সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আপনি কিভাবে একজন পালক হবেন এবং বাইবেল অনুসারে আপনার মধ্যে কী কী কী গুণ থাকতে হবে ? How do you become a pastor and what qualities should you have according to the Bible ?

 পালক শব্দটি নতুন নিয়মে ইফিষীয় ৪ অধ্যায় : ১১ পদে শুধুমাত্র একবারই লক্ষ্য করা যায়। বাইবেলের নতুন নিয়মে বিভিন্ন জায়গায় পালক শব্দটির পরিবর্তে “ মেষপালক ” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পালক শব্দটির তাৎপর্য হল, একজন পালককে এমন হতে হবে যিনি একজন

মেষপালকের মতো ঈশ্বরের মেষেদের যত্ন নিতে পারেন। উদাহরণ সরূপ ১ পিতর ৫ অধ্যায় : ১ থেকে ৫ পদটি লক্ষ্য করা যেতে পারে। এছাড়াও ইফিষীয় ৪ অধ্যায় : ১১ পদটি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে ঈশ্বর তাঁর মণ্ডলীর জন্য উপযুক্ত মেষপালকে তিনি নিজেই নিয়োগ করেন। কোন ব্যক্তি তার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা তার ইচ্ছা বা অন্য কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই দায়িত্ব নিজের উপর নিতে পারে না। অতএব, বাইবেলের ভাষায় বলতে গেলে, আপনি একজন পালক তখনই হতে পারেন, যখন ঈশ্বর আপনাকে যোগ্য মনে করবেন।

আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি পালকের দায়িত্ব হল মণ্ডলীতে ঈশ্বরের বাক্য শোনানো ও শেখানো এবং মণ্ডলীর মেষেদের কাছে ঈশ্বরের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করা। “ বস্তুতঃ যাজকের ওষ্ঠাধর জ্ঞান রক্ষা করে, ও তাহার মুখে লোকেরা ব্যবস্থার অন্বেষণ করে, ইহা উপযুক্ত; কেননা সে বাহিনীগণের সদাপ্রভুর দূত।” ( মালাখি ২ অধ্যায় : ৭ পদ )।

সুতরাং, আপনি যদি একজন পালক হতে চান, প্রথমে নিজেকে অনুসন্ধান করুন যে, পিতা ঈশ্বর আপনাকে একজন পালক হিসাবে তাঁর মণ্ডলীতে চান কিনা। যদি তাই হয়, তাহলে ধৈর্য সহকারে এবং নম্রভাবে প্রার্থনা পূর্বক ঈশ্বরের মেষদের চাহিদা এবং ইচ্ছা পূরণ করার জন্য প্রস্তুত হোন।

 

বর্তমান সময়ে উপর ভিত্তি করে একজন পালকের কি কি বৈশিষ্ট্য ও গুণ থাকা দরকার :-

১) পরিত্রাণের নিশ্চয়তা।

২) ঈশ্বরের ইচ্ছার মান্যতা দেওয়া।

৩) প্রার্থনা শীল জীবন।

৪) ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ও বাইবেলের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

৫) ধৈর্য ও ক্ষমা শীল হওয়া।

প্রিয় দর্শক বন্ধুরা আপনারা যদি মনে করেন আরও কোন বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী থাকা দরকার তবে নিচে কমেন্টে তা জানাতে পারেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য ঃ-

১ তীমথিয় ৩ অধ্যায় ঃ ১ থেকে ১৬ পদ ও তীত ১ অধ্যায় ঃ ৫ থেকে ৯ পদ ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...