সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঈশ্বরের কি সত্যিই একটি কুপা আছে ? Does God really have a battle ? গীত ৫৬ ৮ |

 রাজা দাউদ লিখেছিলেন, “ … আমার নেত্রজল তোমার কুপাতে রাখ ” ( গীতসংহিতা ৫৬ অধ্যায় : ৮ পদ কেরী ভার্সন )। রাজা দাউদ এমন একটি দুঃখজনক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল যখন তিনি গীতসংহিতা ৫৬ অধ্যায়ের এই গীতটি এই শব্দ দিয়ে শুরু করেন “ হে ঈশ্বর, আমার প্রতি কৃপা কর, কেননা মর্ত্য আমাকে গ্রাস করিতে চাহিতেছে; সে সমস্ত দিন যুদ্ধ করিয়া আমার প্রতি উপদ্রব করে।” ( গীতসংহিতা ৫৬ অধ্যায় : ১ পদ কেরী ভার্সন )।


পলেষ্টীয়রা রাজা দাউদকে বন্দী করেছিল - তখন তিনি একজন যুদ্ধবন্দী এবং তার কান্নার ও দুঃখী হওয়ার কারণ ছিল। দাউদ বলেছেন যে, তার সমস্ত ক্রিয়াকলাপ গুলি ঈশ্বর তাঁর বইতে লিপিবদ্ধ করেছেন। এবং তিনি ঈশ্বরকে তার চোখের জল ঈশ্বরের কুপাতে রাখতে বলেন। যা আমরা ( গীতসংহিতা ৫৬ অধ্যায় : ৮ পদে ) দেখতে পাই। এই কাব্যিক ভাষার মানে কি ? ঈশ্বরের কি সত্যিই একটি কুপা আছে ? যেখানে আমাদের সমস্ত চোখের জল রাখা থাকে ? আমাদের জীবনের ঘটনাগুলো কি সত্যিই ঈশ্বরের পুস্তকে লেখা থাকে ?

প্রথমে আমরা কুপা শব্দের মানে জানতে চেষ্টা করি। কুপা হল যেকোনো তরল বস্তু রাখার পাত্র। যাকে এক কথায় বাটিও বলা যেতে পারে।

এখানে “ একটি কুপাতে অশ্রু বা চোখের জল ” ধরে রাখার পেছনের ধারণাটি হল স্মরণ করা। রাজা দাউদ ঈশ্বরের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করছেন, যেন ঈশ্বর তার দুঃখ ও চোখের জল দেখেন এবং তাকে যাতে ভুলে না যায়। রাজা দাউদ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, নিশ্চিত ভাবেই ঈশ্বর তার পাশে আছেন। এই দুঃসময়ের মধ্যে তিনি বলেন, “ আমি ইহা জানি যে, ঈশ্বর আমার সপক্ষ।” ( গীতসংহিতা ৫৬ অধ্যায় : ৯ পদ ) এবং এও বলেন “ আমি ঈশ্বরে নির্ভর করিয়াছি, ভয় করিব না; মনুষ্য আমার কি করিতে পারে ? ” ( গীতসংহিতা ৫৬ অধ্যায় : ১১ পদ )।

ঈশ্বরের একটি প্রকৃত কুপা বা বই নাও থাকতে পারে, যেখানে তিনি আমাদের চোখের জল ধরে রাখেন ও আমাদের দুঃখ কষ্ট গুলি লিপিবদ্ধ করেন। যার মধ্যে তাঁর জন্য সহ্য করা দুঃখকষ্ট আছে। প্রকৃতপক্ষে, বাইবেলের অনেক জায়গায় আমরা দেখতে পাই যে, ঈশ্বর আমাদের দুঃখকষ্টের স্মৃতিচারণ করেছেন। ঈশ্বর আমাদের জন্য একজন কোমল হৃদয়ের পিতা এবং এমন একজন ঈশ্বর যিনি আমাদের দুঃখকষ্ট আমাদের সাথেই অনুভব করেন এবং আমাদের সাথে কাঁদেন। “ পরে সদাপ্রভু কহিলেন, সত্যই আমি মিসরস্থ আপন প্রজাদের কষ্ট দেখিয়াছি, এবং কার্যশাসকদের সমক্ষে তাহাদের ক্রন্দনও শুনিয়াছি; ফলতঃ আমি তাহাদের দুঃখ জানি।” ( যাত্রাপুস্তক ৩ অধ্যায় : ৭ পদ ) আবার ( যোহন ১১ অধ্যায় : ৩৩ থেকে ৩৫ পদে ) দেখা যায় “ যীশু যখন দেখিলেন, তিনি রোদন করিতেছেন, ও তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে যে যিহূদীরা আসিয়াছিল, তাহারাও রোদন করিতেছে, তখন আত্মাতে উত্তেজিত হইয়া উঠিলেন ও উদ্বিগ্ন হইলেন। আর কহিলেন, তাহাকে কোথায় রাখিয়াছ ? তাঁহারা কহিলেন, প্রভু, আসিয়া দেখুন। যীশু কাঁদিলেন।”


গীতসংহিতা ৫৬ অধ্যায় : ৮ পদটি স্মরণ করলেই মনে হয় যে, এটি একটি সান্ত্বনাদায়ক বিষয়, কারণ ঈশ্বর আমাদের দুঃখকষ্টের কথা স্মরণ করেন। প্রায়শই, প্রভু যীশুর প্রতি আনুগত্য এবং প্রভু যীশুকে অনুসরণ করা ফলে আমাদের জীবনে বিভিন্ন দুঃখকষ্টের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়টিতে আশ্চর্য হওয়া একদমই উচিত নয়। প্রভু যীশুর দেখানো পথে চলতে গেলে যে দুঃখভোগ করতে হবে এই বিষয়ে একাধিক কথা তিনি বলেছিলেন। প্রভু যীশু বলেছেন, “ আর আমার নাম প্রযুক্ত তোমরা সকলের ঘৃণিত হইবে।” ( লূক ২১ অধ্যায় : ১৭ পদ ; মথি ২৪ অধ্যায় : ৯ পদ; মার্ক ১৩ অধ্যায় : ১৩ পদ ও মথি ১০ অধ্যায় : ২২ পদ )।

এছাড়াও সাধু পৌলের উদ্দেশে প্রভু যীশু বলেছিলেন যে, “ কারণ আমি তাহাকে দেখাইয়া দিব, আমার নামের জন্য তাহাকে কত ক্লেশ ভোগ করিতে হইবে।” ( প্রেরিত ৯ অধ্যায় : ১৬ পদ )। আমাদের জীবনে ক্ষতি এমনকি বিষয় ? যখন সেই ক্ষতি ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যের ফলে সত্যিকারের দুঃখকষ্ট এবং প্রকৃত অশ্রু তৈরি করে। ঈশ্বর নিশ্চিত ভাবেই আমাদের কষ্টের কথা মনে রাখেন এবং ক্ষতিপূরণের চেয়েও অনেক বেশি কিছু আমাদের কে দেবেন “ আর যে কোন ব্যক্তি আমার নামের জন্য বাটী, কি ভ্রাতা, কি ভগিনী, কি পিতা, কি মাতা, কি সন্তান, কি ক্ষেত্র পরিত্যাগ করিয়াছে, সে তাহার শত গুণ পাইবে, এবং অনন্ত জীবনের অধিকারী হইবে।” ( মথি ১৯ অধ্যায় : ২৯ পদ )


আমাদের দুঃখকষ্ট বা চোখের জল বৃথা যাবেনা। ঈশ্বর তাঁর প্রতিটি সন্তানকে অন্তরঙ্গভাবে জানেন, এবং আমরা যে চোখের জল ফেলি তা তাঁর কাছে অর্থপূর্ণ। তিনি আমাদের দুঃখকষ্টের কথা মনে রাখেন। শেষ পর্যন্ত, তিনি আমাদের সাথে তাঁর আনন্দ ভাগ করবেন। “ আর তিনি তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না; কারণ প্রথম বিষয় সকল লুপ্ত হইল।” ( প্রকাশিত বাক্য ২১ অধ্যায় : ৪ পদ )।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...