আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা ভাবনা মণ্ডলীর অধ্যাত্মিক পথের বাধা বাইবেলের বিশ্লেষণ ও দৃষ্টিভঙ্গি | Self-centered thinking is an obstacle to the spiritual path of the church. Biblical analysis and perspective
.png)
জগতের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের ফলে কোন বিশ্বাসী ব্যক্তি এবং মণ্ডলী তাদের অধ্যাত্মিক মূল্যবোধ হারাতে পারে। আধুনিক সমাজে, যেখানে বাহ্যিক সাফল্য ও ভোগবাদী জীবনধারা অধিক গুরুত্ব পায়, সেখানে মণ্ডলীর সদস্যরা তাদের অধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যগুলি ভুলে যেতে শুরু করে। এই প্রবণতা শুধুমাত্র কোনও বিশ্বাসী ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধ্যাত্মিক অবক্ষয় নয়, বরং সামগ্রিকভাবে মণ্ডলীর অধ্যাত্মিক অবক্ষয়ের কারণও হতে পারে। যা এক কথায় অধ্যাত্মিক শিথিলতাও বলা যেতে পারে।
প্রকাশিত বাক্য ৩ অধ্যায় : ১৫ থেকে ১৬ পদে উল্লেখ আছে, “আমি জানি তোমার কার্য সকল, তুমি না শীতল না তপ্ত; তুমি হয় শীতল হইলে, নয় তপ্ত হইলে ভাল হইত। এইরূপে তুমি
ঈষদুষ্ণ, না তপ্ত না শীতল, এই জন্য আমি নিজ মুখ হইতে তোমাকে বমন করিতে উদ্যত হইয়াছি।” এখানে ঈশ্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মণ্ডলীতে যদি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে পুরোপুরি ভাবে সাধন না হয় এবং জাগতিক বিষয়ের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়, তবে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এই বাক্যটি সুনির্দিষ্ট ভাবে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত ও নিষ্ঠাবান এবং জগত থেকে পৃথক থাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের কখনোই ভুলে গেলে চলবে না প্রথম শতাব্দীতে মণ্ডলীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল জাগতিক বিষয়গুলি থেকে পৃথক থাকা। তারা নিজেদের জীবনযাত্রা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের ঐশ্বরিক পরিকল্পনার জন্য সম্পূর্ণ নিবেদিত ছিলেন। কিন্তু রোম সাম্রাজ্যের সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেক মণ্ডলী জাগতিক বিষয়গুলির সাথে আপস করতে শুরু করে; যার পরিণতি, তাদের অধ্যাত্মিক পতন হয়। এই ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, এই বিশ্বসংসারের প্রভাব থেকে নিজেদের ও মণ্ডলীকে রক্ষা করা কতটা আবশ্যক। এই আপোষ কামী তাই হলো শিথিলতার অন্যতম কারণ।
এখন প্রশ্ন হল বাইবেলের মতে ‘আত্মকেন্দ্রিকতা’
কাকে বলে ? আত্মকেন্দ্রিকতা হলো এমন একটি মানসিকতা, যেখানে ব্যক্তি বা মণ্ডলী নিজেদের প্রয়োজনের প্রতি এতটাই মনোযোগী হয়ে ওঠে যে,
ঈশ্বরের প্রাধান্য তাদের কাছে গুরুত্ব হারায়। যখন মণ্ডলীর
মধ্যে ও ব্যক্তিগত জীবনে এই ধরনের মানসিকতা দেখা দেয়, তখন সেটি ধীরে ধীরে ঈশ্বরের নির্দেশনাগুলো উপেক্ষা করতে
শুরু করে এবং জাগতিক চাহিদার সঙ্গে নিজেদের গা ভাসিয়ে দেয়।
বর্তমান সময়ে কিছু মণ্ডলী জাগতিক
জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, মন্ডলীতে ঈশ্বরের
প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন না করা এবং একই সাথে মন্ডলীতে পোশাক-আশাকের প্রতি
গুরুত্ব না দেওয়া।
কোন মণ্ডলী যখন জাগতিক বিষয়গুলির সঙ্গে আপস করতে শুরু করে, তখন তাদের মূল খ্রীষ্টীয়
আদর্শের থেকে বিচ্যুতি ঘটে। এই প্রক্রিয়ায়, মণ্ডলীর
সদস্যরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি অবিচল
থাকার পরিবর্তে, বিভিন্নও জাগতিক কারণে নিজেদের অধ্যাত্মিক নীতি
পরিবর্তনের শিকার হন। ফলে, তারা ধীরে ধীরে
শয়তানের সুচতুর পাতা ফাঁদে নিজেদের অজান্তেই জড়িয়ে পরে।
মণ্ডলীর আত্মকেন্দ্রিকতার লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, তাদের আচরণ ও চিন্তা ভাবনায় জাগতিক প্রভাব। যখন মণ্ডলী জাগতিক হয়ে ওঠে, তখন তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, ভোগবিলাস এবং স্বার্থপরতা বৃদ্ধি পায়। এটি তাদের মধ্যে ঐক্যহীনতা সৃষ্টি করে এবং তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক পরিচয়কে ভুলে যেতে শুরু করে। এর ফল স্বরূপ তারা ঈশ্বরের বাক্যের থেকে দূরে সরে যায়। আর এই কারণেই মণ্ডলীর অধ্যাত্মিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারে আচ্ছন্ন হতে শুরু করে।
আয়ারল্যান্ডের বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ সি. এস. লুইস তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “The Screwtape Letters”( স্ক্রুটেপ লেটারস ) এ উল্লেখ করেছেন যে, “দুর্বল বিশ্বাসীদের জন্য শয়তানের প্রধান অস্ত্র হল তাদের
মনোযোগ জাগতিক বিষয়ের দিকে সরিয়ে নেওয়া।” এই
বক্তব্যটি বিশেষভাবে মণ্ডলীর সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য, যারা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে জাগতিক বিষয়গুলির প্রতি অতিমাত্রায় মনোযোগ দেয়।
.png)
.png)
.png)
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন