ভূত বলে আদেও কিছু কি আছে ? এটি এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর নিয়ে অনেক মতপার্থক্য আছে ও হবে। যাইহোক আমরা চেষ্টা করবো বাইবেল ভিত্তিক উত্তর জানতে।
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে “ ভূত ” শব্দটি দ্বারা সঠিকভাবে কী বোঝানো
হয় তার উপর নির্ভর করে। যদি শব্দটির অর্থ “আত্মা” হয় তবে উত্তরটি হ্যাঁ। বাইবেল নির্দিষ্ট
ভাবে বলে যে আত্মিক প্রাণী আছে, তাঁদের মধ্যে ভাল এবং মন্দ উভয়ই আছে। কিন্তু বাইবেল
এই ধারণাকে অস্বীকার করে যে মৃত মানুষের আত্মা এই পৃথিবীতে থাকতে পারে এবং জীবিতদেরকে
“ বিরক্ত ” করতে পারে।
বাইবেল আমাদের বলে “ মনুষ্যের নিমিত্ত একবার মৃত্যু, তৎপরে বিচার নিরূপিত
আছে,” ( ইব্রীয় ৯ অধ্যায় : ২৭ পদ )। মৃত্যুর পরে একজন ব্যক্তির আত্মা বিচারের জন্য
অপেক্ষা করে। এই বিচারের ফল হল একজন বিশ্বাসীর জন্য স্বর্গ, অর্থাৎ একজন প্রকৃত বিশ্বাসীর
মৃত্যুর পর তাঁর আত্মা পরম দেশে অপেক্ষায় থাকে এবং অবিশ্বাসীদের জন্য নির্ধারিত স্থান
নরক ( লূক ১৬ অধ্যায় : ২২ থেকে ২৪ পদ )। এই সকল কিছুর মধ্যে আত্মা “ ভূত ” আকারে পৃথিবীতে
থাকার কোন সম্ভাবনা নেই। বাইবেল অনুসারে যদি ভূত বলে কিছু থাকে তবে তারা কোনোভাবেই
মৃত মানুষের দেহত্যাগী আত্মা হতে পারে না।
বাইবেল সুনির্দিষ্ট ভাবে আমাদের বলে যে, প্রকৃতপক্ষে আত্মিক প্রাণী রয়েছে
যারা আমাদের ভৌত জগতের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে এবং বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত হতে পারে।
বাইবেল এই সকল প্রাণীদের স্বর্গদূত এবং ভূত হিসাবে চিহ্নিত করে। এই স্বর্গদূতরা হলেন
আত্মিক প্রাণী, যারা ঈশ্বরের সেবায় নিবিষ্ট ও বিশ্বস্ত। স্বর্গদূতরা ধার্মিক, ভাল
এবং পবিত্র। ভূত হল পতিত স্বর্গদূত, যারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল; যাকে লুসিফার
বলা হয়। এই লুসিফার হল ছলকারী,প্রতারক, বিরোধকারী এবং ধ্বংসাত্মককারী। ২ করিন্থীয় ১১
অধ্যায় : ১৪ থেকে ১৫ পদ অনুসারে, ভূতেরা “ আলোর দূত ” এবং “ ধার্ম্মিকতার দাস ” হিসাবে
মুখোশ পরে। এই লুসিফার একটি ভূত হিসাবে আবির্ভূত হওয়া এবং একজন মৃত মানুষের ছদ্মবেশ
ধারণ করা অবশ্যই ভূতের নিজ শক্তি এবং ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।
শয়তানরা শুধুমাত্র “ হত্যা, চুরি এবং ধ্বংস ” করতে চায়। মানুষকে প্রতারিত
করার জন্য, মানুষকে ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা তাদের ক্ষমতার মধ্যে
যা কিছু করা সম্ভব তা তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। আজকের দিনে দাড়িয়ে এটি সম্ভবত ভুতুড়ে
কার্যকলাপের ব্যাখ্যা। এটাকে ভূত বলা হোক, পিশাচ বলা হোক বা শয়তানই বলা হোক না কেন,
যদি সত্যিকারের অশুভ কার্যকলাপ ঘটে, তবে তা ভূতের কাজ।
এবার একটু বাস্তবের দিকে লক্ষ্য করা যাক; আমরা আগেই বলেছি বাইবেল বলে “
মৃত্যুর পর বিচার ” অর্থাৎ কোন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর আত্মা কোন ভাবেই এই পৃথিবীতে
থাকতে পারেনা। কিন্তু যে সকল লোকজন এই ভূত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ কর্ম করে তাঁদের
মতে বাইবেলের এই ধারনা অনেক অংশেই বাস্তবের সাথে মিল নেই। হিন্দু শাস্ত্র মতে যারা
পিশাচ সিদ্ধ, খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী যে সকল লোকজন ভূতের পাস্টার বলে পরিচিত, মুসলিম ধর্মাবলম্বী
দের মধ্যে যারা জিন বিশেষজ্ঞ তাঁদের মত ভিন্ন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন