স্বর্গ দূত হল পরিচর্যাকারী আত্মা যা ( ইব্রীয় ১ অধ্যায় : ১৪ পদে ) দেখতে পাই। তাই তাদের কোন অপরিহার্য শারীরিক রূপ নেই। কিন্তু স্বর্গ দূতদের মানুষের রূপে আবির্ভূত হওয়ার ক্ষমতা আছে। বাইবেলে যখন স্বর্গ দূত মানুষের কাছে আবির্ভূত হয়েছিল , তখন তারা সাধারণ পুরুষদের মতো ছিল। আদিপুস্তক ১৮ অধ্যায় : ১ থেকে ১৯ পদে , ঈশ্বর এবং দুইজন স্বর্গ দূত পুরুষ সত্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং আব্রাহামের সাথে খাবার খেয়েছিলেন। বাইবেল জুড়ে স্বর্গ দূতরা বহুবার পুরুষ সত্তা হিসাবে উপস্থিত হয়েছিল ; যেমন ( যিহোশূয় ৫ অধ্যায় : ১৩ থেকে ১৫ পদ ; মার্ক ১৬ অধ্যায় : ৫ পদ ), তাদের কখনোই নারী সত্তায় দেখা যায়নি।
অনেক বাইবেল বিশারদের মতে সম্ভাবত অন্য সময় স্বর্গ দূত মানুষ হিসাবে নয়
, বরং অন্য-জাগতিক চেহারায় আবির্ভূত হয়েছিল এবং যারা তাদের মুখোমুখি হয়েছিল তাদের
কাছে স্বর্গ দূতেদের চেহারা ভয়ঙ্কর ছিল। কারণ , এই স্বর্গদূতদের কাছ থেকে প্রথম শব্দগুলি
শোনা যেত “ ভয় পেয়ো না ” কারণ ভয় একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া। প্রভু যীশুর সমাধির
রক্ষকরা স্বর্গ দূতেদের দেখে মৃত মানুষের মতো হয়েছিলেন “ তাঁহার ভয়ে প্রহরিগণ কাঁপিতে
লাগিল , ও মৃতবৎ হইয়া পড়িল।” ( মথি ২৮ অধ্যায় : ৪ পদ )।
স্বর্গ দূতেদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য , কখনও কখনও ডানাযুক্ত স্বর্গ দূত হিসাবে বর্ণনা করা হয়। নিয়ম সিন্দুকের উপর করূব গনের মূর্তিগুলির ডানা ছিল যা পাপাবরণকে ঢেকে রাখে “ আর সেই দুই করূব ঊর্ধ্বে পক্ষ বিস্তার করিয়া ঐ পক্ষ দ্বারা পাপাবরণকে আচ্ছাদন করিবে , এবং তাহাদের মুখ পরস্পরের দিকে থাকিবে , করূবদের দৃষ্টি পাপাবরণের দিকে থাকিবে।” ( যাত্রাপুস্তক ২৫ অধ্যায় : ২০ পদ )। যিশাইয় তার স্বর্গের সিংহাসনের দর্শনে ডানাওয়ালা সেরাফিমকে দেখেছিলেন , প্রত্যেকটির ছয়টি ডানা ছিল “ তাঁহার নিকটে সরাফগণ দণ্ডায়মান ছিলেন; তাঁহাদের মধ্যে প্রত্যেক জনের ছয় ছয় পক্ষ, প্রত্যেকে দুই পক্ষ দ্বারা আপন মুখ আচ্ছাদন করেন, দুই পক্ষ দ্বারা চরণ অচ্ছাদন করেন, ও দুই পক্ষ দ্বারা উড্ডীন হন।” ( যিশাইয় ৬ অধ্যায় : ২ পদ )। আবার ( যিশাইয় ৬ অধ্যায় : ১ থেকে ২ পদে ) স্বর্গ দূতেদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায় , যেমন মুখ এবং পা। প্রভু যীশুর সমাধিতে স্বর্গ দূত কে একটি উজ্জ্বল চেহারা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে: “ তাঁহার দৃশ্য বিদ্যুতের ন্যায়, এবং তাঁহার বস্ত্র হিমের ন্যায় শুভ্রবর্ণ।” ( মথি ২৮ অধ্যায় : ৩ পদ )।
স্বর্গ দূতেদের চেহারা যাই হোক না কেন , এটাও বিশ্বাস যোগ্য যে তারা অবিশ্বাস্যভাবে সুন্দর ছিল। যিহিষ্কেলের পুস্তকে আমরা দেখতে পাই যে “ অভিষিক্ত করুব ” তার সৌন্দর্যের জন্য গর্বিত ছিল “ তোমার বাণিজ্য-বাহুল্যে তোমার অভ্যন্তর দৌরাত্ম্যে পরিপূর্ণ হইল , তুমি পাপ করিলে , তাই আমি তোমাকে ঈশ্বরের পর্বত হইতে ভ্রষ্ট করিলাম , এবং হে আচ্ছাদক করূব , তোমাকে অগ্নিময় প্রস্তর সকলের মধ্য হইতে লুপ্ত করিলাম। তোমার চিত্ত তোমার সৌন্দর্যে গর্বিত হইয়াছিল ; তুমি নিজ দীপ্তি হেতু আপন জ্ঞান নষ্ট করিয়াছ ; আমি তোমাকে ভূমিতে নিক্ষেপ করিলাম , রাজগণের সম্মুখে রাখিলাম , যেন তাহারা তোমাকে দেখিতে পায়।” ( যিহিষ্কেল ২৮ অধ্যায় : ১৬ থেকে ১৭ পদ )।
.jpg)

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন