ঈশ্বর কেন সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষ এবং জীবন বৃক্ষ রাখলেন ? Dilip jana prochar | Why did God put the tree of knowledge of good and evil in the Garden of Eden ?
ঈশ্বর আদম এবং হবাকে সৃষ্টি করার পরে তাঁদেরকে স্বাধীন সত্তা দিয়েছিলেন। সম্ভবত ঈশ্বর এটাও দেখতে চেয়েছিলেন যে তারা ঈশ্বরের কতটা আনুগত্য বা বাধ্য থাকে। সেই কারণেই ঈশ্বর এদন বাগানে সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষ এবং জীবনবৃক্ষ রেখেছিলেন। ঈশ্বর আদম কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, “ ……. তুমি এই উদ্যানের সমস্ত বৃক্ষের ফল স্বচ্ছন্দে ভোজন করিও; কিন্তু সদসদ্-জ্ঞানদায়ক যে বৃক্ষ তাহার ফল ভোজন করিও না, কেননা যে দিন তাহার ফল খাইবে, সেই দিন মরিবেই মরিবে।” ( আদিপুস্তক ২ অধ্যায় : ১৬ থেকে ১৭ পদ )। এই বিষয়টি ছাড়া তারা সম্পূর্ণ রুপে স্বাধীন ছিল এদন বাগানের সকল প্রকার গাছের ফল খাওয়ার ব্যাপারে। ঈশ্বর কোন রোবট তৈরি করেননি, মানুষ তৈরি করেছিলেন তাঁর নিজের মত করে। যদি ঈশ্বর আদম ও হবাকে রোবটের মত করে তৈরি করতেন তাহলে সমস্ত বিষয়টি প্রোগ্রামিং করা হত। তখন তাদের কে দেখতে বা তাদের ব্যবহার অনেকটাই এইরকমের হত। ঈশ্বর এইরকম কিছুই করেননি, তার বদলে তিনি নিজের আদলে আদম এবং হবাকে তৈরি করলেন। ( আদিপুস্তক ১ অধ্যায় : ২৭ পদ ) “ পরে ঈশ্বর আপনার প্রতিমূর্তিতে মনুষ্যকে সৃষ্টি করিলেন; ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তাহাকে সৃষ্টি করিলেন, পুরুষ ও স্ত্রী করিয়া তাহাদিগকে সৃষ্টি করিলেন।” ঈশ্বর আদম এবং হবাকে মানুষ হিসাবে সৃষ্টি করার কারণে তারা যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে এবং ভাল ও মন্দ বেছে নিতে সক্ষম ছিল।
সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষ এবং জীবনবৃক্ষের ফল খারাপ কিছু ছিল না। সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল এমন একটি ফল যা নিজের মধ্যেই জ্ঞানের ভাণ্ডার। এই জ্ঞান হল মাংসিক জ্ঞান। এই সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খাওয়ার ফলে আদম এবং হবার মাংসিক চোখ খুলে যায়; যার ফলে তার বুঝতে পারে যে, তারা উলঙ্গ। “ তাহাতে তাঁহাদের উভয়ের চক্ষু খুলিয়া গেল, এবং তাঁহারা বুঝিতে পারিলেন যে তাঁহারা উলঙ্গ;” ( আদিপুস্তক ৩ অধ্যায় : ৭ পদ )। এই পৃথিবীতে যে সকল ফল খাবার জন্য পাওয়া যায় তার মধ্যে কিছু ভিটামিন সি এবং কিছু উপকারী ফাইবার থাকে যা মানুষের শরীরের জন্য পুষ্টিকর। এই ফল কিন্তু কোনভাবেই আত্মিকভাবে বা আধ্যাত্মিকভাবে পুষ্টিকর নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে যেকোন অবাধ্যতা আত্মিকভাবে বা আধ্যাত্মিকভাবে ক্ষতিকর। এই অবাধ্যতার ফলে আদম ও হবার চোখ খুলে গিয়েছিল। এই প্রথমবারের মতো, তারা বুঝতে পারল যে মন্দ কি, উলঙ্গতা ও লজ্জা বোধই বা কি। তারা এও বুঝতে পারে যে এই অবস্থায় ঈশ্বরের সামনে যাওয়াটা ঠিক না। আদম ও হবার অবাধ্যতার ফলে এই জগতে পাপ ও দুর্নীতি নিয়ে এসেছে।
ঈশ্বর কখনই আদম ও হবাকে দিয়ে পাপ করতে চাননি। পাপের ফল কী হবে ঈশ্বর তা
আগেই জানতেন। ঈশ্বর জানতেন যে আদম ও হবা পাপ করবে এবং এর ফল সরূপ জগতে মন্দ, দুঃখকষ্ট
এবং মৃত্যু আসবে। তাহলে, কেন ঈশ্বর শয়তানকে আদম ও হবাকে প্রলুব্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন
? ঈশ্বর শয়তানকে আদম ও হবাকে প্রলুব্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন যাতে তারা তাদের নিজের
ইচ্ছায় সিধান্ত নিতে পারে। আদম ও হবা তাদের নিজেদের ইচ্ছায় ঈশ্বরের অবাধ্য হয়ে সদসদ্-জ্ঞানদায়ক
বৃক্ষের ফল খাওয়ার বিষয়টি বেছে নিয়েছিলেন। এর ফলাফল—মন্দ, পাপ, দুঃখকষ্ট, অসুস্থতা
এবং মৃত্যু—জগৎকে তখন থেকে জর্জরিত করেছে। আদম এবং হবার সিদ্ধান্তের ফলে এই জগতের প্রত্যেক
ব্যক্তি আজও একটি পাপ প্রকৃতি ও পাপের প্রবণতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। আদম ও হবার সিদ্ধান্তই
শেষ পর্যন্ত প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে ক্রুশে মৃত্যু বরণ করতে এবং আমাদের পক্ষে তাঁর পবিত্র
রক্তপাতের প্রয়োজন হয়েছিল। প্রভু যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে, আমরা পাপের পরিণতি
ও পাপ থেকে মুক্ত পেতে পারি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন