সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অবাধ্যতার অন্ধকারে শৃঙ্খলা কোথায় | Where is discipline in the darkness of disobedience

 নমস্কার প্রিয় বন্ধুরা,

মণ্ডলীর শান্ত ছায়ায়, কারা ঈশ্বরের আদেশকে উপেক্ষা করে নিজেদের পথে চলছে? আমাদের অজান্তেই, কোন্‌ বিষাক্ত অবাধ্যতা আমাদের আধ্যাত্মিকতাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে? কখন থেকে আমাদের হৃদয়ে শৃঙ্খলার সেই সোনালী ধারা ম্লান হতে শুরু করল? এই অন্ধকারের উৎস কোথায়, যা আমাদের বিশ্বাসের ভিত পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে? আর কেন? কেন আমরা এমন এক পথে হাঁটছি, যার শেষ গন্তব্য শুধুই ধ্বংস?

অবাধ্যতা কোনো সাধারণ ভুল নয়, এটি এক অদৃশ্য শত্রু, যা আমাদের প্রার্থনাকে দুর্বল করে, বিশ্বাসকে নড়বড়ে করে দেয়। বাইবেল বলে, অবাধ্যতা ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উপর এক প্রাণঘাতী আঘাত। তবুও কি আমরা সতর্ক হচ্ছি? নাকি আমাদের চোখের সামনে এমন এক কালো পর্দা লাগানো আছে, যা আমাদের সত্যকে দেখতে আমাদের বাধা দিচ্ছে?

এই ভিডিওতে, আমরা এক ভয়ঙ্কর সত্যের মুখোমুখি হব। আমরা দেখব, কারা এই পথে হাঁটছে, কীভাবে এটা ঘটছে, এর উৎস কোথায়? এবং কেন আমরা এই পতনের দিকে এগোচ্ছি? প্রতিটি ধাপে রহস্য উন্মোচিত হবে। প্রস্তুত থাকুন, এই যাত্রা সহজ হবে না

কে এই অবাধ্যতার পথে হাঁটছে? আমরা নিজেরাই, নাকি কোনো লুকানো শক্তি? বাইবেল আমাদের উত্তর দেয়হবা; অর্থাৎ আমরা। আজও কি আমাদের মণ্ডলীতে এমন নারী-পুরুষ দেখা যায় না, যারা ঈশ্বরের ইচ্ছার চেয়ে নিজের সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেয়? হয়তো আমারা সকলেই গির্জায় যাই, কিন্তু সত্যিই কি আমাদের জীবন ঈশ্বরের হাতে সমর্পিত?

আসলে, এই অবাধ্যতার পিছনে কলকাঠি নাড়ছে কে? শয়তান কি আজও আমাদের কানে ফিসফিস করে সেই একই প্রলোভন দিয়ে চলেছে? যেমনটা সে হবার সাথে করেছিল নাকি আমাদের নিজেদের দুর্বলতা, আমাদের ভেতরের লোভই আমাদের এই পথে ঠেলে দিচ্ছে? মনে রাখবেন, বাইবেল বলে ঈশ্বরের সমগ্র যুদ্ধসজ্জা পরিধান কর, যেন দিয়াবলের নানাবিধ চাতুরীর সম্মুখে দাঁড়াইতে পার” ইফিষীয় ৬ অধ্যায় : ১১ পদ আমরা কি সত্যিই তার প্রভাব অস্বীকার করতে পারি?

আধুনিক জীবনে, মানুষ প্রার্থনার চেয়ে বিনোদন, উপাসনার চেয়ে ব্যস্ততাকে বেছে নিচ্ছে। এটা শুধু একজন নয়, আমাদের মাঝে এক সমষ্টিগত দুর্বলতা, যা আমাদের ঈশ্বরের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এমনকি, মণ্ডলীতে পালকও অর্থের লোভে শৃঙ্খলা ভাঙতে পারেন! এই দুর্বলতা কী শুধুই তাঁর? নাকি আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে এই অবাধ্যতার বশীভূত?

তাহলে, অবাধ্যতার মূল চরিত্র কে? হবা, শয়তান, না আমরা? উত্তরটা হয়তো আমাদের নিজেদের দিকে তাকাতে বাধ্য করবে।

কীভাবে এই অবাধ্যতা আমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করে, এত নিঃশব্দে ঘটে যায় যে আমরা তা টের পাই না? কীভাবে শৃঙ্খলার সেই শক্তিশালী দেওয়াল, যা একদিন আমাদের বিশ্বাসকে রক্ষা করত, ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে? এটা কি কোনো দুর্ঘটনা, নাকি আমরা নিজেরাই এই ধ্বংসের কারিগর?

মনে করুন সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য—যাত্রাপুস্তক ৩২। মোশির অনুপস্থিতিতে ইস্রায়েল জাতি অধৈর্য হয়ে স্বর্ণমূর্তি তৈরি করল। তারা ঈশ্বরের আদেশ ভুলে গেল, তাদের হৃদয়ে এক নতুন দেবতার স্থান হলো। কীভাবে এটা ঘটল? তারা শৃঙ্খলা হারিয়েছিল, অপেক্ষা করতে ভুলে গিয়েছিল, বিশ্বাসের বদলে ভয়অস্থিরতাকে স্থান দিয়েছিল। আর সেই মুহূর্তে, অবাধ্যতা তাদের গ্রাস করল

আজকের দিনে আমরা সেই কি একই পথে হাঁটছি? কীভাবে আমরা ঈশ্বরের আদেশকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছার পিছনে ছুটছি? একটি মণ্ডলীতে প্রার্থনার সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ লোকেরা বলেছিল, “আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে।” প্রার্থনার সেই পবিত্র মুহূর্ত আজ হাতে গোনা কিছু গান আর সামান্য ঈশ্বরের বাক্যে সীমাবদ্ধ। এটা কি শিথিলতা নয়? এটা কি অবাধ্যতা নয়? যা আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনকে নষ্ট করছে

এই অবাধ্যতা আমাদের অজান্তে আমাদের হৃদয়ে বাসা বাঁধে, এক নীরব ঘাতকের মতো। আমরা হয়তো বলি, একদিন প্রার্থনা না করলে কী হবে?” বা “গির্জায় না গেলেও আমি বিশ্বাসী।” এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই আমাদের শৃঙ্খলা ভাঙার দিকে নিয়ে যায়। বাইবেল বলে, যে ক্ষুদ্রতম বিষয়ে বিশ্বস্ত, সে প্রচুর বিষয়েও বিশ্বস্ত।” লূক ১৬ অয়াধ্যায় : ১০ পদ। আমরা কি এই সতর্কবাণী শুনি? নাকি আমরা নিজেদের বোঝাই যে এই শিথিলতা ক্ষতিকর নয়?

কীভাবে আমরা এত সহজে এই ফাঁদে পড়ি? শয়তান কি আমাদের কানে ফিসফিস করে, তোমার নিজের পথ বেছে নাও?” নাকি আমাদের নিজেদের অলসতা, আমাদের অহংকারই আমাদের এই পথে ঠেলে দিচ্ছে? মনে রাখবেন বাইবেল বলে, সমস্ত রক্ষণীয় অপেক্ষা তোমার হৃদয় রক্ষা কর।” হিতোপদেশ ৪ অধ্যায় : ২৩ পদ। আমরা কি সতর্ক আছি? নাকি আমরা নিজেদের হাতে নিজেদের আত্মিক মৃত্যুর পথ প্রস্তুত করছি?

কখন এই অবাধ্যতার অন্ধকার আমাদের মাঝে প্রবেশ করল? কখন থেকে আমাদের হৃদয়ে শৃঙ্খলার সেই শক্তিশালী সুতো ছিঁড়ে যেতে শুরু করল, যা আমাদের ঈশ্বরের কাছে বেঁধে রাখত? এটা কি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে ঘটেছিল, নাকি এটা এমন এক ধীর প্রক্রিয়া, যা আমরা দেখতে পাইনি?

