সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পশুরা মৃত্যুর পরে স্বর্গে যাবে কি ? মানুষের সাথে পশুর আত্মার পার্থক্য খুঁজে দেখা

মানুষের মনে দীর্ঘ দিনের একটা কৌতূহল রয়েছে সেটা হল পশুর কি আত্মা আছে? হ্যাঁ এই প্রশ্নটা শুধু ধর্মের কৌতূহল নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব, নৈতিকতা আর সৃষ্টির রহস্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত, দর্শন, ধর্ম ও বিজ্ঞান সবাই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন, কারণ এর ভেতর লুকিয়ে আছে জীবন আর চেতনার এক গভীর অর্থ

এই রহস্যের উত্তর খোঁজার পথে প্রথমেই চোখ পড়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের দিককারণ হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ আত্মার অস্তিত্ব বোঝার চেষ্টা করেছে ধর্মের আয়নায় ভর করেবিশেষ করে বাইবেলে যেখানে মানুষ ও পশুর আত্মা নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ ইঙ্গিত পাওয়া যায়
চলুন, এবার দেখা যাক বাইবেল এই রহস্যটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে।

আত্মা’ শব্দটা শুনলেই আমরা বুঝি জীবনের সেই অদৃশ্য শক্তি, যা দেহকে জীবিত রাখে, আর মৃত্যুর পরেও টিকে থাকেবাইবেলে হিব্রু ভাষায় এই আত্মাকে বলা হয় নেফেশ” ( נפש ), যার অর্থ হোল “জীবনের শ্বাস” বা “জীবন্ত স্বওাকিন্তু ভেবে দেখার বিষয় হলো, এই শব্দটি শুধু মাত্র মানুষের জন্য নয় বরং মানুষ ও পশু, উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়েছেআরেকটি শব্দ আছে রুয়াহ” ( רוח ), যার অর্থ “আত্মা” বা “শ্বাস”বাইবেলের উপদেশক ৩ অধ্যায় : ১৯ পদে বলা হয়েছে, “কেননা মনুষ্য সন্তানদের প্রতি যাহা ঘটে, তাহা পশুর প্রতিও ঘটে, সকলেরই প্রতি একরূপ ঘটনা ঘটে; এ যেমন মরে, সে তেমনি মরে; এবং তাহাদের সকলেরই নিশ্বাস এক; পশু হইতে মানুষের কিছু প্রাধান্য নাই, কেননা সকলই অসার এটা থেকে বোঝা যায়, বাইবেলীয় দৃষ্টিতে পশুরাও এক ধরনের আত্মিক স্বওা বহন করে

বাইবেলের আদিপুস্তক অনুযায়ী, ঈশ্বর পঞ্চম দিনে জলজ প্রাণী আর পাখি সৃষ্টি করেছেন, আর ষষ্ঠ দিনে সৃষ্টি করেন স্থলভাগের সব প্রাণীকেহিব্রু বাইবেলে এই অংশে একটা বিশেষ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে  নেফেশ হায়া”, যার অর্থ “জীবন্ত প্রাণী”কিন্তু এখানে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো, এই একই শব্দ মানুষ আর পশু উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছেঅর্থাৎ, বাইবেলের দৃষ্টিতে মানুষ ও পশু উভয়েই একই ধরনের জীবনীশক্তি বা আত্মিক উপাদান বহন করেবাইবেলের উপদেশক বইয়ে এই বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়যা অধ্যায় : ১৯ থেকে ২১ পদে বলা হয়েছে, কেননা মনুষ্য সন্তানদের প্রতি যাহা ঘটে, তাহা পশুর প্রতিও ঘটে, সকলেরই প্রতি একরূপ ঘটনা ঘটে; এ যেমন মরে, সে তেমনি মরে; এবং তাহাদের সকলেরই নিশ্বাস এক; পশু হইতে মানুষের কিছু প্রাধান্য নাই, কেননা সকলই অসার। সকলেই এক স্থানে গমন করে, সকলেই ধূলি হইতে উৎপন্ন, এবং সকলেই ধূলিতে প্রতিগমন করে। মনুষ্য সন্তানদের আত্মা ঊর্ধ্বগামী হয় ও পশুর আত্মা ভূতলের দিকে অধোগামী হয়, ইহা কে জানে? এই বাক্যগুলো থেকে বোঝা যায় যে, বাইবেলের ভাষায় পশুর আত্মাও মানুষের মতোই এক বাস্তব

আসুন, এবার আমরা একটু হিন্দু ধর্মের দিকে তাকাই। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে প্রতিটি জীবের মধ্যে একটা আত্মা বিদ্যমান, যেটা তাকে জীবন্ত করে। হিন্দু দর্শনে বলা হয়, এই জীবাত্মা তার কর্মফলের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জীবন পায় সেটা কখনো মানুষ, কখনো পশু। তাই পশুদের মধ্যেও আত্মা আছে বলে মনে করা হয়।

হিন্দু ধর্মে আলোকপাত করা হয়েছে যে পশুদের আত্মা আছে, আর সেই আত্মা তাদের জীবনের একটা অংশ। কিন্তু এই আত্মার অস্তিত্ব শুধু ধর্মেই থেমে থাকে না। কীভাবে এই পশুদের সৃষ্টি হলো? এর পেছনে কী রহস্য আছে? এবার দেখা যাক ঋগ্বেদ আর ব্রহ্মা পুরাণে কি বলা হয়েছে। সেখানেও আমরা দেখি সৃষ্টির এক রহস্য আর গভীর ঘটনা লুকিয়ে আছে।

ঋগ্বেদের পুরুষ সুক্তে ১০ অধ্যায় ১২৯ নং শ্লোকে বলা হয়েছে, বিশ্বপুরুষের আত্মত্যাগ থেকেই এই জগতের সব প্রাণের জন্মএই বিশ্বপুরুষকে এক মহাজাগতিক স্বত্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; যার হাজার মাথা, হাজার চোখ আর হাজার পা আছেতাঁর দেহের এক চতুর্থাংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে সব জীব যারা খাদ্য গ্রহণ করে কিংবা করে না, অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী দু’টোই তাঁর থেকেই উদ্ভূতব্রহ্মা পুরাণে বলা হয়েছে, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা প্রথমেসমুদ্রের মাছ ও আকাশের পাখি তৈরি করেছিলেনতারপর তিনি প্রতিটি প্রাণীকে দিয়েছেন স্পর্শ আর গন্ধ বোঝার ইন্দ্রিয়, এবং পরে দিয়েছেন চলাফেরা, শোনা ও দেখার ক্ষমতাঅর্থাৎ, হিন্দু ধর্মে প্রাণীর সৃষ্টি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এক পরিকল্পিত ও চেতনা নির্ভর প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি জীবই সৃষ্টির অংশীদার

এবার আসা যাক বিজ্ঞানের দুনিয়ায়। পশুদের কি সত্যিই চেতনা কিংবা আত্মা আছে? আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান আর প্রাণী আচরণের গবেষণা বলছে হ্যাঁ, প্রায় অনেক পশুর মধ্যে জটিল চিন্তাভাবনা, আবেগ আর স্মৃতি আছে। ২০১২ সালে Cambridge Neurology Science এর বিজ্ঞানীরা স্পষ্টতই বলেছেন, স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, এমনকি অক্টোপাসের মতো প্রাণীর মাথায় এমন স্নায়ুতন্ত্র আছে, যা চেতনাকে সমর্থন করে।

শুধু মাত্র বিজ্ঞানই নয়, ধর্মীয় গ্রন্থগুলোও এই কথা সমর্থন করে। হিন্দু পুরাণ, বাইবেল, কুরআন, বৌদ্ধ সূত্র সর্বত্রই পশুদের আত্মা বা চেতনার কথা উল্লেখ আছে। আর আজকের বিজ্ঞান এই প্রাচীন জ্ঞানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলছে, পশুদেরও আছে জটিল আবেগ আর চেতনা, যা আমরা আগে শুধু মানুষের মধ্যেই আছে বলে জানতামআচ্ছা এই বিষয়টা কি এবার আমাদের একটু ভাবিয়ে তুলছে না?

তাহলে প্রশ্নটা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, যে বিষয় নিয়ে ধর্মগ্রন্থ গুলো হাজার হাজার বছর আগে যা বলেছিল, আধুনিক বিজ্ঞান কি সত্যিই সেই ধারণাকে সমর্থন করছে? উত্তর হোল হ্যাঁ; কারণ Cambridge Neurology Science এর গবেষণার উপর নির্ভর করে একথা বলা যেতেই পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে বিজ্ঞান যতই নতুন নতুন প্রমাণ দিক, কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায় এই ধারণা কি শুধু ল্যাবরেটরির গবেষণায় সীমাবদ্ধ? নাকি, মানবসমাজও বহু আগে থেকেই পশুদের চেতনা ও অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল ছিল? এবার দেখা যাক বিভিন্ন ধর্ম আর মানুষ এই বিষয়ে কী ভাবছে।

হিন্দু দর্শনে একটা উল্লেখযোগ্য কথা আছে অহিংসা, মানে কাউকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। এই নীতি বলে, পশুদের জন্যেও কল্যাণের কথা ভাবতে হবে। অন্যদিকে, ইসলামে কুরআন আর হাদিসে পশুদের অধিকারের কথা স্পষ্ট বলা আছে। নবী মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের বলেছেন, পশুদের কোনো ক্ষতি করা যাবে না। এটা কি আমাদের ভাবায় না যে, ধর্ম কীভাবে পশুদের প্রতি দয়ার কথা বলে?

ধর্মগুলোর এই দৃষ্টিভঙ্গি একটা দারুণ বিষয় তুলে ধরে মানুষ শুধু নিজের নয়, পশুদের প্রতিও দায়বদ্ধ। কিন্তু এখানেই আরেকটা প্রশ্ন জাগে, সব ধর্ম কি একইভাবে পশুর আত্মাকে দেখে? কেউ বলে তারা মানুষের মতোই আত্মাসম্পন্ন, আবার কেউ বলে ভিন্ন। এবার দেখা যাক, খ্রীষ্টান ও ইসলামী ধর্মতত্ত্ব এই বিষয়টাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছে।

পশুর কি আত্মা আছে? এই প্রশ্নটা শুধু দর্শনের নয়, ধর্মতত্ত্বেরও একটা বড় বিষয়বাইবেলীয় দৃষ্টিভঙ্গি যেমন বলা হয়েছে, পশুদেরও আত্মা আছে কিন্তু সেটা মানুষের মতো নয়। মধ্যযুগের দার্শনিক টমাস অ্যাকুইনাস বলেছিলেন, পশুদের মধ্যে আছে “সেন্সিটিভ সোল”, মানে এমন এক আত্মা যা পাঁচ ইন্দ্রিয়, কল্পনা, বিচার আর স্মৃতির মাধ্যমে কাজ করে। কিন্তু মানুষের আছে “রেশনাল সোল” এমন এক আত্মা যা চিন্তা করে, বিশ্লেষণ করে জ্ঞানের অন্বেষণ করেআবার ক্যাথলিক চার্চও বলে, পশুদের আত্মা আছে ঠিকই, কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ শারীরিক। তাই শরীরের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সেটাও শেষ হয়ে যায়। মানুষের আত্মা আলাদা কারণ সেটা যুক্তিসঙ্গত, আধ্যাত্মিক, আর মৃত্যুর পরও টিকে থাকেইসলামে আবার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আছে। কুরআনে বলা হয়েছে, সব আত্মাই আল্লাহর সৃষ্টি, তাই পশুদের আত্মাও চিরন্তন। তবে মুসলিম পণ্ডিতদের মতে, কিয়ামতের দিনে মানুষ যেমন বিচার পায়, পশুরা তেমন বিচার পায় না

এটা এমন এক প্রশ্ন, যার উত্তর ধর্ম অনুযায়ী অত্যন্ত ভিন্নখ্রীষ্টধর্মেই দু ধরণের মত আছে। একদল বলে, পশুদের আত্মা অমর নয়। তারা মারা গেলে, তাদের অস্তিত্বও শেষ হয়ে যায়
আরেকদল বলে, না, পশুরাও স্বর্গে যায়। কারণ তাদের পাপ নেই, তাই খ্রীষ্টের প্রায়শ্চিত্তেরও দরকার নেই

