প্রকৃত অর্থে কোনো পাপই অন্য পাপের চেয়ে বড় নয়। সমস্ত পাপ আমাদের ঈশ্বর
থেকে আলাদা করে, এবং সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা দরকার। সমস্ত পাপই “মরণশীল”, পাপ
এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তিকে আধ্যাত্মিক মৃত্যু এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে অনন্ত
বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যায়। একই সাথে বাইবেল বলে যে, বিচারের দিনে কিছু পাপ অন্যদের
চেয়ে বেশি শাস্তির যোগ্য হবে ( মথি ১১ অধ্যায় : ২২ ও ২৪ পদ )।
যোহন লিখিত সুস্মাচারে ( ১৯ অধ্যায় : ১১ পদে ) প্রভু যীশু একটি নির্দিষ্ট পাপকে “ অধিক ” পাপ বলে উল্লেখ করেছেন; যদিও এটিই “ সর্বশ্রেষ্ঠ ” পাপ নয়। প্রভু যীশু পন্থীয় পীলাতের সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেছিলেন যে, যিনি তাকে পীলাতের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি “ অধিক পাপের ” জন্য দোষী। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যে ব্যক্তি তাকে পীলাতের হাতে তুলে দিয়েছে, তার দোষ ছিল ঈষ্করিয়োতীয় যিহূদা, কায়াফা বা পীলাতের চেয়েও বেশি। এই বিষয়টি এই দিকে ইঙ্গিত দেয় যে, যারা প্রভু যীশুকে ঈশ্বরের পুত্র হিসাবে জেনেছে এবং এখনও তাকে প্রত্যাখ্যান করে তারা অন্যদের চেয়ে বেশি শাস্তির অধিকারী হবে। “ যীশু তাহাদিগকে কহিলেন, যদি অন্ধ হইতে, তোমাদের পাপ থাকিত না; কিন্তু এখন তোমরা বলিয়া থাক, আমরা দেখিতেছি; তোমাদের পাপ রহিয়াছে।” ( যোহন ৯ অধ্যায় : ৪১ পদ )।
এই ঘটনাগুলো অবশ্য প্রমাণ করে না যে একটি নির্দিষ্ট পাপই সব থেকে বড় পাপ।
বাইবেলে ঈশ্বরের দেওয়া একটি পাপের লিস্ট পাওয়া যায় যা ঈশ্বর প্রকৃত অর্থে ঘৃণা করেন।
“ এই ছয়টি বস্তু সদাপ্রভুর ঘৃণিত, এমন কি, সাতটি বস্তু তাঁহার প্রাণের ঘৃণাস্পদ;
উদ্ধত দৃষ্টি, মিথ্যাবাদী জিহ্বা, নির্দোষের রক্তপাতকারী হস্ত, দুষ্ট সঙ্কল্পকারী হৃদয়, দুষ্কর্ম করিতে দ্রুতগামী চরণ, যে মিথ্যাসাক্ষী অসত্য
কথা বলে, ও যে ভ্রাতৃগণের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত করে।” ( হিতোপদেশ ৬ অধ্যায়
: ১৬ থেকে ১৯ পদ )। এই সাতটি পাপের মধ্যে কোনোটিই অন্য কোনোটির চেয়ে বড় পাপ হিসেবে
চিহ্নিত নয় এবং কোনোটিকেই সবচেয়ে বড় পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
যদিও বাইবেল কোনো একটি পাপকে সর্বশ্রেষ্ঠ পাপ বলে উল্লেখ করে না, তবে এটি ক্ষমার অযোগ্য পাপকে নির্দেশ করে, যা হল অবিশ্বাসের পাপ। যে ব্যক্তি অবিশ্বাসে মারা যায় তার জন্য কোন ক্ষমা নেই। বাইবেলে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে, মানবজাতির প্রতি তাঁর ভালবাসায়, ঈশ্বর অনন্ত পরিত্রাণের উপায় প্রদান করেছেন; যীশু খ্রীষ্ট এবং ক্রুশে তাঁর মৃত্যু বরণ “ যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে ” ( যোহন ৩ অধ্যায় : ১৬ পদ )। প্রভু যীশু বলেছিলেন, “ আমিই পথ ও সত্য ও জীবন; আমা দিয়া না আসিলে কেহ পিতার নিকটে আইসে না।” ( যোহন ১৪ অধ্যায় : ৬ পদ )। এই বাক্যের মধ্যে দিয়ে এই বিষয়টি পরিস্কার যে তিনি এবং তিনিই একমাত্র ঈশ্বর এবং পরিত্রাণের এক মাত্র পথ। পরিত্রাণের একমাত্র উপায়কে প্রত্যাখ্যান করা ক্ষমার অযোগ্য এবং সেই অর্থে, সর্বশ্রেষ্ঠ পাপ।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন