সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গুড ফ্রাইডে বা পূর্ণ শুক্রবার কি ? What is Good Friday ?

 প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে খ্রীষ্টধর্মের মানুষরা ইস্টারের আগের শুক্রবারে গুড ফ্রাইডে পালন করে থাকেন। এই দিনটি প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশারোহণ-কে চিহ্নিত করে। অনেক খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা এই দিনটিতে উপবাস সহকারে প্রার্থনা করে থাকেন। এই দিনটি খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। অনেকে এই দিনটিকে হোলি ফ্রাইডে বা ব্ল্যাক ফ্রাইডেও বলে থাকেন।

বাইবেলে এমন কোনো নির্দিষ্ট কোন দিনের উল্লাখে নেই , যেই দিন আমরা খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা তাঁর মৃত দিন ও জন্ম দিন পালন করি। ( রোমীয় ১৪ অধ্যায় : 5 পদ ) আমাদের বলে যে , “ একজন এক দিন হইতে অন্য দিন অধিক মান্য করে; আর একজন সকল দিনকেই সমানরূপে মান্য করে; প্রত্যেক ব্যক্তি আপন আপন মনে সুনিশ্চিত হউক।” বাইবেল আমাদের এই বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়। একটি নির্দিষ্ট দিনে খ্রীষ্টের মৃত্যু স্মরণ করার পরিবর্তে, বাইবেল আমাদেরকে প্রভুর ভোজ পালনের মাধ্যমে খ্রীষ্টের মৃত্যুকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করার নির্দেশ দেয়। যা আমরা ( ১ করিন্থীয় ১১ অধ্যায় : ২৬ পদে ) দেখতে পাই। “ কারণ যত বার তোমরা এই রুটি ভোজন কর, এবং এই পানপাত্রে পান কর, তত বার প্রভুর মৃত্যু প্রচার করিয়া থাক, যে পর্যন্ত তিনি না আইসেন।”

অনেক খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা গুড ফ্রাইডে দিনটা কে “ভাল দিন” হিসাবে উল্লেখ করে থাকেন। ইহুদি জাতির কিছু শিক্ষা গুরু অর্থাৎ সদ্দূকি এবং রোমীয় সাম্রাজ্যের রাজা ও সৈন্যরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সাথে যে ব্যবহার করেছিল তা অবশ্যই ভাল ছিল না, যা ( মথি ২৬ থেকে ২৭ অধ্যায়ে ) পাওয়া যায়। সেই কারণেই খ্রীষ্টের মৃত্যু সকল মানব জাতির জন্য খুবই ভাল ! কারণ ঈশ্বরের বাক্য বলে , “ কিন্তু ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁহার নিজের প্রেম প্রদর্শন করিতেছেন; কারণ আমরা যখন পাপী ছিলাম, তখনও খ্রীষ্ট আমাদের নিমিত্ত প্রাণ দিলেন।” ( রোমীয় ৫ অধ্যায় : ৮ পদ ) আবার ঈশ্বরের বাক্য এ ও বলে যে , “ কারণ খ্রীষ্টও একবার পাপসমূহের জন্য দুঃখভোগ করিয়াছিলেন-সেই ধার্মিক ব্যক্তি অধার্মিকদের নিমিত্ত- যেন আমাদিগকে ঈশ্বরের নিকট লইয়া যান। তিনি মাংসে হত, কিন্তু আত্মায় জীবিত হইলেন।”( ১ পিতর ৩ অধ্যায় : ১৮ পদ )।

আমাদের সমস্ত মণ্ডলী ও উপাসনালয় গুলিতে গুড ফ্রাইডে বা পূর্ণ শুক্রবার উদযাপন করা হয়। সাধারণত এই দিনটি খ্রীষ্টের মৃত্যুকে গভীর ভাবে স্মরণ করা হয়। আমাদের সকলের জন্য প্রভু যীশু খ্রীষ্ট যে নিদারুন দুঃখ ও কষ্ট ভোগ করেছেন তা কেন্দ্র করে সকলের উদ্দেশে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। অনেক খ্রীষ্টানরা গুড ফ্রাইডে উদযাপন করেন না কিন্তু সেই দিনের ঘটনা গুলি আমাদের চিরকাল মনে রাখা উচিত। সুতরাং এই কারণেই এই দিনটি অবশ্যই আমাদের পালন করা উচিত।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...