সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মণ্ডলীর মেষ চুরি ! ঈশ্বরের চোখে পাপ ও অভিশাপ | কে দায়ী ? আধ্যাত্মিক মৃত্যু ও পরিণতি জানুন | Stealing the sheep of the church! Sin and curse in the eyes of God | Who is responsible? Learn about spiritual death and its consequences

 নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা,

আজ আমরা খ্রীষ্টীয় সমাজের মধ্যে একটি গুরুতর সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব, যা মণ্ডলীর ঐক্য এবং আত্মিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিষয়টি হল “মেষ চুরি”

মেষ চুরি বলতে আমরা সাধারণত বুঝি, এক মণ্ডলীর সদস্যদের অন্য মণ্ডলীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রলোভন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, অথবা কিছু বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আকর্ষণ করা। এই কাজটি বর্তমানে খ্রীষ্টীয় সমাজে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিভিন্ন মণ্ডলীর মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করছে

বাইবেল এই বিষয়ে কী বলে? আসুন, আমরা বরং সেটাই জানার চেষ্টা করি

বাইবেলে “মেষ”, “মণ্ডলী” ও “মেষপালক” এই শব্দগুলি খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসীদের জীবনে বিশেষ অর্থ বহন করে। প্রভু যীশু খ্রীষ্ট নিজেকে “মেষপালক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যিনি তাঁর মেষদের রক্ষা করেন। যোহন ১০ অধ্যায় : ১১ পদে লেখা আছে, “ আমিই উত্তম মেষপালক; উত্তম মেষপালক মেষদের জন্য আপন প্রাণ সমর্পণ করে

কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, আজ অনেক মেষপালক তাদের দায়িত্ব পালন না করে বরং অন্য মণ্ডলী মেষ চুরি করছেন। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য মেষদের বিপথে চালিত করছেন

বাইবেলে এই ধরনের মেষপালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ২ তীমথিয় ৩ অধ্যায় : ৬ থেকে ৭ পদে লেখা আছে, “ইহাদেরই মধ্যে এমন লোক আছে, যাহারা ছলপূর্বক গৃহে গৃহে প্রবেশ করিয়া পাপে ভারাক্রান্ত ও নানাবিধ অভিলাষে চালিত যে স্ত্রীলোকেরা সতত শিক্ষা করে, তথাপি সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছিতে পারে না, তাহাদিগকে বন্দি করিয়া ফেলে।”

এই বাক্যটি খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। সর্বদা আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং আত্মিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে, যাতে আমরা এই ধরনের প্রলোভনে না পড়ি

মণ্ডলীর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাইবেল অনুযায়ী, ঈশ্বরের উদ্দেশ্য হল তাঁর লোকেদের মধ্যে একতা প্রতিষ্ঠা করা। ইফিষীয় ৪ অধ্যায় : ৩ পদে লেখা আছে, “প্রেমে পরস্পর ক্ষমাশীল হও, শান্তির যোগবন্ধনে আত্মার ঐক্য রক্ষা করিতে যত্নবান হও।” যখন বিশ্বাসী সদস্যরা একত্রিত হয় এবং একে অপরকে সমর্থন করে, তখন তারা অধিকতর শক্তিশালী হয় এবং আত্মিকভাবে উন্নতি লাভ করে

মেষ চুরি শুধু মাত্র সদস্যদের শারীরিকভাবে অপসারণ করে না, বরং তাদের আত্মিক সুস্থতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। যখন একজন খ্রীষ্ট বিশ্বাসী অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তারা ঈশ্বরের পরিকল্পনা থেকে দূরে সরে যায়

মেষ চুরি একটি গুরুতর সমস্যা, যা খ্রীষ্টীয় সম্প্রদায়ের ঐক্য এবং আত্মিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাইবেল এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে এবং সতর্কতা জারি করে যে, সদস্যদের সর্বদা একত্রিত থাকতে হবে এবং একে অপরকে সঠিক ভাবে সমর্থন করতে হবে


মেষ চুরির পেছনে মূলত তিনটি উদ্দেশ্য কাজ করে :

১. মণ্ডলীর আকার বৃদ্ধি করা : অনেক মণ্ডলীর পালক মনে করেন যে, একটি বড় মণ্ডলী মানেই সেটি সফল মণ্ডলী। তাই তারা অন্য মণ্ডলীর সদস্যদের বিভিন্ন প্রলোভনের দ্বারা আকর্ষণ করতে চান

২. অর্থনৈতিক সুবিধা : বৃহৎ মণ্ডলীর ক্ষেত্রে ঈশ্বরের উদ্দেশে দেওয়া উপহার ও দশমাংশ কিছু মণ্ডলীর পালকদের জন্য প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়

৩. আত্মিক অহংকার : কিছু ক্ষেত্রে, মেষ চুরি মণ্ডলীর পালকদের ব্যক্তিগত সাফল্য এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে

বাইবেল এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে সতর্ক করেছে। সাধু পৌল প্রেরিত ২০ অধ্যায় : ২৮ থেকে ৩০ পদে বলেছেন, “তোমরা আপনাদের বিষয়ে সাবধান, এবং পবিত্র আত্মা তোমাদিগকে অধ্যক্ষ করিয়া যাহার মধ্যে নিযুক্ত করিয়াছেন, সেই সমস্ত পালের বিষয়ে সাবধান হও, ঈশ্বরের সেই মণ্ডলীকে পালন কর, যাহাকে তিনি নিজ রক্ত দ্বারা ক্রয় করিয়াছেন। আমি জানি, আমি গেলে পর দুরন্ত কেন্দুয়ারা তোমাদের মধ্যে প্রবেশ করিবে, পালের প্রতি মমতা করিবে না; এবং তোমাদের মধ্য হইতেও কোন কোন লোক উঠিয়া শিষ্যদিগকে আপনাদের পশ্চাৎ টানিয়া লইবার জন্য বিপরীত কথা কহিবে।”

একই সাথে প্রভু যীশু যোহন ১০ অধ্যায় : ১০ পদে বলেছেন, “চোর আইসে, কেবল যেন চুরি, বধ ও বিনাশ করিতে পারে; আমি আসিয়াছি, যেন তাহারা জীবন পায় ও উপচয় পায়।”

মেষ চুরির ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকে শুরু হয়েছে। প্রাচীন ইস্রায়েলের সময় থেকেই মেষ চুরির ধারণা বিদ্যমান ছিল। যিরমিয় ২৩ অধ্যায় : ১ থেকে ২ পদে উল্লেখ করা হয়েছে, “সদাপ্রভু কহেন, ধিক্‌ সেই পালকদিগকে যাহারা আমার পালের মেষদিগকে নষ্ট ও ছিন্নভিন্ন করে। এই জন্য সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, যে পালকেরা আমার প্রজাগণকে চরায়, তাহাদের বিরুদ্ধে এই কথা কহেন, তোমরা আমার মেষদিগকে ছিন্নভিন্ন করিয়াছ, তাহাদিগকে তাড়াইয়া দিয়াছ, তাহাদের তত্ত্বাবধান কর নাই; দেখ, আমি তোমাদের আচরণের দুষ্টতার প্রতিফল তোমাদিগকে দিব, ইহা সদাপ্রভু কহেন।”

প্রেরিতদের যুগেও মণ্ডলীতে বিভাজন ও মিথ্যা শিক্ষার প্রভাব ছিল। সাধু পৌল ২ তীমথিয় ৪ অধ্যায় : ৩ থেকে ৪ পদে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, “কেননা এমন সময় আসিবে, যে সময় লোকেরা নিরাময় শিক্ষা সহ্য করিবে না, কিন্তু কানচুল্‌কানি-বিশিষ্ট হইয়া আপন আপন অভিলাষ অনুসারে আপনাদের জন্য রাশি রাশি গুরু ধরিবে, এবং সত্য হইতে কান ফিরাইয়া গল্পের দিকে বিপথে যাইবে।” আধুনিক কালেও মেষ চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে, এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে

মেষ চুরি একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা, যা শুধু মাত্র স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে চলেছে, বিশেষ করে যেখানে বড় বড় মণ্ডলী বা সম্প্রদায় বিদ্যমান

এখন প্রশ্ন হলো কারা এই মেষ চুরি করছে ? বাইবেল বিশেষত মিথ্যা শিক্ষকদের সম্পর্কে কঠোর ভাবে সতর্ক করেছে। যারা বাইবেলের সত্যকে বিকৃত করে নিজেদের স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে কিছু এমন ভাক্ত প্রচারক এবং ভাক্ত ভাববাদী ও ভাক্ত আরোগ্যতা প্রদানকারী ঈশ্বরের মনোনীত লোক হওয়ার মুখোস পরে খ্রীষ্টীয় সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে বসে আছে, যারা বাইবেলের ভুল শিক্ষার দ্বারা এবং বিভিন্ন প্রলোভন, ভাক্ত ভাববাদী স্বরূপ আচরণ করে এবং মিথ্যা ধ্যাত্মিকতার মুখোশ পরে অন্য মণ্ডলীর মেষেদের চুরি করে থাকে যারা বর্তমান সময়ে খ্রীষ্টীয় সমাজে ঈশ্বরের পরের স্থান অধিগ্রহণ করেছে।


সত্যিকারের মেষপালকরা নিজেদের স্বার্থের জন্য নয়, বরং মেষদের আত্মিক মঙ্গলের জন্য কাজ করেন। ১ পিতর ৫ অধ্যায় : ২ থেকে ৩ পদে লেখা আছে, “তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরের যে পাল আছে, তাহা পালন কর; অধ্যক্ষের কার্য কর, আবশ্যকতা প্রযুক্ত নয়, কিন্তু ইচ্ছাপূর্বক, ঈশ্বরের অভিমতে, কুৎসিত লাভার্থে নয়, কিন্তু উৎসুক ভাবে কর; নিরূপিত অধিকারের উপরে কর্তৃত্বকারীরূপে নয়, কিন্তু পালের আদর্শ হইয়াই কর।”

মণ্ডলীর একতা রক্ষা করা খুবই জরুরি বিষয়১ করিন্থীয় ১ অধ্যায় : ১০ পদে লেখা আছে, “কিন্তু হে ভ্রাতৃগণ, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে আমি তোমাদিগকে বিনয় করিয়া বলি, তোমরা সকলে একই কথা বল, তোমাদের মধ্যে দলাদলি না হউক, কিন্তু এক মনে ও এক বিচারে পরিপক্ব হও।” প্রত্যেক মণ্ডলীতে প্রকৃত আত্মিক নেতৃত্বে প্রয়োজন। একজন সত্যিকারের মেষপালকের দায়িত্ব হল আত্মিকভাবে মণ্ডলীর সদস্যদের সুরক্ষা এবং বাইবেল ভিত্তিক সঠিক নির্দেশনা দেওয়া

পাঠাক বন্ধুরা, মেষ চুরি একটি প্রকট সমস্যা। আমাদের এই বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং মণ্ডলীর ঐক্য ও আত্মিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য কাজ করতে হবে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...