বাইবেল আমাদের এক উদাহরণ দেয়—১ শমূয়েল ১৫-এ রাজা শৌলের গল্প। ঈশ্বর তাকে আমালেকীয়দের সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে আদেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু শৌল কী তা করেছিলেন? উত্তরটি আপনারাই দিন। তিনি নিজের যুক্তি ঈশ্বরের আদেশের উপরে স্থান দিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, “আমি কিছু গবাদি পশু রেখে দেব, এটা ঈশ্বরের জন্য উৎসর্গ করব।” কিন্তু এই সিদ্ধান্ত তার জীবন পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াল। তাই ঈশ্বরের ইচ্ছার চেয়ে নিজের ইচ্ছাকে বড় করে দেখাটা আপনার ও আমাদের জীবনের বড়ো ভুল হয়ে দাঁড়াবেএই বিষয়ে বাইবেলে লেখা আছে, বলি দেওয়ার থেকে বাধ্য হওয়া ভালো।” ১ শমূয়েল ১৫ অধ্যায় : ২২ পদ ( বাংলা সমকালীন সংস্করণ )

আজকের মণ্ডলীতেও আমরা কি একই ভুল করছি না? কখন আমরা ঈশ্বরের কথা ভুলে যাই? যখন আমরা জীবনের ব্যস্ততায় ডুবে যাই? নাকি যখন বিপদ আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে? একটি পরিবারের গল্প শুনেছিলাম, যারা নিয়মিত গির্জায় যেত, কিন্তু আর্থিক সংকটে পড়ে প্রার্থনা ছেড়ে দিল। ধীরে ধীরে তাদের বিশ্বাস শিথিল হয়ে পড়ল। এটা কি শুধু তাদের গল্প? নাকি আমাদের সবার জীবনে এমন একটি “কখন” লুকিয়ে আছে?

কখন থেকে মণ্ডলী শৃঙ্খলা হারিয়েছে? আধুনিক যুগের সূচনায়, নাকি তারও আগে, যখন আমরা ঈশ্বরের কথাকে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতে শিখলাম? নতুন প্রজন্ম যখন পুরোনো নিয়মগুলোকে প্রশ্ন করতে শুরু করল, “কেন এত কড়াকড়ি?”—কখন এই প্রশ্ন অবাধ্যতায় রূপ নিল? যখন তারা শৃঙ্খলাকে দুর্বলতার চিহ্ন ভাবতে শুরু করল, এবং নিজেদের ইচ্ছাকে স্বাধীনতার নাম দিল

এই “কখন” আমাদের এক রহস্যের মুখোমুখি দাকরাই। শৌলের মতো, আমরাও কি সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যখন আমাদের পছন্দ আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে? বাইবেল বলে সকল বিষয়েরই সময় আছে।” উপদেশক ৩ অধ্যায় : ১ পদ। কিন্তু আমরা কি জানি, কখন আমাদের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে? প্রথমতওঃ প্রার্থনা এড়িয়ে যাওয়া, নাকি ঈশ্বরের কথার বদলে দুনিয়ার কথায় কান দেওয়া—কোনটা সেই মুহূর্ত?

কোথায় এই অবাধ্যতার শিকড় লুকিয়ে আছে, যা আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনকে বিষাক্ত করে তুলছে? কোথায় শৃঙ্খলার সেই শক্তিশালী ভিত ভেঙে পড়ছে, যা একদিন আমাদের বিশ্বাসকে অটুট রাখত? এটা কি আমাদের মণ্ডলীর দেয়ালে, আমাদের বাড়িতে, নাকি আমাদের হৃদয়ের গভীরে?