২০১৪ সালে পোপ ফ্রান্সিস এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন। এক শিশু যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “আমার কুকুরটা কি স্বর্গে যাবে?” তখন পোপ উত্তর দেন, “স্বর্গ ঈশ্বরের, সকল সৃষ্টির জন্যই উন্মুক্ত।” তাঁর এই কথা যেন আশার আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত পশুপ্রেমীদের মধ্যে। ইসলামে বিষয়টা আরও আলাদাভাবে দেখা হয়। কুরআন ও হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিনে সব প্রাণী একসঙ্গে জড়ো হবে, এমনকি পশুরাও বিচার পাবে। বিচার শেষে আল্লাহ বলবেন, “তোমরা মাটি হয়ে যাও”, আর তারা মাটিতে মিলিয়ে যাবে। তবে অনেক মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন, কিছু পোষা প্রাণী যেমন কুকুর, ঘোড়া, ভেড়া সরাসরি জান্নাতে যাবেহিন্দু ধর্মে আবার দৃষ্টিভঙ্গিটা পুরোপুরি আলাদা। এখানে বিশ্বাস করা হয়, প্রতিটি প্রাণীরই আত্মা আছে, আর সেই আত্মা পুনর্জন্মের চক্রে ঘুরে বেড়ায়। এক জীবন শেষ হবার পর তার আত্মা নতুন শরীরে প্রবেশ করে অর্থাৎ কখনো মানুষ কিংবা, কখনো পশুর দেহে। এভাবেই আত্মা ক্রমশ উন্নতি লাভ করে এবং দীর্ঘ পরিক্রমার পর শেষমেশ মুক্তির পথে পৌঁছায়

যতই আমরা ধর্মের ভেতরে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেখি একটা বিষয় পরিষ্কার, মানুষ সব যুগেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে; মৃত্যুর পর আত্মার কী হয়? পশুর আত্মার অস্তিত্ব কি মানুষের মতোই বিদ্যমান থাকে? কেউ উত্তর খুঁজেছে করুণার চোখে, কেউ খুঁজেছে যুক্তির আলোয়। কিন্তু বাইবেল এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেয় যা শুধু বিশ্বাস নয়, মানুষের আত্মার উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করে।

সবশেষে একটা সত্য আমাদের মনে রাখা দরকার বাইবেল স্পষ্টভাবে বলে, মনুষ্য সন্তানদের আত্মা ঊর্ধ্বগামী হয় ও পশুর আত্মা ভূতলের দিকে অধোগামী হয়, ইহা কে জানে?” উপদেশক ৩ অধ্যায় : ২১ পদ। এই কথাটার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক ইঙ্গিত। ঊর্ধ্বগামী অর্থাৎ স্বর্গ, ঈশ্বরের বাসস্থান যা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অনেক উর্দ্ধে অবস্থিত; যা  আমাদের মাংসিক চোখে দেখা না গেলেও, বিশ্বাসে অনুভব করা যায়। আর পৃথিবীর নিচের দিক নির্দেশ করে “অধোগামী” অর্থাৎ পাতাল বা নরক, যেখানে ঈশ্বরের পবিত্র আলো পৌঁছায় নাতাই পশুর আত্মা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি করার আসলে তেমন কোনো যথার্থ কারণ নেই। অর্থাৎ বাইবেল স্পষ্ট করে দিয়েছে পশুদের আত্মা পাতালের দিকে ফিরে যায়, কিন্তু মানুষের আত্মা ঈশ্বরের দিকে যায়। আর এই মানুষকে বাঁচাতে ঈশ্বর তাঁর স্বর্গের সিংহাসন ছেড়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তাঁর পুত্র যিশু খ্রীষ্টের মাধ্যমেসুতরাং একজন প্রকৃত খ্রীষ্টবিশ্বাসীর কাজ হলো পশুর আত্মা নয়, মানুষের আত্মা বাঁচানো কারণ এটাই ঈশ্বরের প্রকৃত ইচ্ছা, আর এটাই আমাদের সত্যিকারের ঈশ্বরের আহ্বান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...