সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

The Most Powerful Bengali Good Friday Sermon Discovering the True Meaning of Sacrifice / Redemption.

 ১ম বাণী – ( লূক ২৩ অধ্যায় : ৩৪ পদ ) – “ পিতঃ, ইহাদিগকে ক্ষমা কর, কেননা ইহারা কি করিতেছে, তাহা জানে না।” যখন প্রভু যীশুকে ক্রুশে দেওয়া হয় তখন তিনি ক্রুশের উপর থেকে নিচের দিকে তাকালেন এবং এমন একটি দৃশ্য দেখলেন যা সত্যিই তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল। রোমীয় সৈন্যরা তাঁর পোশাকের জন্য লটারি করেছিল ( যোহন ১৯ অধ্যায় : ২৩ থেকে ২৪ পদ ) ; ক্রুশের দুই পাশে থাকা দুই দস্যু তাঁকে তিরস্কার করেছিল ( মথি ২৭ অধ্যায় : ৪৪ পদ ) ; ধর্মীয় নেতারা তাঁকে উপহাস করেছিল ( মথি ২৭ অধ্যায় : ৪১ থেকে ৪৩ পদ ) ; জনতা তাঁর নিন্দা করেছিল ( মথি ২৭ অধ্যায় : ৩৯ পদ ) ; তিনি পিতা কে ক্রুশে  থাকা দস্যু দের ক্ষমা করতে বলেছিলেন , যারা তাঁকে তিরস্কার করেছিল। তিনি সেই সকল সৈন্য দেরও ক্ষমা করতে বলেছিলেন যারা তাঁকে ক্রুশে দিয়েছিল , সারারাত অত্যাচার করেছিল , তাঁকে থুতু দিয়েছিল , কাটার মুকুট পরিয়ে দিয়েছিল এই সকলের জন্য প্রভু যীশু তাঁর পিতার কাছে প্রার্থনা করলেন যাতে পিতা ঈশ্বর সকলকে ক্ষমা করেন।


২য় বাণী – ( লূক ২৩ অধ্যায় : ৪৩ পদ ) – “ আমি তোমাকে সত্য বলিতেছি, অদ্যই তুমি পরমদেশে আমার সঙ্গে উপস্থিত হইবে।” এই বাক্যের মধ্যে দিয়ে এটা পরিষ্কার যে , প্রভু যীশু সেই দিনই তাঁকে নিয়ে পরম দেশে উপস্থিত হওয়ার প্রতিজ্ঞা করে সেই দস্যুটির বিশ্বাসের পুরস্কার দিয়েছিলেন। এই পরম দেশ হচ্ছে ঈশ্বরের বাসস্থান। আমাদের মনে রাখতে হবে যে অনুতাপ ও বিশ্বাসের ওপরই পরিত্রাণ নির্ভরশীল। এখানে লক্ষণীয় বিষয়টি হল , এই দস্যুটি কখনো বাপ্তিস্ম নেয়নি , কখনো প্রভুর ভোজ ও গ্রহণ করেনি। তিনি শত্রুতা পূর্ণ জনতাঁর উপস্থিতিতে এবং শাসকদের ও সৈন্যদের অপমান এবং বিদ্রুপের মধ্যে নির্ভীকভাবে তাঁর বিশ্বাস প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল , সে যে কোন প্রচলিত রীতি ছাড়াই পরিত্রান লাভ করেছিল। এটা আরেকটি প্রমাণ যে , পরিত্রান উত্তম কার্যের উপর নির্ভর করে না। পাপ এবং লজ্জার জীবন থেকে অনুতপ্ত দস্যুটি সরাসরি স্বর্গে সুখের জীবনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল। আবার এটাও মন্তব্য করা যায় যে , পরিত্রান সার্বজনীন নয়। ক্রুশের উপরে দুইজন দস্যু ছিল ; তাদের মধ্যে কেবল মাত্র একজনই পরিত্রান পেয়েছিল। সবশেষে এটা লক্ষ্য করতে হবে যে , মৃত্যুর ঊর্ধ্বে যে আনন্দ নিহিত থাকে তা খ্রীষ্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে গঠিত হয়। যীশু খ্রীষ্টের পার্শ্ববর্তী একজন ব্যক্তি স্বর্গে যেতে পারে এবং আর একজন নরকে যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হল আমরা ক্রুশের কোন দিকে দাঁড়িয়ে আছি ?

৩য় বাণী ( যোহন ১৯ অধ্যায় : ২৬ থেকে ২৭ পদ ) – “ যীশু মাতাকে দেখিয়া, এবং যাঁহাকে প্রেম করিতেন, সেই শিষ্য নিকটে দাঁড়াইয়া আছেন দেখিয়া, মাতাকে কহিলেন, হে নারি, ঐ দেখ, তোমার পুত্র। পরে তিনি সেই শিষ্যকে কহিলেন, ঐ দেখ, তোমার মাতা। তাহাতে সেই দণ্ড অবধি ঐ শিষ্য তাঁহাকে আপন গৃহে লইয়া গেলেন।” ঈশ্বর সত্যিই মহান , এবং পুত্র পিতার মতোই মহান। তিনি পৃথিবীতে থাকাকালীন একজন সন্তানের কি কর্তব্য তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন । এই বাক্যের মধ্যে দিয়ে তিনি গর্ভ ধারিনি মায়ের প্রতি সন্তানদের দায়িত্বের বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছে। নিদারুণ মৃত্যু যন্ত্রণার মধ্যেও প্রভু যীশু তাঁর মায়ের ভালো-মন্দের বা নিরাপত্তার বিষয়টি ভুলে যাননি। তিনি যে শিষ্যকে ভালবাসতেন অর্থাৎ যোহন , তাঁর উপরেই তাঁর মায়ের দায়িত্বটি দিয়েছিলেন। এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি যে , আমাদের পরিবারের সদস্যদের দেখা বা তাদের তত্ত্বাবধান করা আমাদের এমন একটি কর্তব্য , যা মৃত্যু পর্যন্ত পালন করতে হবে বিশ্বাসের সাথে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...