‘ ঈশ্বরের বাক্য ’ অর্থাৎ বাইবেলের বিষয়বস্তু বোঝা কেন এত কঠিন ? Why is it so difficult to understand the content of the 'God's Word' ?
আমরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন ভাবে ঈশ্বরের বাক্য অর্থাৎ বাইবেলের বিভিন্ন অধ্যায় বা পদ গুলিকে বোঝার চেষ্টা করি। এমনকি মণ্ডলীর ইতিহাসের প্রায় 2,000 বছর পরেও এমন কিছু বাইবেলের বাক্য বা অধ্যায় রয়েছে যা সুনির্দিষ্ট ভাবে বাইবেলের পণ্ডিতরা আজও সঠিক ভাবে বুঝে উঠতে পারেননি। এখন প্রশ্ন হল বাইবেলের বিষয়বস্তু বোঝা কেন এত কঠিন ? বাইবেলকে সঠিকভাবে বাইবেলের মতো করে বোঝার জন্য কেন এত সংগ্রাম করতে হয় ? এই সকল প্রশ্নের উত্তর জানার আগে, এই বিষয়টি স্পষ্ট করা আবশ্যক যে “ ঈশ্বর তাঁর বাক্যকে অস্পষ্ট বা কঠিন করে প্রকাশ করেননি। তাঁর মুখনিঃসৃত বাক্য স্বচ্ছ ও পরিষ্কার।”
Ø
অতি সাধারণ একটি কারণ
ঈশ্বরের বাক্য অর্থাৎ বাইবেল কখনও কখনও বোঝা কঠিন হয়ে ওঠে তার কারণ হল,
আমরা সকলেই পাপে পতিত মানুষ - পাপের মেঘ আমাদের কে এমন ভাবে আচ্ছাদন করে রেখেছে যার
ফলে আমরা আমাদের মতো করে ঈশ্বরের বাক্য কে বুঝবার চেষ্টা করি আর যখন সেটা করি ঠিক তখনই
একই ঈশ্বরের বাক্য কঠিন থেকে আরো কঠিনতর হয়ে ওঠে।
ঠিক এমনই বেশ কিছু কারণ রয়েছে যা মাঝে মাঝে বাইবেলের বাক্য কে বুঝতে কঠিন করে তোলে। প্রথমত, বাইবেলে সময় এবং সংস্কৃতির পার্থক্য রয়েছে। আপনি বাইবেলের কোন অংশ অধ্যয়ন করছেন তার উপর নির্ভর করে, বাইবেলের ওই অংশটি কোন সময় লেখা হয়েছে ? কেন লেখা হয়েছে ও কাদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে, অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ও উদ্দেশ্য। আমাদের মনে রাখতে হবে; যে সময় ও সংস্কৃতিতে বাইবেল লেখা হয়েছিল তা বর্তমানের অধিকাংশ সংস্কৃতির থেকে অনেকাংশেই আলাদা ছিল। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, বাইবেল অধ্যায়ন করার সময়, আমরা বাইবেল লেখার স্থান, কাল, পাত্র ও উদ্দেশ্য কে সরিয়ে ফেলি এবং তারপরে বাইবেল যে সংস্কৃতিতে লেখা হয়েছিল তা বুঝতে চেষ্টা করি।
দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ বাইবেলে
অনেক কিছুর মিশ্রণ আছে যেমন ইতিহাস সাহিত্য, আইন, কবিতা, গান, প্রজ্ঞা, ভবিষ্যদ্বাণী,
ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, এবং ‘ অ্যাপোক্যালিপ্টিক সাহিত্য ’ ( Apocalyptic
literature / সর্বনাশের পূর্বাভাস বা প্ৰলয়ের ভবিষ্যদর্শন ) ইত্যাদি। ঐতিহাসিক সাহিত্যকে
প্রজ্ঞার সাহিত্য থেকে ভিন্নভাবে দেখতে, বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে হবে। কবিতাকে অ্যাপোক্যালিপ্টিক
লেখার মতো করে বোঝা যায় না। নতুন নিয়মে লেখা কোন ব্যক্তিগত চিঠি, আজ আমাদের জন্য অনেক
অর্থবহ হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমানে আমাদের কাছে সঠিক প্রয়োগ নাও হতে পারে; যেমনটি সেই
ব্যক্তি(দের) যাকে লেখা হয়েছিল। এইরকম বিভিন্ন বিভ্রান্তি এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর
জন্য বাইবেলের নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে। তাই বাইবেলের নিজস্ব ইতিহাস কে জানা ও এই ইতিহাসের
প্রেক্ষাপটের সত্যতা কে স্বীকার করতে হবে।
বাইবেলের বাক্যকে বাইবেলের মতো করে বোঝা সত্যিই কখনও কখনও খুবই দুর্বোধ
হয়ে ওঠে। আবার এই কঠিন কাজটাই পবিত্র আত্মার সাহায্যে সহজ হয়ে ওঠে। আমাদের মনে রাখার
বিষয় হল, আমরা যদি প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করি, তাহলে নিশ্চিত ভাবেই ঈশ্বরের
আত্মা অর্থাৎ পবিত্র আত্মা আমাদের মধ্যে অধিষ্ঠিত আছে। “ কিন্তু তোমরা মাংসের অধীনে
নও, আত্মার অধীনে রহিয়াছ, যদি বাস্তবিক ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের মধ্যে বাস করেন। কিন্তু
খ্রীষ্টের আত্মা যাহার নাই, সে খ্রীষ্টের নয়।” ( রোমীয় ৮ অধ্যায় : ৯ পদ )। আবার
২ তীমথিয় ৩ অধ্যায় : ১৬ থেকে ১৭ পদ আমাদের বলে, “ ঈশ্বর-নিশ্বসিত প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি
আবার শিক্ষার, অনুযোগের,
সংশোধনের, ধার্মিকতা সম্বন্ধীয় শাসনের নিমিত্ত উপকারী, যেন ঈশ্বরের লোক পরিপক্ব, সমস্ত সৎকর্মের
জন্য সুসজ্জিভূত হয়।” এই একই ঈশ্বর যিনি আপনার মধ্যে বাস করেন এবং আপনি যদি তাঁর
উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করেন তবে তাঁর কথার সত্যতা এবং বাস্তবতা বোঝার জন্য তিনিই আপনার
হৃদয় খুলে দেবেন। আবার এর মানে এই নয় যে, ঈশ্বর সর্বদাই সব কিছু সহজ করে দেবেন। ঈশ্বর
চান আমরা যেন তাঁর মুখনিঃসৃত বাক্যের অনুসন্ধান করি, যেন এরই মধ্যে লুকিয়ে থাকা ঈশ্বরের
আশীর্বাদ স্বরূপ ধন আমরা পেতে পারি। বাইবেল বোঝা সবসময় সহজ বোধ্য নয়, কিন্তু এই কঠিন
কাজটাই একমাত্র ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও প্রজ্ঞার দ্বারা সহজ ভাবে বোঝা সম্ভব। “ যদি তোমাদের
কাহারও জ্ঞানের অভাব হয়, তবে সে ঈশ্বরের কাছে যাচ্ঞা করুক; তিনি সকলকে অকাতরে দিয়া
থাকেন, তিরস্কার করেন না; তাহাকে দত্ত হইবে।” ( যাকোব ১ অধ্যায় : ৫ পদ )


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন