পবিত্র আত্মার পূর্ণতা পেতে গেলে সবার আগে জানতে হবে পবিত্র আত্মা কে ? বাইবেল বলে পবিত্র আত্মা হলেন “ সত্যের আত্মা ” অর্থাৎ পিতা ঈশ্বর ও পুত্র ঈশ্বরের আত্মা একযোগে সত্যের আত্মা বা পবিত্র আত্মা। পবিত্র আত্মা কক্ষনোই ঈশ্বরের ও পুত্রের আত্মা অর্থাৎ প্রভু যীশুর আত্মা বিহীন নয়। তিনে মিলে এক ও একে মিলে তিন; এক কথায় ত্রিত্ত ঈশ্বর।
পবিত্র আত্মার পূর্ণতা বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য হল যোহন ১৪ অধ্যায় : ১৬ পদ, যেখানে প্রভু যীশু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, “ আর আমি পিতার নিকটে নিবেদন করিব, এবং তিনি আর এক সহায় তোমাদিগকে দিবেন, যেন তিনি চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকেন; তিনি সত্যের আত্মা।” পবিত্র আত্মা কিছু নির্বাচিত বিশ্বাসীর জন্য নয়, কিন্তু সমস্ত খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের জন্য। পবিত্র আত্মার পূর্ণতা পেতে হলে একটি বিষয় সম্পর্কে জানা আবশ্যক। বিষয়টি হল, পবিত্র আত্মা সকল খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের কাছে একটি উপহার, যা পেতে হলে একটি শর্ত পালন করতেই লাগবে; শর্তটি হল প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করা। “ শেষ দিন, পর্বের প্রধান দিন, যীশু দাঁড়াইয়া উচ্চৈঃস্বরে কহিলেন, কেহ যদি তৃষ্ণার্ত হয়, তবে আমার কাছে আসিয়া পান করুক। যে আমাতে বিশ্বাস করে, শাস্ত্রে যেমন বলে, তাহার অন্তর হইতে জীবন্ত জলের নদী বহিবে। যাহারা তাঁহাতে বিশ্বাস করিত, তাহারা যে আত্মাকে পাইবে, তিনি সেই আত্মার বিষয়ে এই কথা কহিলেন; কারণ তখনও আত্মা দত্ত হন নাই, কেননা তখনও যীশু মহিমাপ্রাপ্ত হন নাই।” ( যোহন ৭ অধ্যায় : ৩৭ থেকে ৩৯ পদ )।
আমাদের পবিত্র আত্মার কাছে সম্পূর্ণরূপে সমর্পিত হওয়া উচিত, যেন তিনি আমাদের
কে সম্পূর্ণরূপে পরিচালনা করতে পারেন এবং এই অর্থে আমাদের পূর্ণ করতে পারেন। রোমীয়
৮ অধ্যায় : ৯ পদ এবং ইফিষীয় ১ অধ্যায় : ১৩ থেকে
১৪ পদে বলে যে পবিত্র আত্মা খ্রীষ্ট বিশ্বাসীর অন্তরে বাস করেন, আবার তিনি দুঃখিত হতে
পারেন ( ইফিষীয় ৪ অধ্যায় : ৩০ পদ
) “ আর ঈশ্বরের সেই পবিত্র আত্মাকে দুঃখিত করিও না …..”। যখন আমরা আমাদের মধ্যে এই
বিষয়টি ঘটতে দিই, তখন আমরা পবিত্র আত্মার কাজ এবং আমাদের মধ্যে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে
তাঁর শক্তির পূর্ণতা অনুভব করি না।
পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হওয়া মানে আমাদের জীবনের প্রতিটি অংশ দখল করা, অর্থাৎ
আমাদের পথপ্রদর্শক ও আমাদের কে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার স্বাধীনতা। আর এই সকল কিছুর
পরে তাঁর শক্তি আমারা প্রয়োগ করি যাতে আমরা যাই করি না কেন তা যেন ঈশ্বরের কাছে গ্রহন
যোগ্য হয়। আত্মার পূর্ণতা শুধুমাত্র বাহ্যিক কাজের জন্য প্রযোজ্য নয়; এটি আমাদের
আত্মিক চিন্তা ভাবনা এবং আত্মিক উদ্দেশ্যগুলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। গীতসংহিতা ১৯ অধ্যায়
: ১৪ পদে লেখা আছে, “ আমার মুখের বাক্য ও আমার চিত্তের
ধ্যান তোমার দৃষ্টিতে গ্রাহ্য হউক, হে সদাপ্রভু, আমার শৈল, আমার মুক্তিদাতা।”
পাপ হল এমন একটি বিষয় যা পবিত্র আত্মার পূর্ণতাকে বাধা দেয়, এবং ঈশ্বরের
আনুগত্য হল এমন একটি বিষয় যা আমাদের মধ্যে পবিত্র আত্মার পূর্ণতাকে বজায় রাখতে সাহায্য
করে। ইফিষীয় ৫ অধ্যায় : ১৯ পদ আমাদের আদেশ দেয় যে, আমরা যেন আত্মায় পরিপূর্ণ হই।
শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতি বাধ্য ও তাঁর আদেশের প্রতি আনুগত্যই পবিত্র আত্মাকে আমাদের
মধ্যে স্বাধীন ভাবে কাজ করার অনুমতি দেয়। যেহেতু আমরা এখনও পাপ স্বভাবের দ্বারা সংক্রমিত
তাই সেইক্ষেত্রে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হওয়া অসম্ভব। এই জন্য যখন আমরা জেনে বুঝে ও
না জেনে পাপ করি, তখন আমাদের অবিলম্বে ঈশ্বরের কাছে তা স্বীকার করা উচিত। “ যদি আমরা
আপন আপন পাপ স্বীকার করি, তিনি বিশ্বস্ত ও ধার্মিক, সুতরাং আমাদের পাপ সকল মোচন করিবেন,
এবং আমাদিগকে সমস্ত অধার্মিকতা হইতে শুচি করিবেন।” ( ১ যোহন ১ অধ্যায়
: ৯ পদ )

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন