সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তোমরা ঈশ্বর নাকি ? বাইবেলের গুপ্ত রহস্য ফাঁস ! তোমরা ঈশ্বর বলতে বাইবেল কি বোঝায় ? we are gods |

গীতসংহিতা ৮২ অধ্যায় : ৬ পদের মধ্যে “ ঈশ্বর ” শব্দটি হিব্রু শব্দে এলোহীম । এটি সাধারণত একজন প্রকৃত ঈশ্বরকেই নির্দেশ করে, কিন্তু এর অন্যান্য ব্যবহারও আছে । গীতসংহিতা ৮২ অধ্যায় : ১ পদে বলে, “ ঈশ্বর ঈশ্বরের মণ্ডলীতে দণ্ডায়মান, তিনি ঈশ্বরদের মধ্যে বিচার করেন।” এইখানে পরবর্তী তিনটি পদ থেকে এটি স্পষ্ট যে “ ঈশ্বর ” শব্দটি বিচারক বা অন্যান্ন ব্যক্তিদের বোঝায়, যারা কর্তৃত্ব ও শাসকের পদে আছে। কোন মানুষ যখন একজন বিচারককে ঈশ্বর বলে তখন তার পিছনে মূলত তিনটি কারণকে নির্দেশ করে: ১) তাঁর অন্যান্য মানুষের উপরে কর্তৃত্ব আছে, ২) একজন নাগরিক হিসাবে তিনি যে যে শক্তিটি ব্যবহার করেন তাতে ভয় পাওয়ার কথা, এবং ৩) তিনি নিজের ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব স্বয়ং ঈশ্বরের কাছ থেকে পেয়েছেন, যা ৪ পদে লক্ষ্য করা যায়।

কোন মানুষকে বোঝাতে “ ঈশ্বর ” শব্দের ব্যবহার সত্যিই বিরল, এই একই বিষয় আমরা পুরাতন নিয়মের অন্যত্র দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ, ঈশ্বর যখন মোশিকে ফরৌণের কাছে পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, “ …. দেখ, আমি ফরৌণের কাছে তোমাকে ঈশ্বরস্বরূপ করিয়া নিযুক্ত করিলাম,…।” ( যাত্রাপুস্তক ৭ অধ্যায় : ১ পদ )। এই বাক্যের সহজ অর্থ এই যে, মোশি  ঈশ্বরের দূত হিসাবে ঈশ্বরের কথা বলেছিলেন এবং তাই তিনি রাজার কাছে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হলেন। এছাড়াও যাত্রাপুস্তকের বিভিন্ন জায়গায় এলোহীম “বিচারক” হিসাবে অনুবাদিত হয়। যেমন ২২ অধ্যায় : ৮ থেকে ৯ পদ, এবং ২৪ পদে লক্ষ্য করা যায়।


গীতসংহিতা ৮২ অধ্যায়ের পুরো বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, জগতের সকল বিচারকদের অবশ্যই নিরপেক্ষতা এবং সত্য ন্যায় বিচারের সঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ বিচারকদেরও একদিন বিচারকের সামনে দাঁড়াতে হবে। ৬ ও ৭ পদ জগতের বিচারকদের সতর্ক করে যে, তাদেরও অবশ্যই বিচার হবে: “ আমিই কহিয়াছি, তোমরা ঈশ্বর, তোমরা সকলে পরাৎপরের সন্তান; কিন্তু তোমরা মনুষ্যের ন্যায় মরিবে,একজন অধ্যক্ষের ন্যায় পতিত হইবে।” এই অধ্যায়টি তে লক্ষ্য করা যায় যে, ঈশ্বর মানুষদের কর্ত্তৃত্বের পদে নিযুক্ত করেছেন, যার মধ্যে তাদেরকে লোকেদের মধ্যে “ ঈশ্বর ” হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাদের মনে রাখতে হবে যে, যদিও তারা এই জগতে ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করছে, তার পরেও তাঁরা নশ্বর এবং অবশেষে তারা কিভাবে সেই কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা ব্যবহার করেছিল তার জন্যে ঈশ্বরের কাছে অবশ্যই তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে।



এখন প্রশ্ন হল প্রভু যীশু কিভাবে এই অনুচ্ছেদটি ব্যবহার করেছেন। প্রভু যীশু যখনি নিজেকে ঈশ্বরের পুত্র বলে দাবি করেছেন ( যোহন ১০ অধ্যায় : ২৫ থেকে ৩০ পদ ) তখনই অবিশ্বাসী যিহূদিরা প্রভু যীশুকে ঈশ্বর নিন্দার অভিযোগে অভিযুক্ত করে, যেহেতু তিনি নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করেছেন ( যোহন ১০ অধ্যায় : ৩৩ পদ )। আর তখনই প্রভু যীশু গীতসংহিতা ৮২ অধ্যায় : ৬ পদটি উদ্ধৃত করেন।


বিপরীতে, এদন বাগানে হবার কাছে সাপের বলা মিথ্যা কথা ছিল। তাঁর বক্তব্য, “ কেননা ঈশ্বর জানেন, যে দিন তোমরা তাহা খাইবে সেই দিন তোমাদের চক্ষু খুলিয়া যাইবে, তাহাতে তোমরা ঈশ্বরের সদৃশ হইয়া সদ্‌-অসৎ জ্ঞান প্রাপ্ত হইবে।” ( আদিপুস্তক ৩ অধ্যায় : ৫ পদ ) এখানে অর্ধ-সত্য ছিল। সত্যিই তাদের চোখ খোলা হয়েছিল যা ৭ পদে লক্ষ্য করা যায় , কিন্তু তারা ঈশ্বরের মতন হয়ে উঠতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে, তারা ঈশ্বরের মতন হয়ে ওঠার পরিবর্তে কর্তৃত্ব হারিয়েছে।

শয়তান হবাকে তার সত্যিকারের ঈশ্বরের মতন হওয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে প্রতাড়িত করেছিল, এবং তাই তাকে মিথ্যা পথে নিয়ে গিয়েছিল। প্রভু যীশু বাইবেলে ঈশ্বরের পুত্র হওয়ার দাবিকে রক্ষা করেছেন বা পালন করেছেন। অতএব মশীহ যথাযথভাবে এই শব্দটি নিজের উপরে প্রয়োগ করতে পারেন। তাই মানুষ কক্ষনোই ঈশ্বর হতে পারেনা। ঈশ্বর ঈশ্বরই, এবং আমরা যারা প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে জানি তারা প্রত্যেকে ঈশ্বরে সন্তান।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...