সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জুয়া খেলা সম্বন্ধে বাইবেল কি বলে ? is gambling a sin ? একটি আশ্চর্যজনক পর্দাফাঁস |

 নির্দিষ্ট করে বাইবেল জুয়াখেলা, বাজিধরা বা লটারির খেলাকে কখনই পাপ বলে না। বাইবেলে এই বিষয়ে কোন সাবধান বাণী নেই, কিন্তু বাইবেল টাকা-পয়সার প্রতি ভালবাসা থেকে দূরে সরে থাকতে বলে। “ তোমাদের আচার-ব্যবহার ধনাসক্তিবিহীন হউক; তোমাদের যাহা আছে, তাহাতে সন্তুষ্ট থাক; কারণ তিনিই বলিয়াছেন, আমি কোন ক্রমে তোমাকে ছাড়িব না, ও কোন ক্রমে তোমাকে ত্যাগ করিব না।” ( ইব্রীয় ১৩ অধ্যায় : ৫ পদ )। পবিত্র শাস্ত্র বাইবেল আমাদের সব সময় উৎসাহিত করে যে, আমরা যেন তাড়াতাড়ি বড়লোক হতে চেষ্টা না করি বরং এর থেকে দূরে থাকি। জুয়াখেলা, বাজিধরা বা লটারির খেলা নিশ্চিতভাবে টাকা-পয়সার প্রতি ভালবাসার দিকে ইংগিত করে এবং নিঃসন্দেহে তাড়াতাড়ি করে বড়লোক হতে লোকদের উৎসাহ প্রদান করে।

তাহলে জুয়াখেলা, বাজিধরা বা লটারির খেলায় দোষ কোথায় ? জুয়াখেলা বেশ কষ্টকর ও বিচার্য বিষয়। কারণ, যদি সংযমের সাথে এবং শুধুমাত্র বিশেষ কোন উৎসবের কারণে জুয়াখেললে তা সাধারণ দৃষ্টিতে মন্দ না হলেও তা অবশ্যই টাকা-পয়সা নষ্ট হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। এরকম ভাবেই বিভিন্ন খেলাধুলায় লোকেরা প্রচুর পরিমাণে টাকা-পয়সা নষ্ট করে থাকে। জুয়াখেলা, বাজিধরা বা লটারির খেলা কোন কোন ক্ষেত্রে কম-বেশী সিনেমা দেখা, খুব দামী অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়া অথবা হাবিজাবি কিনে টাকা-পয়সা নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। অবশ্য জুয়াখেলা, বাজিধরা বা লটারির খেলায় টাকা-পয়সা নষ্ট করার সাথে অন্যান্য জিনিষপত্র কেনা-কাটা করার বিষয়টি একইরকম ভাবে বিচার করা যায় না। আসলে টাকা-পয়সা অযথা নষ্ট করা উচিত না। অতিরিক্ত টাকা-পয়সা ভবিষ্যতের প্রয়োজন কে মাথায় রেখেই জমিয়ে রাখা উচিত, অথবা প্রভুর কাজে দেওয়া উচিত; তা কোনভাবে জুয়াখেলে, বাজিধরা বা লটারির খেলে নষ্ট করা উচিত না।

বাইবেলে প্রত্যক্ষভাবে জুয়াখেলা, বাজিধরা বা লটারির খেলার কথা বলে নেই, কিন্তু ‘ভাগ্য পরীক্ষা’ অথবা ‘সুযোগ’ এর কথা বলেছে। উদাহরণ হিসাবে, লেবীয় পুস্তকে পাপের জন্য উৎসর্গের মেষ এবং পাপ বহনকারী মেষ আলাদা করতে “গুলিবাঁট” পদ্ধতি ব্যবহার করা হোত। যিহোশূয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে জমি ভাগ করে দিতে “গুলিবাঁট” করেছিলেন। কারা যিরূশালেমের দেয়ালের ভেতরে বাস করবে তা নির্ণয় করার জন্য নহিমিয় “গুলিবাঁট” করেছিলেন। যিহূদার বদলে অন্য একজনকে প্রেরিত হিসাবে মনোনীত করতে প্রেরিতেরা “গুলিবাঁট” করেছিলেন। হিতোপদেশ ১৬ অধ্যায় : ৩৩ পদ একথা বলে, “ গুলিবাঁট কোলে ফেলা যায়, কিন্তু তাহার সমস্ত নিষপত্তি সদাপ্রভু হইতে হয়।



তাহলে, জুয়াখেলার আড্ডা এবং লটারি সম্বন্ধে বাইবেল কি বলে ? জুয়াখেলার আড্ডাতে জুয়ারীদের জন্য বিভিন্ন রকম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যতটা সম্ভব বেশী টাকার ঝুঁকি নিতে সুযোগ তৈরী করে দেয়। কখনও বা তারা খুব কম দামে বা একেবারে বিনা পয়সায় মদ সরবরাহ করে থাকে এবং মাতাল হতে উৎসাহিত করে; ফলে তাদের পক্ষে বুদ্ধিপূর্বক সিদ্ধান্ত নেবার শক্তি লোপ পায়। প্রতিটি জুয়ার আড্ডায় বেশী বেশী করে টাকা-পয়সা লুটে নেবার সুক্ষ্ণ পদ্ধতি কাজ করে থাকে, এর বদলে ক্ষণস্থায়ী সুখ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। আর লটারি খেলার মধ্য দিয়ে চেষ্টা করা হয় যে কোন শিক্ষা বা সমাজ কল্যাণমূলক কাজে সাহায্য করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, লটারিতে অংশগ্রহণকারী লোকেরা সবচেয়ে কম আয়ের মানুষ তারাই লটারির টিকিট কেনে। যারা ‘খুব তাড়াতাড়ি বড়লোক হতে চায়’ তাদের জন্য এমন আকর্ষণীয় প্রলোভন প্রতিরোধ করা সত্যিই কঠিন। লটারিতে জেতার সম্ভাবনা খুবই কম, তার ফলে অনেক লোকের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।


লটারি খেলা কি ঈশ্বরকে খুশি করতে পারে ? অনেক লোক আছে, যারা লটারি বা জুয়া খেলে, যেন তারা চার্চে অথবা কোন ভাল কাজে টাকা-পয়সা দিতে পারে। যদিও এই উদ্দেশ্য ভাল মনে হতে পারে, তবুও জুয়া খেলে আয় করা টাকা পয়সা  বাস্তবিক খুব কম লোকই ঈশ্বরের রাজ্যের উদ্দেশ্যে ব্যয় করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, লটারিতে জিতে অধিকাংশ লোকের অর্থনৈতিক অবস্থা কয়েক বছরের মধ্যে আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়ে গেছে। বাস্তবিক খুব কম লোকই ভাল কাজের জন্য টাকা-পয়সা দেয়। তাছাড়া, ঈশ্বর এভাবে আয় করা আমাদের টাকা-পয়সা তাঁর রাজ্যের কাজের জন্য প্রয়োজন মনে করেন না। হিতোপদেশ ১৩ অধ্যায় : ১১ পদ বলে, “ অলিকতায় অর্জিত ধন ক্ষয় পায়; কিন্তু যে ব্যক্তি হস্ত দ্বারা সঞ্চয় করে, সে অধিক পায়।” ঈশ্বর সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এবং তিনি তাঁর রাজ্যের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা ভাল পথেই যোগাড় করে দেন। জুয়াখেলা, বাজিধরা বা লটারির খেলা অথবা ব্যাংক ডাকাতি বা ড্রাগ বিক্রীর টাকা উপহার হিসাবে পেলে কি ঈশ্বর সম্মানিত হতে পারেন ? কখনই না। ঈশ্বর গরীবদের কাছ থেকে ধনী হবার প্রলোভনে ‘চুরি করা’ টাকা চান না, এমন কি প্রয়োজনও মনে করেন না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...