সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রভুর ভোজ দেওয়ার জন্য কে উপযুক্ত ? who is suitable to give the lord's supper ?

প্রভুর ভোজ হল খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এটি প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের স্মরণার্থে পালন করা হয়। সারা বিশ্বব্যাপী খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা এই বিষয়ে একমত যে প্রভুর ভোজ যীশু খ্রীষ্ট দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তাঁর অনুসারীদের দ্বারা প্রত্যেক চার্চে এটি একটি অধ্যাদেশ হিসাবে পালন করা হয়। প্রভুর ভোজের জন্য খ্রীষ্ট বিশ্বারা রুটি এবং দ্রাক্ষারস পান করে, যাকে প্রভু যীশুর দেহ এবং রক্তের প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। করিন্থীয় মন্ডলীতে সাধু পৌল প্রভুর ভোজ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। যা আমরা ( ১ করিন্থীয় ১১ অধ্যায় : ২৩ থেকে ৩২ পদে ) দেখতে পাই। সাধু পৌল পরবর্তী সময়ে তীমথিয়কে চার্চের নেতা, বিশপ এবং ডিকনদের যোগ্যতা সম্পর্কে লিখেছিলেন। যা আমরা ( ১ তীমথিয় ৩ অধ্যায় : ১ থেকে ১৩ পদে ) দেখতে পাই।


প্রভু যীশু মণ্ডলীর মস্তক ( ইফিষীয় ৫ অধ্যায় : ২৩ পদ ), তিনি আমাদের দেখিয়েছেন ও শিখিয়েছেন কি ভাবে এই পবিত্র ভোজে অংশ গ্রহণ করতে হবে। মথি ২৬ অধ্যায় : ২৬ থেকে ২৮ পদ; মার্ক ১৪ অধ্যায় : ২২ থেকে ২৪ পদ; লূক ২২ অধ্যায় : ১৭ থেকে ২০ পদ গুলি লক্ষ্য করলে একটা বিষয় পরিস্কার যে, অভিষেক প্রাপ্ত ব্যক্তিই এই ভোজ ভাগ করে দেওয়ার উপযুক্ত।

প্রভুর ভোজ দেওয়ার জন্য, একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই একজন খ্রীষ্ট বিশ্বাসী হতে হবে। তাকে অবশ্যই প্রভু যীশুর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের অর্থ বুঝতে হবে এবং তাকে এই অনুষ্ঠানের গুরুত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ১ করিন্থীয় ১১ অধ্যায় : ২৭ পদে সাধু পৌল বলেছেন, “ অতএব যে কেহ অযোগ্যরূপে প্রভুর রুটি ভোজন কিম্বা পানপাত্রে পান করিবে, সে প্রভুর শরীরের ও রক্তের দায়ী হইবে।”


এই অংশটি থেকে বোঝা যায় যে, প্রভুর ভোজ দেওয়ার ও গ্রহণ করার জন্য একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই নিম্নলিখিত বিষয়গুলি পূরণ করতেই হবে :

১) তাঁকে একজন খ্রীষ্টান হতে হবে।

২) তাঁকে প্রভু যীশুর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের প্রকৃত অর্থ বুঝতে হবে।

৩) তাঁকে এই অনুষ্ঠানের গুরুত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

৪) তিনি কোনও গুরুতর পাপের মধ্যে জড়িত থাকতে পারবেন না।

যদি একজন ব্যক্তি এই বিষয়গুলি সম্পূর্ণ পূরণ করে, তাহলে তিনি প্রভুর ভোজ দিতে উপযুক্ত।

এছাড়াও কিছু অতিরিক্ত বিষয় রয়েছে যা একজন ব্যক্তি প্রভুর ভোজ দিতে উপযুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করতে বিবেচনা করা যেতে পারে :

১) তিনি কি নিয়মিত মণ্ডলীতে যোগদান করেন ?

২) তিনি কি অন্যদের প্রতি ভালোবাসা এবং সহানুভূতি দেখান ?

৩) তিনি কি প্রভু যীশুর নির্দেশাবলী অনুসরণ করেন ?

একজন ব্যক্তি প্রভুর ভোজ দিতে উপযুক্ত কিনা তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও হতে পারে। তবে, এই বিষয়গুলি ভালো ভাবে বিবেচনা করলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে যে, যে ব্যক্তি এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালোনা করবেন তিনি আদেও প্রস্তুত কিনা।


সার্বিকভাবে আমরা বলতে পারি যে, মণ্ডলীর ক্ষেত্রে মনোনীত ও অভিষেক প্রাপ্ত ডিকন, পাস্টার বা বিশপ যারা চার্চের নেতৃত্বের দায়িত্তে আছেন তারাই “ প্রভুর ভোজ ” দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি। যদিও এই বিষয়ে বাইবেলের কোথাও নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ নেই; কে এই প্রভুর ভোজ দেওয়ার উপযুক্ত ?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...