ করেন। এক শিশু যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “আমার কুকুরটা কি স্বর্গে যাবে?” তখন
পোপ উত্তর দেন, “স্বর্গ ঈশ্বরের, সকল
সৃষ্টির জন্যই উন্মুক্ত।” তাঁর এই কথা যেন আশার আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত পশুপ্রেমীদের
মধ্যে। ইসলামে বিষয়টা আরও আলাদাভাবে দেখা হয়। কুরআন ও হাদিসে বলা হয়েছে,
কিয়ামতের দিনে সব প্রাণী একসঙ্গে জড়ো হবে, এমনকি
পশুরাও বিচার পাবে। বিচার শেষে আল্লাহ বলবেন, “তোমরা মাটি
হয়ে যাও”, আর তারা মাটিতে মিলিয়ে যাবে। তবে অনেক মুসলিম
পণ্ডিত মনে করেন, কিছু পোষা প্রাণী যেমন কুকুর, ঘোড়া, ভেড়া সরাসরি জান্নাতে যাবে। হিন্দু ধর্মে আবার
দৃষ্টিভঙ্গিটা পুরোপুরি আলাদা। এখানে বিশ্বাস করা হয়, প্রতিটি প্রাণীরই আত্মা আছে, আর সেই
আত্মা পুনর্জন্মের চক্রে ঘুরে বেড়ায়। এক জীবন শেষ হবার পর তার আত্মা নতুন শরীরে প্রবেশ করে অর্থাৎ কখনো মানুষ কিংবা,
কখনো পশুর দেহে। এভাবেই আত্মা ক্রমশ উন্নতি লাভ করে এবং দীর্ঘ পরিক্রমার পর শেষমেশ মুক্তির পথে পৌঁছায়।
যতই আমরা ধর্মের ভেতরে ভিন্ন
ব্যাখ্যা দেখি একটা বিষয় পরিষ্কার, মানুষ সব যুগেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে; মৃত্যুর পর আত্মার কী হয়? পশুর আত্মার অস্তিত্ব কি মানুষের মতোই বিদ্যমান থাকে? কেউ উত্তর খুঁজেছেন করুণার চোখে, কেউ খুঁজেছেন যুক্তির আলোয়।
কিন্তু বাইবেল এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেয় যা শুধু বিশ্বাস
নয়, মানুষের আত্মার
উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করে।
সবশেষে একটা সত্য আমাদের মনে রাখা
দরকার বাইবেল স্পষ্টভাবে বলে, “মনুষ্য সন্তানদের
আত্মা ঊর্ধ্বগামী হয় ও পশুর আত্মা ভূতলের দিকে অধোগামী হয়, ইহা
কে জানে?” উপদেশক ৩ অধ্যায় : ২১ পদ।
এই কথাটার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক ইঙ্গিত। ঊর্ধ্বগামী অর্থাৎ স্বর্গ, ঈশ্বরের বাসস্থান যা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অনেক
উর্দ্ধে অবস্থিত; যা আমাদের মাংসিক চোখে দেখা
না গেলেও, বিশ্বাসে অনুভব করা যায়। আর পৃথিবীর নিচের দিক
নির্দেশ করে “অধোগামী” অর্থাৎ পাতাল বা নরক, যেখানে ঈশ্বরের পবিত্র আলো পৌঁছায় না। তাই পশুর আত্মা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি করার আসলে তেমন কোনো যথার্থ কারণ নেই। অর্থাৎ বাইবেল স্পষ্ট
করে দিয়েছে পশুদের আত্মা পাতালের দিকে ফিরে যায়, কিন্তু মানুষের আত্মা ঈশ্বরের দিকে যায়। আর এই
মানুষকে বাঁচাতেই ঈশ্বর তাঁর স্বর্গের সিংহাসন
ছেড়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তাঁর পুত্র যিশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে। সুতরাং একজন প্রকৃত খ্রীষ্টবিশ্বাসীর কাজ
হলো পশুর আত্মা নয়, মানুষের আত্মা বাঁচানো। কারণ এটাই ঈশ্বরের প্রকৃত ইচ্ছা, আর এটাই আমাদের সত্যিকারের ঈশ্বরের আহ্বান।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন