সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লিঙ্গ বা Gender পরিবর্তনের বিষয়ে বাইবেল কী বলে ? is it a sin to get a sex change ?

 

লিঙ্গ বা Gender পরিবর্তন বলতে আমরা কি বুঝি ? এক কথায় পুরুষ থেকে নারী বা নারী থেকে পুরুষ হওয়াকে লিঙ্গ বা Gender পরিবর্তন বলে। যদিও লিঙ্গ বা Gender পরিবর্তনের বিষয়ে বাইবেলে বিশেষভাবে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি , তবে মানুষের লিঙ্গ বা Gender এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে আদি থেকেই। “ পরে ঈশ্বর আপনার প্রতিমূর্তিতে মনুষ্যকে সৃষ্টি করিলেন ; ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তাহাকে সৃষ্টি করিলেন , পুরুষ ও স্ত্রী করিয়া তাহাদিগকে সৃষ্টি করিলেন।” ( আদিপুস্তক ১ অধ্যায় : ২৭ পদ )। আবার একই ভাবে ( আদিপুস্তক ১ অধ্যায় : ৩১ পদ ) আমাদের বলে যে , “ পরে ঈশ্বর তাঁহার সৃষ্ট বস্তু সকলের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলেন , আর দেখ , সকলই অতি উত্তম। …।”


যাইহোক , কিছু বিরল ও ব্যতিক্রম উল্লেখ করা আবশ্যক। কিছু মানুষ আছে যারা লিঙ্গ বা Gender সংক্রান্ত শারীরিক ত্রুটি অনুভব করে। সবচেয়ে সাধারণ যদিও এখনও অত্যন্ত বিরল—একটি আন্তঃলিঙ্গের অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তির পুরুষ ও মহিলার যৌন অঙ্গের মিশ্রণ রয়েছে। যৌন বিকাশের ব্যাধিযুক্ত লোকেদের জন্য ( DSD / Differences In Sex Development ) সাধারণত তাদের জেনেটিক লিঙ্গ নির্ধারণ করা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে জন্মগত ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব। কিন্তু এটি অবশ্যই একটি লিঙ্গ পরিবর্তন করার অপারেশন বা অস্ত্রোপচার নয় , তবে কেবল একটি শারীরিক সমস্যার প্রতিকার মাত্র।


নির্দিষ্ট ভাবে লিঙ্গ বা Gender বিকৃতি করা পাপ , কিন্তু যারা তাদের লিঙ্গ বা Gender এর পরিচয় নিয়ে লড়াই করছে তাদের কাছে বলার মত একটি উত্তর আছে। যারা লিঙ্গ বা Gender পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচারের কথা বিবেচনা করেন , তাদের জন্য প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে মুক্তির পথ রয়েছে। যারা কিছু ধরণের স্বাধীনতা বা সুখ খুঁজে পেতে লিঙ্গের বা Gender রের বিভাগগুলিকে পরিবর্তন করতে চান তারা পরিবর্তে ঈশ্বরের সাথে এক আত্মিক সম্পর্ক তৈরির মধ্যেমে সত্যিকারের স্বাধীনতা পেতে পারেন। যারা পাপপূর্ণ যৌন চর্চায় লিপ্ত হওয়ার জন্য তাদের লিঙ্গ বা Gender পরিবর্তন করতে চায় তারা অনুতপ্ত হতে পারে এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারে।


সাধু পৌল বলেছেন , “  অথবা তোমরা কি জান না যে , অধার্মিকেরা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না ? ভ্রান্ত হইও না ; যাহারা ব্যভিচারী কি প্রতিমাপূজক কি পারদারিক কি স্ত্রীবৎ আচারী কি পুঙ্গামী , কি চোর কি লোভী কি মাতাল কি কটূভাষী কি পরধনগ্রাহী , তাহারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না। আর তোমরা কেহ কেহ সেই প্রকার লোক ছিলে ; কিন্তু তোমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ও আমাদের ঈশ্বরের আত্মায় আপনাদিগকে ধৌত করিয়াছ , পবিত্রীকৃত হইয়াছ , ধার্মিক গণিত হইয়াছ।” ( ১ করিন্থীয় ৬ অধ্যায় : ৯ থেকে ১১ পদ)।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...