মদ খাওয়া সম্পর্কে বাইবেলে ( লেবীয় পুস্তক ১০ অধ্যায় : ৯ পদ ও বিচারকর্তৃগণ পুস্তক ১৩ অধ্যায় : ৪ পদে ) অনেক কিছুই বলা হয়েছে। সে যাইহোক , শাস্ত্র খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের কোন নেশা বা মদ খাওয়ার ব্যাপারে তেমন কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। প্রকৃতপক্ষে , বাইবেলের কোন কোন অংশে মদ খাওয়া সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ব্যাখ্যা দিয়েছে। ( উপদেশক ৯ অধ্যায় : ৭ পদে ) উল্লেখ আছে , “ তুমি যাও , আনন্দপূর্বক তোমার খাদ্য ভোজন কর , হৃষ্টচিত্তে তোমার দ্রাক্ষারস পান কর , কেননা ঈশ্বর পূর্ব কাল হইতে তোমার কর্ম সকল গ্রাহ্য করিয়া আসিতেছেন।” ( গীতসংহিতা ১০৪ অধ্যায় : ১৪ থেকে ১৫ পদে ) বলেছে যে , ঈশ্বর মদ অর্থাৎ আংগুর-রস দিয়েছেন যেন তা “মানুষের মনকে খুশী করে।”
মদ খাওয়ার বিষয়ে ঈশ্বর বিশ্বাসীদের আদেশ দিয়েছেন যেন তারা মাতাল না হয় , “ আর দ্রাক্ষারসে মত্ত হইও না , তাহাতে নষ্টামি
আছে ” ( ইফিষীয় ৫ অধ্যায় : ১৮ পদ )। ( হিতোপদেশ ২৩ অধ্যায় : ২৯ থেকে ৩৫ পদে
) মাতাল হওয়া ও তার পরিণতিকে বাইবেল দোষ বলে গণ্য করে থাকে। খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের বলা
হয়েছে , তারা যেন তাদের দেহকে কোন কিছুর অধীনে “প্রভুত্ব” করতে না দেয় ( ১ করিন্থীয়
৬ অধ্যায় : ১২ পদ )। বেশী করে মদ খাওয়ার ফলে তা নিঃসন্দেহে নেশায় আসক্ত হয়। শাস্ত্র
এ বিষয়ে নিষেধ করে দিয়েছে যেন একজন খ্রীষ্ট বিশ্বাসী এমন কিছু না করে যাতে অন্য কোন
খ্রীষ্ট বিশ্বাসী তাতে বিঘ্ন পায় , অথবা তাদের বিবেকের বিরুদ্ধে পাপ করতে প্ররোচিত
হয় ( ১ করিন্থীয় ৮ অধ্যায় : ৯ থেকে ১৩ পদ )।
প্রভু যীশু জলকে আংগুর-রসে পরিণত করেছিলেন। ( মথি ২৬ অধ্যায় : ২৯ পদে ) দেখা যায় ,
প্রভু যীশু কোন কোন সময় আংগুর-রস খেয়েছেন। নতুন নিয়মের সময়ে পানীয় জল খুব একটা পরিষ্কার
পাওয়া যেত না। আধুনিক যুগের পরিচ্ছন্নতা ছাড়া , পানীয় জলে সাধারণত সব ধরণের ছত্রাক
, জীবাণু ও নানারকম দুষিত পদার্থ থাকে। বর্তমান
সময়ে বিশ্বের অনেক দেশগুলোতে এখনও এমনটা দেখা যায়। যার ফলে , লোকেরা প্রায়ই মদ বা আংগুর-রস
খায় , কারণ তা দুষিত হবার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। ( ১ তীমথিয় ৫ অধ্যায় : ২৩ পদে ) সাধু
পৌল তীমিথিয়কে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন , যেন সে জল খাওয়া বন্ধ করে দেয় ( তার পেটের সমস্যা
হতে পারে বলে ), কিন্তু অল্প অল্প আংগুর-রস খায়। তখনকার দিনে , আংগুর-রস পচিয়ে মদ তৈরী
করা হোত , তবে তা এখনকার দিনের মত কড়া নয়। এটা যে একেবারে আংগুর-রস ছিল তা বলা ভুল
; আবার এটাও বলা ঠিক নয় যে , তা ছিল আজকের দিনে ব্যবহৃত হুবহু মদের মত। তাছাড়া , শাস্ত্র
কিন্তু নেশা হয় এরকম পানিয় খেতে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের নিষেধ করে নাই। শুধুমাত্র কোনরকম
নেশাযুক্ত পানীয় পাপের পথে নিয়ে যেতে পারে না। ( ইফিষীয় ৫ অধ্যায় : ১৮ পদ ) অনুযায়ী
মাতাল বা নেশায় আসক্ত হওয়া থেকে একজন বিশ্বাসীকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে ।
সামান্য পরিমাণে মদ জাতীয় পানীয় কোন ক্ষতিকারক বা নেশায় আসক্ত করে না। সত্যি বলতে কি
, কোন কোন ডাক্তার স্বাস্থ্যগত , বিশেষত হার্টের কারণে অল্প পরিমাণে মদ অর্থাৎ রেড
ওয়াইন খেতে বলেন। অল্প পরিমানে মদ খাওয়া খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের জন্য স্বাধীনতা বলা যেতে
পারে , কিন্তু মাতাল হওয়া বা নেশায় আসক্ত হওয়া নিশ্চিত ভাবে পাপ। তবুও , যেহেতু বাইবেল
মদ খাওয়া ও তার পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে , তাই অতিরিক্ত মদ খেলে সহজেই প্রলোভিত
হবার সম্ভাবনা থাকে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে মন্দ কাজ করা বা অন্যদের জন্য বাধাজনক কাজ
করার সম্ভাবনা থাকে ; তাই স্বাভাবিকভাবে মদ খাওয়া থেকে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের অবশ্যই
দূরে থাকাই সবচেয়ে ভাল।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন