সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কুমারীর গর্ভে যীশুর জন্ম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ?

 

কুমারী গর্ভে জন্মের মতবাদটি শিক্ষা দেয় যে,যীশু খ্রীষ্ট একজন কুমারীর থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ,মরিয়ম যখন যীশুকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন,তখন তিনি কোনভাবেই যৌন মিলন করেননি। তাই,যীশুর জন্ম সত্যিই অলৌকিক ছিল। যীশুর জন্ম এক কুমারী গর্ভে,এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ। যা আমরা বাইবেলে স্পষ্টভাবে ( লূক ১ অধ্যায় : ২৭ পদে )। আসুন দেখি শাস্ত্র কীভাবে কুমারীর গর্ভে প্রভু যীশুর জন্মের আশ্চর্য জনক ঘটনার বর্ণনা দেয়। বার্তা বহনকারী স্বর্গদূত গ্যাব্রিয়েল কুমারী মরিয়মকে এই খবর জানাতে এসেছিলেন যে তিনি এক মুক্তি দাতা,ত্রাণকর্তার মা হবেন। মরিয়ম জিজ্ঞেস করে," এটা কেমন করে হবে,আমি একজন কুমারী ? " ( লূক ১ অধ্যায় : ৩৪ পদ )। স্বর্গদূত গ্যাব্রিয়েলের উত্তরটি এক অলৌকিক ঘটনাকে নির্দেশ করে : “ দূত উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন,পবিত্র আত্মা তোমার উপরে আসিবেন,এবং পরাৎপরের শক্তি তোমার উপরে ছায়া করিবে;এই কারণ যে পবিত্র সন্তান জন্মিবেন,তাঁহাকে ঈশ্বরের পুত্র বলা যাইবে।” ( লূক ১ অধ্যায় : ৩৫ পদ )। স্বর্গদূত কোন মানুষের ক্রিয়াকলাপের দিকে নয় বরং যীশু খ্রীষ্টের জন্মের পদ্ধতি কি হবে তাই তিনি প্রকাশ করলেন। ঈশ্বরের শক্তি ও পবিত্র আত্মার দারাই জন্ম হয় প্রভু যীশু খ্রীষ্টের। এই কারণেই যীশু খ্রীষ্টকে ঈশ্বরের পুত্র বলা হয়। স্বর্গদূত গ্যাব্রিয়েল পরে যোষেফের কাছে এই সংবাদ পুনরায় জানান,যাতে যোষেফ মরিয়মকে ত্যাগ না : “ তিনি এই সকল ভাবিতেছেন,এমন সময় দেখ,প্রভুর এক দূত স্বপ্নে তাঁহাকে দর্শন দিয়া কহিলেন,যোষেফ,দায়ূদ-সন্তান,তোমার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রহণ করিতে ভয় করিও না,কেননা তাঁহার গর্ভে যাহা জন্মিয়াছে,তাহা পবিত্র আত্মা হইতে হইয়াছে।” ( মথি ১ অধ্যায় : ২০ পদ)।



অবশ্যই যোষেফের এই বিষয়টি জানবার প্রয়োজন ছিল কারণ, “ তাঁহার মাতা মরিয়ম যোষেফের প্রতি বাগ্‌দত্তা হইলে তাঁহাদের সহবাসের পূর্বে জানা গেল,তাঁহার গর্ভ হইয়াছে ” ( মথি ১ অধ্যায় : ১৮ পদ )। স্বর্গদূতের কাছে থেকে এই বিষয়টি শুনবার পরেই,যোষেফ মরিয়মকে তার স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে অগ্রসর হন। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যীশু খ্রীষ্টের জন্ম না হওয়া পর্যন্ত তিনি কুমারী ছিলেন : “ আর যে পর্যন্ত ইনি পুত্র প্রসব না করিলেন,সেই পর্যন্ত যোষেফ তাঁহার পরিচয় লইলেন না,…..।” ( মথি ১ অধ্যায় : ২৫ পদ )। বাইবেলে সুসমাচার লেখকরা কুমারী গর্ভে প্রভু যীশুর জন্মের এই মতবাদটি বজায় রাখার জন্য তাদের লেখার ও কথার ক্ষেত্রে খুবই বিচক্ষণ ছিলেন। লূক লিখিত সুসমাচারে প্রভু যীশুর বংশতালিকায়,লূক উল্লেখ করেছেন যে যীশু ছিলেন “যোসেফের পুত্র যেমন ধরা হইত,যোষেফের পুত্র-ইনি …..” ( লূক ৩ অধ্যায় : ২৩ পদ )|

আবার মথি লিখিত সুসমাচারে মথি খুবই সাবধানে সাথে যোষেফকে যীশুর পিতা বলা এড়িয়ে যান;এর পরিবর্তে তিনি বলেন“যাকোবের পুত্র যোষেফ;ইনি মরিয়মের স্বামী;এই মরিয়মের গর্ভে যীশুর জন্ম হয়,যাঁহাকে খ্রীষ্ট [ অভিষিক্ত ] বলে।” ( মথি ১ অধ্যায় : ১৬ পদ )। বাইবেলে পুরাতন নিয়মে যীশু খ্রীষ্টের জন্ম এক কুমারী গর্ভে হবে এই বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল : “ অতএব প্রভু আপনি তোমাদিগকে এক চিহ্ন দিবেন;দেখ,এক কন্যা গর্ভবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিবে,ও তাঁহার নাম ইম্মানূয়েল [ আমাদের সহিত ঈশ্বর ] রাখিবে। ” ( যিশাইয় ৭ অধ্যায় : ১৪ পদ )। “ এই সকল ঘটিল,যেন ভাববাদী দ্বারা কথিত প্রভুর এই বাক্য পূর্ণ হয়।” ( মথি ১ অধ্যায় : ২২ পদে ) উদ্ধৃত করা হয়েছে। ( আদিপুস্তক ৩ অধ্যায় : ১৫ পদে ) কুমারী গর্ভে এক সন্তান জন্মানোর একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিতও রয়েছে,যা বলে যে নারীর বংশ থেকে আগত এক সন্তান সাপকে ধ্বংস করবে৷ অর্থাৎ শয়তানের মস্তক চূর্ণ করবে। বাইবেল ঈশ্বরের পুত্রের পূর্ব-অস্তিত্বের বিষয়ে শিক্ষা দেয়। ( গালাতীয় ৪ অধ্যায় : ৪ পদে ) খ্রীষ্টের পূর্ব-অস্তিত্ব সম্পর্কে এবং কুমারী গর্ভে জন্মের বিষয়ে শিক্ষা দেয়: “ কিন্তু কাল সম্পূর্ণ হইলে ঈশ্বর আপনার নিকট হইতে আপন পুত্রকে প্রেরণ করিলেন;তিনি স্ত্রীজাত,ব্যবস্থার অধীনে জাত হইলেন,।”

কুমারীর গর্ভে জন্ম গুরুত্বপূর্ণ ! কারণ এটিই সেই মাধ্যম,যার দ্বারা “ঈশ্বরের বাক্য মাংসে মূর্তিমান হয়েছিল” ( যোহন ১ অধ্যায় : ১৪ পদ )। মূর্তিমান হয়েছিল বলতে বুঝায় যখন ঈশ্বরের এক মাত্র পুত্র মানুষের মাংস গ্রহণ করেন;তাঁর ঐশ্বরিক প্রকৃতির কোনোটিই না হারিয়ে,তিনি একটি মানব প্রকৃতি যোগ করেছেন। সেই অলৌকিক,ইতিহাস-পরিবর্তনকারী ঘটনাটি ঘটেছিল কুমারী মরিয়মের গর্ভে। কুমারী গর্ভে প্রভু যীশুর জন্ম ,আত্মা এবং উপাদান অর্থাৎ মরিয়মের গর্ভ উভয়ই জড়িত ছিল। ঠিক যেমন ,সৃষ্টির সময়,“ পৃথিবী ঘোর ও শূন্য ছিল,এবং অন্ধকার জলধির উপরে ছিল।” ( আদিপুস্তক ১ অধ্যায় : ২ পদ )। ঠিক একই ভাবে মরিয়মের গর্ভ খালি ও অনুর্বর ছিল। ঠিক যেমন,সৃষ্টির সময়,“ঈশ্বরের আত্মা জলের উপরে অবস্থিতি করিতেছিলেন।” ( আদিপুস্তক ১ অধ্যায় : ২ পদ ), ঈশ্বরের আত্মা মরিয়মের উপর এসেছিল ( লূক ১ অধ্যায় : ৩৫ পদ )। একমাত্র ঈশ্বরই শূন্য থেকে কিছু করতে পারেন;সৃষ্টি , অবতার,এবং কুমারী গর্ভে জন্মের অলৌকিক কাজগুলি কেবল ঈশ্বরই করতে পারেন৷ কুমারীর গর্ভে জন্ম এই বিষয়টি প্রমান করে যে যীশু খ্রীষ্ট সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বর এবং একই সাথে সম্পূর্ণ মানুষ। তার শারীরিক শরীর তিনি মরিয়মের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর চিরন্তন,পবিত্র প্রকৃতি সমস্ত অনন্তকাল থেকে তাঁর কাছেই ছিল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খ্রীষ্টান নিপীড়নের রহস্য; বাইবেলের বাণী ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা / The Mystery of Christian Persecution; The Word of the Bible and God's Plan