বাইবেল আমাদের এক ভয়ঙ্কর চিত্র দেখায়—গণনাপুস্তক ১৬-এ কোরহ, দাথন এবং অবীরামের বিদ্রোহ। কোথায় এই অবাধ্যতা জন্ম নিয়েছিল? ইস্রায়ে জাতির মাঝে, যেখানে ঈশ্বরের উপস্থিতি থাকার কথা ছিল। তারা মোশি ও হারোণের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়াল, বলল, “আমরাও ঈশ্বরের লোক।” কিন্তু এই সাহস কোথা থেকে এল? তাদের হৃদয়ে, যেখানে শৃঙ্খলার পরিবর্তে অহংকার আর বিদ্রোহ বাসা বেঁধেছিল। এর পরিণতি কী হল? মাটির গভীরে, ঈশ্বরের বিচারে পৃথিবী তাদের গ্রাস করল

আজকের দিনে আমরা কি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই? কোথায় এই অবাধ্যতা আমাদের গ্রাস করছে? গির্জার মধ্যে, যেখানে আমরা ঈশ্বরের কথা শুনতে আসি, কিন্তু বাইরে গিয়ে তা ভুলে যাই? একটি মণ্ডলীতে সদস্যরা একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল, নেতৃত্ব মানতে চায়নি। এই বিদ্রোহ জন্ম নিল তাদের মাঝে, যেখানে শৃঙ্খলার পরিবর্তে বিভেদ আর স্বার্থপরতা বড় হয়ে উঠল। এটা কি শুধু সেই মণ্ডলীর ঘটনা? নাকি আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন কোথায় একটি বিষবৃক্ষ লুকিয়ে আছে?

আমরা প্রত্যেকেই এক অন্ধকার যাত্রার মধ্য দিয়ে এসেছি। কে আমাদের মাঝে অবাধ্যতার বীজ রোপণ করছে—আমরা নিজেরাই, না শয়তানের অদৃশ্য হাত? কীভাবে এই বিষ আমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করছে? কখন এই শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ল? কোথায় এই অন্ধকার লুকিয়ে আছে?

এই প্রশ্নগুলো আমাদের এক ভয়ঙ্কর সত্যের মুখোমুখি দাড় করায়একদিকে অবাধ্যতা এবং অন্যদিকে শৃঙ্খলার অভাব আমাদের জীবনে এনেছে এক গভীর শূন্যতা, যা আমাদের ঈশ্বর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নাকি আমাদের কানে অবাধ্যতার এক পর্দা পড়েছে, যা সত্যকে আমাদের থেকে আড়াল করে রেখেছে?

অবাধ্যতার পরিণতি ভয়াবহ। আদম ও হবা ঈশ্বরের সান্নিধ্য হারাল, শৌল তার রাজত্ব, কোরহ তার জীবন। আর আমরা? আমরা কী হারাব? আমাদের বিশ্বাস, আমাদের শান্তি, না আমাদের অনন্ত আশা? এই শিথিলতা আমাদের এক ফাঁদে ফেলেছে, যেখানে প্রার্থনা ম্লান হয়ে যায়, উপাসনা ফাঁকি দেওয়া হয়, আর হৃদয়ে ঈশ্বরের স্থান দখল করে নেয় দুনিয়া

কেন আমরা এই ফাঁদে পড়ছি? আসল কারণ হোল আমরা শৃঙ্খলাকে ভয় পাই, এবং সেই ভয় আমাদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আপনি কি আপনার জীবনে ও মণ্ডলীর চারপাশে এই ধরণের ফাঁদের শিকল দেখতে পাচ্ছেন?

তবু, এই অন্ধকারের মাঝেও এক আলো জ্বলছে। বাইবেল বলে, যদি আমরা আপন আপন পাপ স্বীকার করি, তিনি বিশ্বস্ত ও ধার্মিক।” ১ যোহন ১ অধ্যায় : ৯ পদ শৃঙ্খলায় ফিরে আসার পথ এখনো খোলা আছে—প্রার্থনায়, আনুগত্যে, আর ঈশ্বরের কাছে নিজেদের সমর্পণ করে

শেষ প্রশ্নটি আপনার জন্য: আপনি কি সময় থাকতে জেগে উঠবেন, নাকি এই অন্ধকারে চিরতরে হারিয়ে যাবেন? অবাধ্যতা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আপনি কী করবেন? ঈশ্বরের দিকে হাত বাড়াবেন, নাকি অন্ধকারে ডুবে যাবেন? সিধান্ত আপনার। সময় ফুরিয়ে আসছে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...