সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রভু যীশু কি কালো ছিলেন ? Did Jesus have dark skin ? bangla | What did Jesus really look like ?

 কিছু গোষ্ঠী আছে , যারা সাধারণত “ ব্ল্যাক হিব্রু ” আন্দোলনের কোনো না কোনো রূপের সাথে সম্পৃক্ত , যারা জোরালোভাবে তর্ক করে যে প্রভু যীশু ছিলেন কালো। যদিও এটি সরাসরি এই সত্যের বিরুদ্ধে যায় যে বাইবেল প্রভু যীশুর ইহুদিত্ব ঘোষণা করে , যার অর্থ সম্ভবত তাঁর হালকা থেকে গাঢ় বাদামী ত্বক ছিল , শেষ পর্যন্ত , আলোচনা বা যুক্তি শেষ হয়। এটা কি সত্যিই খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে প্রভু যীশু দেখতে কেমন ছিলেন বা তাঁর গায়ের রঙ কেমন ? কালো , হলুদ , বাদামী না সাদা ? যদিও এটি কারো কারো জন্য একটি বিতর্কিত বিষয় হতে পারে , তবে সত্যটি হল আমরা সত্যিই জানি না যে প্রভু যীশুর গায়ের রঙ কেমন ছিল। যদিও প্রভু যীশুর ইহুদি হওয়ার অগণিত উল্লেখ রয়েছে।


যিশাইয় ভাববাদীর পুস্তকে প্রভু যীশুর দৈহিক চেহারার সর্বোত্তম বর্ণনা দিয়েছেন : “ কারণ তিনি তাঁহার সম্মুখে চারার ন্যায় , এবং শুষ্ক ভূমিতে উৎপন্ন মূলের ন্যায় উঠিলেন ; তাঁহার এমন রূপ কি শোভা নাই যে , তাঁহার প্রতি দৃষ্টিপাত করি , এবং এমন আকৃতি নাই যে , তাঁহাকে ভালবাসি। ” ( যিশাইয় ৫৩ অধ্যায় : ২ পদ )। যদি প্রভু যীশুর গায়ের রঙ এবং বর্ণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হত , তাহলে ঈশ্বর তাঁর মুখো নিঃসৃত বাক্যের মাধ্যমে নিশ্চিত ভাবেই আমাদের কাছে তা প্রকাশ করতেন। প্রভু যীশু খ্রীষ্ট অন্য রঙের এই বিষয়ে অনুমান করা মানে বাইবেলে পাওয়া যায়নি এমন তথ্যের উপর অনুমান করা। এই ধরনের অনুমান ভিত্তিহীন এবং অলাভজনক , যা বিতর্কের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বাইবেল বলে এই সকল থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত। “ কিন্তু তুমি মূঢ়তার সকল বিতণ্ডা , বংশাবলি , বিবাদ এবং ব্যবস্থা বিষয়ক বাগ্‌যুদ্ধ হইতে দূরে থাক ; কেননা এই সকল নিষ্ফল ও অসার।” ( তীত ৩ অধ্যায় : ৯ পদ )।

সুতরাং , প্রভু যীশুর ক্ষেত্রে আমাদের কী নিয়ে চিন্তা করা উচিত ? সাধু পিতর আমাদের বলেন যে , “ কারণ যিনি নিজ গৌরবে ও সদ্‌গুণে আমাদিগকে আহ্বান করিয়াছেন , তাঁহার তত্ত্বজ্ঞান দ্বারা তাঁহার ঈশ্বরীয় শক্তি আমাদিগকে জীবন ও ভক্তি সম্বন্ধীয় সমস্ত বিষয় প্রদান করিয়াছে।” ( ২ পিতর ১ অধ্যায় : ৩ পদ )। অন্য ভাবে দেখতে গেলে , প্রভু যীশু খ্রীষ্ট আমাদের এই পৃথিবীতে এবং স্বর্গ উভয় ক্ষেত্রেই গৌরব এবং নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের জীবনের জন্য আহ্বান করেছেন। তাঁর মহিমার জন্য আমাদের পবিত্রতায় জীবনযাপন করতে হবে। এই বাক্যের মধ্যে দিয়ে এই বার্তাটি স্পষ্ট যে : এটি তাঁর মহিমা এবং মঙ্গলময়তা যা মানুষকে তাঁর মধ্যে জীবন ও ধার্মিকতা খোঁজার জন্য আকৃষ্ট করে। তিনি কেমন দেখতে বা তাঁর গায়ের রঙ কেমন এটি একেবারেই অনৈতিক বিষয়।


সাধু পৌল আমাদের আরও বলেন যে , “ ….. ঈশ্বর মুখাপেক্ষা করেন না ;  কিন্তু প্রত্যেক জাতির মধ্যে যে কেহ তাঁহাকে ভয় করে ও ধর্মাচরণ করে , সে তাঁহার গ্রাহ্য হয়।” ( প্রেরিত ১০ অধ্যায় : ৩৪ থেকে ৩৫ পদ )। প্রভু যীশু আমাদেরকে সমগ্র জগতের কাছে স্বর্গ রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ( মথি ২৮ অধ্যায় : ১৮ থেকে ২০ পদ )। তিনি আমাদের বলছেন যে কোনও সাংস্কৃতিক বা জাতি গত বাধা নেই , আমরা সবাই খ্রীষ্ট যীশুতে এক। সাধু পৌল গালাতীয় মণ্ডলীর উদ্দেশে লেখা তাঁর চিঠিতে বলেছেন : “ যিহূদী কি গ্রীক আর হইতে পারে না , দাস কি স্বাধীন আর হইতে পারে না , নর ও নারী আর হইতে পারে না , কেননা খ্রীষ্ট যীশুতে তোমরা সকলেই এক।” ( গালাতীয় ৩ অধ্যায় : ২৮ পদ )। আমাদের ত্রাণকর্তার গায়ের রঙ আমাদের সুসমাচার প্রচার করার উপর কোন প্রভাব ফেলে না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...