  কল্পনা করুন , এক গভীর রাত। একটি ছোট্ট ঘরে কয়েকজন মানুষ ভয়ে জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে একটি বই — বাইবেল। তাদের প্রার্থনা একটি গোপন অপরাধ। কেন ? কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের জীবনের জন্য হুমকি। এই ঘটনাটা কি শুধুই কল্পনা ? না , এটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ই ঘটে চলেছে । আজ আমরা জানব , কেন খ্রীষ্টানরা নির্যাতিত হচ্ছেন , এবং তারই পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা কীভাবে এই অন্ধকারকে দূর করতে পারে। এই ভিডিও শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকুন , কারণ এই ভিডিওটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । আজ আমরা একটি বেদনাদায়ক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটি হোল — “ খ্রীষ্টান নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। ” বিশ্বের কয়েক কোটি খ্রীষ্টান তাদের বিশ্বাসের জন্য কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু কেন ? কারা এই নির্যাতনের পেছনে ? এবং বাইবেল আমাদের এই কষ্টের মাঝে কী শিক্ষা দেয় ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা ইতিহাস , বর্তমান , এবং ঈশ্বরের বাণীর মধ্য দিয়ে যাত্রা করব । বাইবেল বলে “ ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে , কারণ স্বর্গ-রাজ্য তাহাদেরই । ” মথি ৫ অধ্যায় : ১০ পদ । এই বাক্যটি প্রভু ...

শিথিলতা: ঈশ্বরের বাক্যের সাথে কাজের অমিল এবং ধর্মগ্রন্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ। Laxity: The inconsistency of actions with the Word of God and the danger of deviating from the Scriptures.

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা , আমাদের আগের লেখা গুলোতে আমরা উল্লেখ করেছি , শিথিলতা এমন একটি আত্মিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিকতার প্রতি দৃঢ়তার ক্ষতি করে। এটি এমন এক নিঃশব্দ বিপদ , যা আমাদের আত্মিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে , শিথিলতা কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয় ; এটি মণ্ডলীতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে । বাইবেলের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় , ঈশ্বর মানব জাতিকে তাঁর বাক্য অনুসারে চলতে বহুবার সতর্ক করেছেন। উদাহরণস্বরূপ , আদম ও হবার ঘটনা টি দেখা যেতে পারে । ঈশ্বর তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেও না।” কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই আদেশ লঙ্ঘন করেছিল । এর ফলাফল কী হলো ? তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক নষ্ট হলো । এই ঘটনার মতোই আমাদের জীবনে শিথিলতা আসে , যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে অগ্রাহ্য করি বা নিজেদের সুবিধামতো তার ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। মথি ৭ অধ্যায় : ২১ থেকে ২৩ পদে প্রভু যীশু বলেছেন , “যাহারা আমাকে হে প্রভু , হে প্রভু বলে , তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ ক...

বিশ্বস্ততা বাইবেলের শিক্ষা ও মণ্ডলীর দৃষ্টান্ত | ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, অবাধ্যতা, লোভ ও অহংকার | খ্রীষ্টীয় উপদেশ

  নমস্কার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা খ্রীষ্টীয় জীবনের এক অন্যতম ভিত্তি মূল । এটি এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস , যা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্যে প্রতিফলিত হয়। বাইবেলের বিভিন্নও জায়গায় আমরা বারবার দেখতে পাই যে, আদম ও হবার পাপের পতন থেকে শুরু করে ইস্রায়েল জাতির ভ্রমণ পর্যন্ত , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাবই মানবজাতির সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। বিশ্বস্ততার সংজ্ঞা বাইবেলে অত্যন্ত স্পষ্ট : “ আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান , অদৃশ্য বিষয়ের প্র্রমাণপ্রাপ্তি ” ( ইব্রীয় ১১ অধ্যায় : ১ পদ ) । আদিপুস্তক ২২ অধ্যায় : ১ থেকে ১৮ পদের ঘটনাটি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ , যেখানে আমরা দেখি কিভাবে আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন । এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে , ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আব্রাহাম ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন । কিন্তু আমাদের জীবনে , এবং কখনো কখনো মণ্ডলীতেও , আমরা দেখতে পাই অবাধ্যতা , ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস , জাগতিক প্রলোভন এবং অহংকারের মতো বিষয়গুলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব তৈরি করে। এখন প্রশ্ন হলো , মণ্ড...