যাকোব ১ অধ্যায় : ১৯ থেকে ২০ পদে উল্লেখ আছে যে, “ হে আমার প্রিয় ভ্রাতৃগণ, তোমরা ইহা জ্ঞাত আছ। কিন্তু তোমাদের প্রত্যেক জন শ্রবণে সত্বর, কথনে ধীর, ক্রোধে ধীর হউক, কারণ মনুষ্যের ক্রোধ ঈশ্বরের ধার্মিকতার অনুষ্ঠান করে না।” “ শ্রবণে সত্বর ” হওয়ার অর্থ হল আমরা যে কোন বিষয়ে সম্পূর্ণ শুনতে চেষ্টা করি। “ কথনে ধীর ” হল এর উলটো দিক। আমরা যে কোন কথা বলার সময় ভেবেচিনতে কথা বলি এবং আমাদের মুখে যা আসে তা যেন বলে না দিই।
যাকোব জিভের ব্যবহার সম্মন্ধে বলেছেন: “ যে ব্যক্তি আপনাকে ধর্মশীল বলিয়া মনে করে, আর আপন জিহ্বাকে বল্গা দ্বারা বশে না রাখে, কিন্তু নিজ হৃদয়কে ভুলায় তাহার ধর্ম অলীক।” ( যাকোব ১ অধ্যায় : ২৬ পদ )। পরে, তিনি আমাদের জিভকে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে আমাদের সতর্ক করে বলেন যে : “ তদ্রূপ জিহ্বাও ক্ষুদ্র অঙ্গ বটে, কিন্তু মহাদর্পের কথা কহে। দেখ, কেমন অল্প অগ্নি কেমন বৃহৎ বন প্রজ্বলিত করে! জিহ্বাও অগ্নি; আমাদের অঙ্গসমূহের মধ্যে জিহ্বা অধর্মের জগৎ হইয়া রহিয়াছে; তাহা সমস্ত দেহ কলঙ্কিত করে, ও প্রকৃতির চক্রকে প্রজ্বলিত করে, এবং আপনি নরকানলে জ্বলিয়া উঠে।” ( যাকোব ৩ অধ্যায় : ৫ থেকে ৬ পদ )।
আমাদের জিভ আমাদেরকে অনেক সময় সমস্যায় ফেলে। আমরা মুখে বলি এক ও কাজে
করি আরেক। প্রভু যীশু বলেছেন, “ কেননা ফল দ্বারাই গাছ চেনা যায়। হে সর্পের বংশেরা,
তোমরা মন্দ হইয়া কেমন করিয়া ভাল কথা কহিতে পার? কেননা হৃদয় হইতে যাহা ছাপিয়া উঠে, মুখ
তাহাই বলে।” ( মথি ১২ অধ্যায় : ৩৪ পদ )। আমরা যখন কথা বলার চেয়ে শোনার জন্য নিজেদেরকে
প্রস্তুত করি, তখন আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। অনেক ব্যক্তিদের এই বিষয়টি বোঝানো কঠিন
হয়ে পরে। তারা মনে করে যে তারা ইতিমধ্যেই তাদের যা জানা দরকার তা তারা জানে এবং তারা
ক্রমাগত বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করে থাকেন। হিতোপদেশ ১০ অধ্যায় :
১৯ পদ বলে, “ বাক্যের বাহুল্যে অধর্মের অভাব নাই; কিন্তু
যে ওষ্ঠ দমন করে, সে বুদ্ধিমান।”
মার্ক টোয়েনের এক বিখ্যাত উক্তি : “ চুপ থেকে লোকের চোখে বোকা হওয়াও ভাল, মুখ খুলে তাদের সব সন্দেহ দূর করে দেওয়ার থেকে।” আমরা ‘ কম শুনি এবং বেশি কথা বলি ’ সেই কারণে আমাদের কত সম্পর্কই না নষ্ট হয়েছে। বেশি কথা না বলে শুধু শুনলে কত ভুলই না এড়ানো যেত! গীতসংহিতা ১ অধ্যায় আমাদেরকে মূর্খ বা দুষ্টদের কথা না শোনার জন্য সতর্ক করে।
.png)
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন